Banner 468x60 for

বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইউটিউব

ইউটিউবে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেইক ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। এখন থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিশেষ এআই টুল চালু করছে তারা।

এ টুলের সাহায্যে যে কেউ সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন যে, অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা অবয়ব নকল করে কোনো ভিডিও তৈরি করা হয়েছে কি না এবং প্রয়োজনে সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার অনুরোধও জানাতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট। কমিউনিটি পেইজে এক ঘোষণায় ইউটিউব বলেছে, তাদের লক্ষ্য ‘অননুমোদিত কনটেন্ট সহজে সরিয়ে ফেলার সুযোগ দিয়ে ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বস্তি দেওয়া’।

প্রযুক্তিগতভাবে এ টুলটি কেবল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আনা হলেও ইউটিউবের মুখপাত্র জ্যাক ম্যালন বলেছেন, সাধারণ যে কেউ টুলটি ব্যবহার করতে পারবেন। এ পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছি যে, কোনো নির্মাতা ইউটিউবে এক দশক ধরে ভিডিও আপলোড করছেন না কি কেবল শুরু করেছেন তা বড় কথা নয়। এক্ষেত্রে সবাই সমান স্তরের সুরক্ষা পাবেন।”

বর্তমানে আসল ভিডিও ও এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে টুলটি সবার জন্য চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষেরও উপকার হবে, বিশেষ করে যারা হঠাৎ করে দেখতে পান, তাদের চেহারা কোনো ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর এআই ভিডিওতে ব্যবহৃত হয়েছে। নির্মাতাদের ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা কোম্পানি তাদের চেহারা ব্যবহার করে পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কি না তা ধরে ফেলতে এ টুলটি সাহায্য করবে।

ইউটিউব ২০২৪ সালে প্রথম এ টুলটির কার্যকারিতা দেখিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শেষদিকে তা চালু করে। শুরুতে টুলটি কেবল ‘পার্টনার প্রোগ্রাম’-এর সদস্যদের জন্য এনেছিল প্ল্যাটফর্মটি। ‘পার্টনার প্রোগ্রাম’ এমন নির্মাতাদের জন্য যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার পাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ‘ওয়াচ আওয়ার’ বা ভিডিও দেখার সময় বা শর্টস ভিউ পেয়ে নিজেদের চ্যানেল থেকে আয় করতে শুরু করেছেন।

এরপর সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের ব্যবহারের জন্য টুলটি চালু করেছিল ইউটিউব। আর এখন টুলটি সবার জন্যই এল। আগ্রহী ব্যবহারকারী নতুন টুলটি ব্যবহার করতে চাইলে তাদের কম্পিউটারের ‘ইউটিউব স্টুডিও’ থেকে তা চালু করে নিতে হবে। প্রক্রিয়াটি শুরু করতে তাদের প্রথমে ‘কনটেন্ট ডিটেকশন’-এর অধীনে থাকা ‘লাইকনেস’ অপশনে যেতে হবে।

এরপর ফোন দিয়ে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়ে সেলফি ভিডিওর মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক সেট আপ হয়ে গেলে ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা বিভিন্ন ভিডিও স্ক্যান করে দেখবে যে, সেখানে ব্যবহারকারীর চেহারার মিল আছে কি না। কোনো ভিডিওতে অবয়ব বা চেহারা ব্যবহারের মিল পাওয়া গেলে তা ওই একই ট্যাবের নিচে দেখা যাবে।

ব্যবহারকারীরা তখন ভিডিওটি যাচাই করে সেটি সরিয়ে ফেলার জন্য অনুরোধ পাঠাতে পারবেন, যেখানে তাদের চেহারা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে ইউটিউবকে তথ্য দেওয়া যাবে। মূল্যায়নের সুবিধার জন্য ইউটিউব জানতে চাইতে পারে যে, ভিডিওটিতে ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর নকল করা হয়েছে কি না। তবে টুলটি নিজে থেকে কেবল কণ্ঠস্বরের ওপর ভিত্তি করে কিছু শনাক্ত করতে পারবে না।

Native Banner