Banner 468x60 for

শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ইয়ারবাড কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বলছে বিজ্ঞান

ইয়ারবাড কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বলছে বিজ্ঞান

ইয়ারবাড কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বলছে বিজ্ঞান
প্রায় সবাই শুনতে ভালোবাসেন। কাজের ফাঁকে, অবসরে কিংবা ঘরে একান্ত সময় কাটাতে গান শোনা অনেকেরই প্রিয় অভ্যাস। গবেষণা বলছে, সঙ্গীত শুনলে ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার্সের মতো মস্তিষ্কের জটিল রোগ প্রতিরোধে সাহায্য হতে পারে। তাই গান এক প্রকার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, মস্তিষ্কের ক্যানসারের সঙ্গে ইয়ারবাড বা হেডফোনের সংযোগ রয়েছে। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

তবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, মস্তিষ্কের কাছাকাছি এমন কোনো যন্ত্র রাখা উচিত নয় যার সঙ্গে রেডিয়েশনের সম্পর্ক আছে। ব্লু টুথ ইয়ারবাড বা অনুরূপ ডিভাইস থেকে উচ্চমাত্রার ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (ইএমএফ) নির্গত হয়। অনেক মানুষের আতঙ্কের কারণও এখানেই।

মস্তিষ্কের দিক থেকে ইয়ারবাডকে একটি মিনি মাইক্রোওয়েভ হিসেবে ভাবা যেতে পারে। এটি মোবাইল ফোনের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেশি রেডিয়েশন সৃষ্টি করে। তবে, ইয়ারবাড বা হেডসেটের ব্যবহার ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্ক এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

ইএমএফ বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড কী-
ইএমএফ বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড হল সেই শক্তি যা যেকোনো বৈদ্যুতিক ডিভাইজের চারপাশে তৈরি হয়। এর দুটি ধরন আছে। 

নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন: কম ফ্রিকোয়েন্সির, সাধারণত ক্ষতিকর নয়। মোবাইল, ব্লুটুথ ডিভাইস, ওয়াই-ফাই রাউটার ইত্যাদি থেকে বের হয়। এটি এতটাই দুর্বল যে শরীরের কোষে থাকা শক্তভাবে বাঁধা ইলেকট্রন আলাদা করতে পারে না, তাই শরীরে আয়নাইজেশন হয় না। ফলে ক্ষতিও হয় না।

আয়নাইজিং রেডিয়েশন: শক্তিশালী, যেমন এক্স-রে, গামা-রে। কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, গত দুই দশকে ব্লু টুথ ডিভাইস ও মোবাইল ফোনের স্বাস্থ্য প্রভাব নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। তবে এখনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এগুলো ব্যবহার করলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।

আমেরিকান জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট-এর কিছু গবেষণায়, ইয়ারবাড বা মোবাইলের সঙ্গে মস্তিষ্কের টিউমারের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। তবে এই গবেষণাগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের সঙ্গে সরাসরি ক্যানসারের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে পরিমাণ রেডিয়েশন এই ডিভাইসগুলো থেকে নির্গত হয়, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানের অনেক নিচে থাকে। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এগুলো নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া যায়।

যা খেয়াল রাখবেন-
১. ইয়ারবাড ডিভাইস বেশি সময় ধরে না ব্যবহার করা

২. মস্তিষ্কের খুব কাছে ডিভাইস রাখা এড়িয়ে চলা

৩. শিশু বা কিশোরদের ব্যবহারে সতর্ক থাকা

গান শোনা উপভোগ করুন, কিন্তু সাবধানতার সঙ্গে। সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা।

এআই ওভারভিউ সার্চে আস্থা ফেরাতে গুগলের ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’

এআই ওভারভিউ সার্চে আস্থা ফেরাতে গুগলের ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’

এআই ওভারভিউ সার্চে আস্থা ফেরাতে গুগলের ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’
গুগল সার্চে এখন এআই দিয়ে তৈরি সারাংশ বা প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর দেখানো হয়, যাকে বলা হচ্ছে ‘এআই ওভারভিউ’। সার্চ জায়ান্ট গুগলের দাবি, এই সুবিধার ফলে ব্যবহারকারীর সময় বাঁচবে। তবে এর বিপরীতে বারবারই অভিযোগ উঠেছে- এআই ওভারভিউ অনেক সময় ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখাচ্ছে।

এআইয়ের ভুল তথ্য দেওয়ার আশঙ্কা কিন্তু নতুন নয়। ২০১৯ সালের শুরুতেই মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে পাঠকদের সতর্ক করেছিল যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ভুয়া খবর লিখতে শিখে গেছে। ওই প্রতিবেদনে আলোচিত টুলগুলোর একটি ছিল ‘জিপিটি-২’, যা বর্তমানের যুগান্তকারী প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটি-এরই পূর্বসূরি।

বর্তমানে এআই সরাসরি গুগল সার্চ অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে গেছে। এখন গুগলে কিছু খুঁজলে সার্চ পেইজের একেবারে উপরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘এআই ওভারভিউ’ দেখা যায়, যেখানে বিভিন্ন উৎস থেকে নেওয়া তথ্যের সংক্ষিপ্ত সারাংশ তুলে ধরা হয়।

তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ার জানিয়েছে, অনেক ওয়েবসাইট ‘কনটেন্ট মিল’-এর মতো পাইকারি হারে এআই দিয়ে নিবন্ধ তৈরি করছে, যা ভুল ও নিম্নমানের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই সমস্যার সমাধানে গুগল নতুন একটি ফিচার এনেছে, যার নাম ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’। ২০২৫ সালের অগাস্টে চালু হওয়া এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের তথ্য খোঁজার সময় নিজের পছন্দের ওয়েবসাইট বা সংবাদমাধ্যম বেছে নিতে পারবেন।

যেভাবে সেট আপ করবেন ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’

১. গুগল সার্চে গিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় বিষয়টি লিখে সার্চ করুন।

২. সার্চ রেজাল্ট আসার পর নিচে স্ক্রল করতে থাকুন, যতক্ষণ না ‘টপ স্টোরিজ’ সেকশনটি দেখতে পান। ওই লেখাটির পাশে একটি তারকা (*) আইকন দেখা যাবে। সেখানে ক্লিক বা ট্যাপ করুন।

৩. এরপর একটি পপ-আপ উইন্ডো খুলবে। সেখানে আপনার পছন্দের সংবাদমাধ্যম বা ওয়েবসাইটের নাম লিখুন। পছন্দের নামগুলো তালিকায় যোগ হলে ‘রিলোড রেজাল্টস’ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর থেকে গুগলে কোনো বিষয়ে তথ্য খুঁজলে সার্চ ইঞ্জিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার পছন্দের ওয়েবসাইটগুলো থেকে পাওয়া তথ্যকে সবার আগে গুরুত্ব দেবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে ডেটা সেন্টার খাতে বিশাল বিনিয়োগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে ডেটা সেন্টার খাতে বিশাল বিনিয়োগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে ডেটা সেন্টার খাতে বিশাল বিনিয়োগ
বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার খাত দ্রুত বড় হচ্ছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বর্তমানে এই সক্ষমতা ১০৩ গিগাওয়াট হলেও ২০৩০ সালে তা বেড়ে প্রায় ২০০ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে।

 আন্তর্জাতিক সম্পত্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জেএলএল-এর ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ডেটা সেন্টার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই বড় পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকা শক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এআই প্রযুক্তি চালাতে সাধারণ ডেটা সেন্টারের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণ ডেটা সেন্টারের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এ কারণে এসব কেন্দ্র ভাড়ার ক্ষেত্রেও বেশি মূল্য পাচ্ছে।

জেএলএল জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে মোট বিনিয়োগ লাগতে পারে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রিয়েল এস্টেট খাতে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ঋণ অর্থায়ন (ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ) হতে পারে প্রায় ৮৭০ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটি একে অবকাঠামো খাতে একটি বড় বিনিয়োগ চক্র বলে উল্লেখ করেছে।

উত্তর আমেরিকায় বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ ডেটা সেন্টার নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে প্রায় ১৬ গিগাওয়াট নতুন জায়গা তৈরি হচ্ছে। তবে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে অনেক ক্ষেত্রে চার বছরের বেশি সময় লাগছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পথ খুঁজছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের মোট সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশই ব্যবহৃত হবে এআই কাজের জন্য। বর্তমানে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালে এআই ব্যবহারে একটি বড় পরিবর্তন আসবে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে, আমেরিকা অঞ্চল বিশ্বে সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার বাজার হিসেবেই থাকবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হবে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায়ও নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।

সিইএস ২০২৬-এ এআই প্রযুক্তির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল লেনোভো

সিইএস ২০২৬-এ এআই প্রযুক্তির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল লেনোভো

সিইএস ২০২৬-এ এআই প্রযুক্তির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল লেনোভো
বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রদর্শনী সিইএস ২০২৬-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে লেনোভো। এই আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি একদিকে নতুন এআই চশমার ধারণা তুলে ধরেছে, অন্যদিকে এনভিডিয়ার সঙ্গে বড় আকারের ক্লাউড অবকাঠামো অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে।

৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে স্পিয়ার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মূল বক্তৃতায় লেনোভোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউয়ানছিং ইয়াং এবং এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং যৌথভাবে ‘লেনোভো এআই ক্লাউড গিগাফ্যাক্টরি’ কর্মসূচি উন্মোচন করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এআই ক্লাউড সেবা প্রদানকারীদের দ্রুত বড় পরিসরে অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করা। এতে এনভিডিয়ার ব্ল্যাকওয়েল আলট্রা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। লেনোভো দেবে তাদের নেপচুন লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি (তরল শীতলীকরণ ব্যবস্থা) ও বৈশ্বিক উৎপাদন সক্ষমতা। ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবহারযোগ্য এআই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

ভোক্তাপর্যায়ের পণ্যের দিকেও নজর দিয়েছে লেনোভো। তারা ‘এআই গ্লাসেস কনসেপ্ট’ নামে হালকা স্মার্ট চশমা দেখিয়েছে, যার ওজন মাত্র ৪৫ গ্রাম। এই চশমা স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের সঙ্গে তারবিহীনভাবে যুক্ত হয়। এতে রয়েছে লাইভ অনুবাদ, ছবি শনাক্তকরণ, হাত ছাড়াই কল করা এবং গান শোনার সুবিধা। একবার চার্জে এটি প্রায় আট ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে। চশমাটি চালিত হবে লেনোভোর নতুন এআই সহকারী ‘কিরা’ দ্বারা।

এ ছাড়া লেনোভো জানিয়েছে, আগে ধারণা হিসেবে দেখানো থিঙ্কবুক প্লাস জেন ৭ অটো টুইস্ট ল্যাপটপটি ২০২৬ সালের জুনে বাজারে আসবে। এই ল্যাপটপের স্ক্রিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর মুখের দিকে ঘুরে যায় এবং ভয়েস কমান্ডে বিভিন্ন মোডে কাজ করে।

লেনোভোর এই ঘোষণাগুলো এআই প্রযুক্তিকে দৈনন্দিন ব্যবহার ও বড় পরিসরের অবকাঠামো—দুই ক্ষেত্রেই নতুন মাত্রা দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড না বদলালে যে ঝুঁকি হতে পারে

দীর্ঘদিন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড না বদলালে যে ঝুঁকি হতে পারে

দীর্ঘদিন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড না বদলালে যে ঝুঁকি হতে পারে
বছরের পর বছর কি একই ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন? যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারকারী দীর্ঘদিন ধরে একই ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, যা তাদের বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করলে শুধু ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার সমস্যাই দেখা দেয় না, বরং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ডিভাইস হ্যাকিং এমনকি আইনি জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ে।

দীর্ঘদিন একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ফলে পরিচিতজন বা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তা অন্যদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এতে আপনার অজান্তেই একাধিক ডিভাইস নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে গিয়ে ইন্টারনেটের গতি কমে যায়, যা গেমিং বা এইচডি ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের সময় বেশি অনুভূত হয়।

পুরোনো বা দুর্বল পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। সাইবার অপরাধীরা রাউটারে অনুপ্রবেশ করে স্মার্ট টিভি, সিসি ক্যামেরা কিংবা স্মার্ট স্পিকার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এমনকি ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ থেকে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি করার আশঙ্কাও থাকে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গাটি হলো আইনি সমস্যা। আপনার ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবহার করে কেউ যদি সাইবার অপরাধ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে ইন্টারনেট সংযোগটি যেহেতু আপনার নামে নিবন্ধিত, দায়ভার আপনার ওপরই পড়তে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত তিন মাস অন্তর রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। পাসওয়ার্ড হিসেবে নাম, জন্মতারিখ বা সহজ শব্দ এড়িয়ে চলতে হবে। নিরাপদ পাসওয়ার্ডের জন্য ইংরেজি বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন (যেমন #, @, $) একসঙ্গে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা,৩০ হাজার কিলোমিটার পথে কোনো ইউ-টার্ন নেই!

বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা,৩০ হাজার কিলোমিটার পথে কোনো ইউ-টার্ন নেই!

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে পৃথিবীর দীর্ঘতম মোটরযান চলাচলযোগ্য রাস্তা, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার (১৯,০০০ মাইল)। এটি আলাস্কার প্রুডো বে থেকে আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে সংযুক্ত করেছে। এই রাস্তা ১৪টি দেশের মধ্য দিয়ে গেছে এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস দ্বারা স্বীকৃত।

প্রথমে এটি রেলপথ হিসেবে পরিকল্পিত হলেও পরে মহাসড়ক হিসেবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৩৭ সালে ১৪টি দেশ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করে এবং ১৯৬০ সালে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পুরো পথটি পাড়ি দিতে সাধারণত ৬০ দিন লাগে, তবে সময় যানবাহনের গতি ও বিরতির ওপর নির্ভর করে।

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহর সংযুক্ত হয়েছে। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য শহরের নাম দেওয়া হলো, যেগুলো এই মহাসড়কের পথে অবস্থিত বা সংযুক্ত:

📍উত্তর আমেরিকা:
Anchorage, Alaska (আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র)
Seattle, Washington (ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র)
Vancouver, British Columbia (ব্রিটিশ কলম্বিয়া, কানাডা)
San Francisco, California (ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)
Los Angeles, California (ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)
Mexico City (মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো)

📍মধ্য আমেরিকা:
Guatemala City (গুয়াতেমালা সিটি, গুয়াতেমালা)
San Salvador (সান সালভাদর, এল সালভাদর)
Tegucigalpa (টেগুসিগালপা, হন্ডুরাস)
Managua (মানাগুয়া, নিকারাগুয়া)
San José (সান হোসে, কোস্টারিকা)
Panama City (পানামা সিটি, পানামা)

📍দক্ষিণ আমেরিকা:
Bogotá (বোগোটা, কলম্বিয়া)
Quito (কুইটো, ইকুয়েডর)
Lima (লিমা, পেরু)
Santiago (সান্তিয়াগো, চিলি)
Buenos Aires (বুয়েনোস আইরেস, আর্জেন্টিনা)

এছাড়াও, এই মহাসড়কটি আরও অনেক ছোট-বড় শহর ও নগরীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে দুই মহাদেশের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মূল বিষয়:
প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে শুধু দীর্ঘতম রাস্তা নয়, এটি দুই আমেরিকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এক বিস্ময়কর প্রকৌশল কীর্তি। 

মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে সাইবার নিরাপত্তায় নতুন জটিলতা: সফোস

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে সাইবার নিরাপত্তায় নতুন জটিলতা: সফোসকৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে সাইবার নিরাপত্তায় নতুন জটিলতা: সফোস

সম্প্রতি ‘টেক রিসার্চ এশিয়া’র সহযোগিতায় প্রকাশিত “দ্য ফিউচার অফ সাইবার সিকিউরিটি ইন এশিয়া প্যাসিফিক অ্যান্ড জাপান” শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া প্যাসিফিক ও জাপান (এপিজে) অঞ্চলে সাইবার নিরাপত্তা কর্মীদের কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা এই চাপ বা বার্নআউটের সমস্যায় ভুগছে। সফোসের এপিজে অঞ্চলের ফিল্ড চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার অ্যারন বুগাল বলেন, সাইবার হামলার বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সীমিত রিসোর্স- এই তিনটি কারণেই নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। 
তিনি আরও জানান, পরিকল্পিতভাবে এআই টুলস ব্যবহার করা গেলে কার্যক্ষমতা বাড়বে, তবে অনুমোদনহীন বা শ্যাডো এআই ব্যবহারের ফলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

Native Banner