Banner 468x60 for

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬

ভিন্ন আইডিয়ায় রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা

ভিন্ন আইডিয়ায় রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা…..

12088171_627920107311781_7065564608641490616_nরেষ্টুরেন্ট ব্যবসা বর্তমানে একটি খুবই জনপ্রিয় এবং লাভজনক ব্যবসা। আর কতটা লাভ পাবেন তা জানাব এই লেখার শেষ অংশে। সেই সাথে ব্যবসায়টি করতে পারেন ভিন্ন আইডিয়ায়। ব্যবসাটি সম্পর্কে গতানুগতিক সিষ্টেমের বাইরে এসে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব আপনাদের। আমন্ত্রন জানাচ্ছি সকলকে উদ্যোক্তার খোঁজে পেইজের পক্ষ থেকে আমি মাসুদুর রহমান মাসুদ।
এব্যবসায়ের জন্য শুরুতেই প্রস্তুত করতে হবে আপনার উদ্যোগী মনকেে নয়তো এমন হাজারটা আইডিয়া পড়ে রবে দেখতে পাবে না সফলতার মুখ। ব্যবসায়ের জায়গাটি নির্বাচন করতে হবে জনবহুল অফিস পাড়ায়। খাবার রান্না করা যাবে এমন এক থেকে দুইটি রুম ভাড়া নিতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা যদি আপনার বাসায় করতে পারেন তবে মন্দ কি। সাশ্রয় হবে আপনার রুম ভাড়ার পুরো অর্থটাই আর তা মাস শেষে যোগ হবে বাড়তি লাভের খাতায়। আপনার টার্গেট মার্কেট বা অফিস পাড়ার প্রত্যেকটি অফিস ভিজিট করা শুরু করুন। এবং কথা বলুন আপনার সেবাটি সম্পর্কে আপনার সাম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে। আস্থা দিন মান সম্মত সেবা প্রদানের। যোগাড় করতে থাকুন কাষ্টমার যারা আপনার তৈরী করা খাবার প্রতি দিন ক্রয় করবে মাসিক চুক্তিতে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পৌছাতে পারবেন এমন সার্মথ্য রেখে কাংখিত সংখ্যার কাষ্টমার সংগ্রহ করতে থাকুন। সেই সাথে ঠিক কবে থেকে তাদের কাছে খাবার পৌছে দিবেন সেই নির্দিষ্ট তারিখটি জানিয়ে দিতে ভুল করবেন না।
এবার চলুন বাজার ঘুরে আসি। রান্না করার জন্য আপনাকে কিনতে হবে চুলা, হাড়ি, পাতিল, কড়ই, সহ প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র যা লাগবে রান্না করার কাজে। আর সেই সাথে যে সকল আইটেম সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আপনার ক্রেতাদের সেগুলোর বাজারটাও সেরে ফেলুন। এবার রান্না করা খাবার আপনার ক্রেতাদের নিকট পৌছে দেওয়ার পাত্রও কেনা দরকার। এক্ষেত্রে আপনি হটপট জাতীয় পাত্র ব্যবহার করলে বাড়তি সুবিধা পাবেন। সাথে আপনার কোয়ালিটির উপর একটা ভাল ধারনা জন্ম নিয়ে নিবে আপনার ক্রেতাদের।
এবার চলুন রান্না ঘরে যাওয়া যাক। রান্না ঘর সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন রেখে রান্না করার প্রস্তুতি নিয়ে নিন। কিন্তু রান্না কি আপনি করবেন। যদি শিখে নিতে পারেন তবে তো ভালই হয়। নিজে না পারলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভাল বাবুর্চী নিয়োগ দিন।
মনে রাখবেন আপনার খাবারের স্বাদ আর মানের উপর নির্ভর করছে আপনার ব্যবসার সফলতা। তাই এখানে রাখতে হবে সর্বোচ্চ নজরদারি আর সর্তকতা। খাবার সময়মত পৌছে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক আর পরিবহনের ব্যবস্থা করে ফেলুন।
আপনার খাবারের দাম এমন ভাবে নির্ধারন করুন যাতে ক্রেতা তার পাশের রেষ্টুরেন্ট রেখেই আপনার সেবাটি ক্রয় করে। এই ব্যবসায় শতভাগ সফল হওয়ার জন্য আপনাকে আরও একটি গোপন তথ্য দিয়ে দিই। সেটি হল আপনার ক্রেতাদের জন্য অসাধারন ভাল ব্যবহার যাতে আপনি বলতেই আপনার ক্রেতার সামনে ভেসে উঠবে এমন একটি মুখ যেখানে আপনার ক্রেতার সন্তুষ্টি মাখা।
দুপুরের খাবার সরবরাহের পাশাপাশি বিকেলের নাস্তা সরবরাহের ব্যবস্থা কিংবা ফাষ্টফুডও সরবরাহ করতে পারেন আপনার ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী। এছাড়াও বাড়তি আয়ের জন্য আপনি বিয়ে বাড়ি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও খাবার সরবরাহ করতে পারেন।
এবার আসুন কত বিনিয়োগ লাগবে এ ব্যবসায়। ছোট আকারে করতে আপনি মাত্র দশ থেকে পনের হাজার টাকায় শুরু করতে পারবেন। আর পরবর্তীতে চাইলে আপনি এথানেই বিনিয়োগ করতে পারবেন লক্ষ লক্ষ টাকা। তবে সাবধান কখনও বাসি-পচা খাবার সরবরাহ করার চেষ্টাও করবেন না অতিরিক্ত লাভের আশায়। শুরুতেই বলেছিলাম এ ব্যবসায় খুবই লাভজনক। চলে এসছি সেই কাংখিত জায়গায় বলব লাভের কথা। দক্ষ হাতে আপনি ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারলে সকল খরচ বাদ দিয়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ মুনাফা বা লাভ করতে পারবেন আপনি।

বিজ্ঞাপন এজেন্সীর ব্যবসা করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়

বিজ্ঞাপন এজেন্সীর ব্যবসা করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় …

11891084_615662605204198_4875453982882505681_nবন্ধুরা স্বাগতম আপনাদের সকলকে। আপনাদেরকে আজ লাভজনক একটা ব্যবসায় সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব। যেখানে ব্যবসায় করার জন্য খুব বেশী পুজিঁর প্রয়োজন পড়বে না। যত ভাল যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন তত এ ব্যবসায়ের পরিধি বাড়াতে সক্ষম হবেন। সফলতার জন্য আপনার যোগাযোগ ও ব্যবহারই এ ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় পুঁজি।
উৎপাদিত পণ্যের প্রচারের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত মাধ্যম হচ্ছে বিজ্ঞাপন। এবং বড় বড় কোম্পানী গুলো তাদের পণ্যের মূল্যের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয় করে থাকে। টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা, মাগ্যাজিন, বিলবোর্ড এর সাথে বর্তমানে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়ার আরও একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। কিভাবে শুরু করবেন চলুন সে সম্পের্কে একটু জানার চেষ্টা করি। বিজ্ঞাপনী সংস্থা গুলো সাধারনত তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করে থাকে। এর জন্য আপনাকে একটা বা দুইটা রুমের অফিস রুম ভাড়া নিতে হবে। আপনি নিজেই অথবা দু-চার জন কর্মী নিয়োগ দিয়েই শুরু করতে পারবেন এ ব্যবসাটি।
এজন্য আপনাকে অফিস ভাড়ার অগ্রিম এবং অফিস সজ্জা বাবদ সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। মিডিয়া পাড়ায় এ ধরনের ব্যবসার ব্যপক সুযোগ রয়েছে। এর বাইরেও বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে অফিস নিয়ে শুরু করতে পারবেন এ ব্যবসা।
যারা বিভিন্ন টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা, মাগ্যাজিন বিলবোর্ড বা অনলাইনে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে ইচ্ছুক তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করাই হচ্ছে আপনার কাজ। আর এর মাধ্যমে আপনি পাবেন কমিশন। যেখান থেকে আসবে আপনার আয়। সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন প্রচারের কাজ পাওয়ার পাশাপাশি আপনি প্রেস রিলিজ প্রচারের কাজও পাবেন। যেখান থেকেও আপনার আয় হবে বড় একটা অর্থের।
এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই বিজ্ঞাপন প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সর্তকতার সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। তাদের বিজ্ঞাপনের মূল্য সম্পর্কে আপনার পূর্ন ও সঠিক ধারনা থাকতে হবে। সে অনুযায়ী আপনি ব্জ্ঞিাপন সংগ্রহ করে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারলেই আপনার ব্যবসায়ের দ্রুত প্রসার ঘটাতে পারবেন। এবং প্রচুর প্ররিমান আয়ও করতে পারবেন। যত বেশী পরিমান বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারবেন আয়ও তত বাড়বে।
এ জাতীয় কিছু বিজ্ঞাপনী এজেন্সী আপনি ঢাকার ফার্মগেট, কাওরান বাজার এলাকায় পাবেন। যদিও ঢাকা শহরের প্রায় জায়গাতেই এ ধরনের অনেক এজেন্সী আছে। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা শহরের প্রেসক্লাব ও মিডিয়া অফিস গুলোর আশপাশেই এ জাতীয় বিজ্ঞাপনী এজেন্সী পাবেন। তাদের সাথে সর্তকতার সাথে যোগাযোগ করলে ব্যবসায়ের কৌশল ও বিস্তারিত জানতে পারবেন।
আমি আপনাদের আবারও স্মরন করিয়ে দিতে চাই এ ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় পুঁজি হচ্ছে যোগাযোগ, সম্পর্ক তৈরী ও ব্যবহার। ধৈয্য সহকারে এগিয়ে যেতে পারলে এ ব্যবসায় আপনি খুব সহজেই পেতে পারেন সফলতা।

আইটি ফার্মের ব্যাবসা খুলতে পারে আপনার সৌভাগ্যের দ্বার

আইটি ফার্মের ব্যাবসা খুলতে পারে আপনার সৌভাগ্যের দ্বার…

11880551_612004492236676_1037725487755032866_nইনফরমেশন টেকনোলজি আমাদের জীবনে এনেছে গতিময় ছন্দ। যোগাযোগে এনেছে অভূতপুর্ব সাফল্য। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। আর সম্ভাবনাময় এ খাতে বিনিয়োগ করে আপনি হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা।
স্বাগতম আপনাদের সকলকে। আইটি ফার্মের ব্যবসা স্থাপনের জন্য আপনাকে সবার আগে দক্ষ আইটি কর্মী নিযোগের চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। কারন তারাই হচ্ছে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাদের মেধা ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। আপনি যদি আইটি বিষয়ে পড়াশুনা করে থাকেন তবে আপনার এ ব্যবসায়ে সফলতা পেতে সহজ হবে। আইটি ব্যবসা ভিন্ন ভিন্ন খাত ধরে করতে পারবেন। আপনি চাইলে ছোট থেকে বিস্তৃত পরিসরে এ ব্যবসা করতে পারবেন। এক লক্ষ টাকা ‍পুজিঁ থেকে শুরু করে কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন এ খাতে।
ছোট করে যদি শুরু করতে চান সেক্ষেত্রে আপনি কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার মেরামত ও যন্ত্রাংশ বিক্রয় করতে পারেন। নেটওয়ার্কিং করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও সাথে বিক্রয় করতে পারবেন। এখানে আপনি নষ্ট কম্পিউটার মেরামত থেকে শুরু করে মাউস, কিবোর্ড ,মনিটর, পিসি, সাউন্ড সিষ্টেম, নেটওয়াকিং কেবল, ওয়াইফাই, রাউডার সহ পেনড্রাইভ বিক্রয় করতে পারেন।
একটু বড় পরিসরে আসি এবার। আইটি ফার্ম করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে সে সম্পর্কে জানানোর ক্ষুদ্র চেষ্টায় প্রথমত আপনাকে সু সজ্জিত অফিস নিতে হবে। কাজ করার জন্য হাই কনফিগারেশন কম্পিউটার নিতে হবে। সাথে প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইথ সংযোগ নিতে হবে। সফটওয়্যার তৈরীর জন্য দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৃজনশীল সফটওয়্যার ইজ্ঞিনিয়ার নিয়োগ দিতে হবে।
আপনার প্রতিষঠান কি ধরনের সফটওয়্যার তৈরী ও বিক্রয় করবেন তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা একেঁ নিন। প্রচার পরিচালনা চালান দেশে ও বিদেশে। দেশের ভেতর কাজ পেতে যোগাযোগ করুন বানিজ্যিক ও সেবা খাত সমূহের প্রতিষঠানে।
বিদেশের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষঠানের কাজ পেতে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন সর্তকতার সাথে। বায়ার আপনার কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলে আপনার কাজের অভাব হবে না বিদেশের বাজারে। বাংলাদেশ প্রতি বছর সফটওয়্যার রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। আর এ খাতে আপনার বিনিয়োগ স্থাপন করে আপনিও নিতে পারেন সে সুবর্ন সুযোগ।
সফটওয়্যার তৈরীর পাশাপাশি আপনি সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজও করবেন। আর এখান থেকেও আপনি আয় করতে পারবেন একটা বড় অঙ্কের অর্থ। আর ইন্টারনেট থেকেই আপনি সংগ্রহ করতে পারবেন এ ধরনের কাজ। পাশাপাশি যাদের কাছে সফটওয়্যার বিক্রয় করবেন তাদের কাছ থেকেই পুনরায় আপডেটের কাজ পাবেন। বড় বড় প্রতিষঠান সমূহের নেটওয়াকিং এর কাজ করেবেন সাথে।
ছোট আকারে একটি সফটওয়্যার ফার্ম করতে প্রায় আট থেকে দশ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। এর বাইরে আপনি বিদেশ থেকে আইটি পন্যের আমদানি করে তা দেশের বাজারে বিক্রয়ের ব্যবসায়ও করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্য আরও বড় ও বেশী পুজিঁর বিনিয়োগ করতে হবে আপনাকে। আর আমদানিক্রত আইটি পন্যের ব্যবসায় করতে গেলে আপনাকে পন্য মানের সাথে কোন প্রকার সামজ্ঞস্য করা চলবে না। অবশ্যই ভাল মানের প্রন্য আমদানি করতে হবে।
মার্কেটিং এন্ড সেলস যেকোন প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। সুতরাং এখানে আপনার কোন প্রকার ছাড় দেওয়ার সুযোগ নাই। পরিশ্রমী এবং দক্ষ লোক নিয়োগ দিতে ভুল করবেন না একটুও। মার্কেটিং প্লান সাজান এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে যান কাংখিত লক্ষের দিকে।
মার্কেটিং এনড সেলস দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে মান সম্মত সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারলে আপনি খুব সহজেই আইটি ব্যবসায়ে সফল হতে পারবেন

কাপড় অথবা কাগজের হ্যান্ড ব্যাগ তৈরী দিয়েই শুরু হোক আপনার ব্যবসা

 

কাপড় অথবা কাগজের হ্যান্ড ব্যাগ তৈরী দিয়েই শুরু হোক আপনার ব্যবসা….

11846707_609320622505063_2915660693566483325_nইতিমধ্যেই আপনাদের অনেকে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন কাপড় অথবা কাগজের হ্যান্ড ব্যাগ তৈরীর ব্যবসা সম্পর্কে। আর তাদের জন্য এ ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর ক্ষুদ্র এ প্রচেষ্টা।
চলুন তাহলে… ভাবছেন কিভাবে শুরু করবেন…?
ব্যগ তৈরীর জন্য সর্বপ্রথমে একটা রুমের প্রয়োজন হবে। আর তাতে স্থাপন করতে হবে দুই থেকে তিনটি সেলাই মেশিন।
মেশিন যখন কিনেই ফেললেন তখন কিছু সেলাই তো করতে হবে। আর এজন্য দরকার হবে আপনি যে কাপড়ের ব্যাগ তৈরী করতে চান সে জাতীয় কাপড়।
সাথে ‍সুতা তো লাগছেই সেলাই করতে। তাই উপযুক্ত সুতা বাছাইয়ের কাজটিও করতে হবে আপনাকে। ব্যাগের হাতল তৈরীর কাজে ব্যবহৃত ফিতা অথবা আলাদা ধরনের সুতাও সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাগটি যদি জিপার সিষ্টেম করতে চান তাহলে আপনাকে জিপার সংগ্রহ করতে হবে।
কাগজের ব্যাগের ক্ষেত্রে কাগজ, আঠা, রিপিট সুতা ইত্যাদির প্রয়োজন পড়বে। এ জাতীয় ব্যাগের বাইরে সিমেন্টের ব্যাগ থেকেও তৈরী করতে পারেন হ্যান্ড ব্যাগ। অথবা নেটের ব্যাগও তৈরী করতে পারেন। যার চাহিদা কতটা ব্যাপক তা বাজার করতে গেলে বুঝবেন।
কাপড়ের তৈরী হ্যান্ড ব্যাগকে যদি আকর্ষনীয় রুপ দিতে চান তাহলে সুন্দর রংয়ে রাঙাতে স্ক্রিন প্রিন্ট মেশিনের প্রয়োজন পড়বে।
এ ব্যবসা করতে আপনার বিশেষ কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন পড়বে না। মাত্র দুই থেকে তিন দিন প্রশিক্ষন নিলেই আপনি নিজেই তৈরী করতে পারবেন।
এ ব্যবসা প্রাথমিক অবস্থায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকায় শুরু করতে পারবেন। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চাইলে তখন বাড়তি পুঁজির প্রয়োজন পড়বে।
নিজে কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি ভালভাবে জেনে নিতে পারলে কর্মীদের থেকে পূর্ন আউটপুট বুঝে পাবেন সাথে আপনার কর্মীরাও ফাঁকি দিতে পারবে না।
আপনার তৈরী করা হ্যান্ড ব্যাগ নিকটস্থ বাজেরর দোকান গুলোতে বিক্রয় করতে পারবেন। এছাড়াও ঢাকার চকবাজারে এ জাতীয় ব্যাগের পাইকারী বাজার রয়েছে। সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ জাতীয় পন্যের পাইকারী বাজার পাবেন আপনার তৈরী ব্যাগ বিক্রির জন্য।
তাহলে থেমে আছেন কেন…?
একটু সাহস করেই না হয় কাজে হাত দিয়ে ফেলুন যদি থাকে আত্মবিশ্বাস আর জীবনে সফলতা পাওয়ার অদম্য ইচ্ছা….

ভিন্ন্ আইডিয়ায় করতে পারেন ফাষ্টফুডের দোকান

ভিন্ন্ আইডিয়ায় করতে পারেন ফাষ্টফুডের দোকান

11742880_604786789625113_8037219577888367925_nভিন্ন্ আইডিয়ায় করতে পারেন ফাষ্টফুডের দোকান। হতে পারেন একজন সফল ব্যবসায়ী….
স্বাগতম আপনাদের সকলকে যারা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ফাষ্টফুড আমাদের প্রায় সকলের প্রিয় খাবারে পরিনত হয়ে পড়েছে। সময় আর ব্যস্ততার কারনেই ফাষ্টফুড আমাদের কাছে এত জনপ্রিয় হয়েছে কি?
সে যেকারনেই হোক আমাদের বেকারদের জন্য তা কিন্তু সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত হয়ে এসেছে। ইতি মধ্যেই এ ব্যবসায়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে সফলতার মুখ দেখেছেন অনেক উদ্যোক্তা।
এ ব্যবসা করতে আপনার সুুবিধামত একটি এলাকায় ব্যবসার স্থান নির্বাচন করতে পারেন। তবে অবশ্যই লোক সমাগম ঘটে এমন স্থান হতে হবে। না হলে ক্রেতা পাবেন না।
আপনার ব্যবসায়ের পরিধি ও পুঁজি বিবেচনা করে দোকানের আয়তন নির্ধারণ করবেন। দোকানের ডেকোরেশন অবশ্যই চমৎকার করে করার চিন্তা করবেন। এটি আপনি আপনার নিজের আইডিয়ায় অথবা ভাল কোন ডিজাইনার দিয়েও ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন।
আপনার দোকানের সুন্দর একটা নাম দিতে কিন্তু ভুল করবেন না।
দোকানের জন্য ফার্নিচার, ফ্রিজ, ওভেন, জুস মেকার কফি মেকার সহ খাদ্য তৈরীর বিভিন্ন ইলেকট্রিক মেশিন কিনতে হবে আপনাকে। আর সেই সাথে খাদ‌্য পরিবেশনের জন্য আকর্ষনীয় পাত্র কিন্তু চাই। খাদ্য পরিবেশনের জন্য সুন্দর বাচনভঙ্গি এবং আকর্ষনীয় চরিত্রের লোকবল নিয়োগ দিতে হবে আপনাকেই খুব দক্ষতা ও সর্তকতার সাথে।
ফাষ্টফুড হিসেবে রাখতে পারেন স্যান্ডউইচ, বার্গার, নানা ধরনের রোল, শর্মা, পিজা, চিকেন ফ্রাই নুডুলস সহ নানা ধরনের আকর্ষনীয় খাবার। এসব খাবার আগে থেকেই তৈরী করে দোকানে সাজিয়ে রাখতে হবে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী গরম করে পরিবেশন করতে হবে। সেই সাথে চাহিদা অনুযায়ী জুস সাথে সাথে তৈরী করে পরিবেশন করতে হবে।
এ জাতীয় ব্যবসা করতে বিশ থেকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে। তবে কেউ যদি খূব ছোট আকারে শুরু করতে চান তবে এর থেকে কম মূলধন বিনিয়োগ করেও করতে পারবেন।
এবার এ ব্যবসায়ে আপনার উন্নতির জন্য একটু ভিন্ন আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি আপনার দোকানের আসপাশের এলাকার কিছু নিয়মিত ক্রেতার বাসায় হোম ডেলিভারী করতে পারেন। সেই সাথে আশপাশের অফিসে বিকালের নাশতা হিসেবেও ডেলিভারী করতে পারেন। তবে এজন্য দক্ষ ডেলিভারী ম্যান নিয়োগ দিতে হবে আপনাকে। সার্ভিসটি বিনা ডেলিভারী চার্যে করতে পারলে বেশ সাড়া পাবেন।
আপনার মাথায় এ ব্যবসায়ের জন্য আমার থেকেও আরও কোন ভিন্ন আইডিয়া থাকতে পারে। যা আপনাকে নিয়ে যেতে পারবে সফলতার দিকে। নিজের সততা মেধা আর প্ররিশ্রমের সমন্বয় ঘটিয়ে হয়ে উঠুন সফলদের একজন।

ই-কমার্স ব্যবসায়ী হতে চান

ই-কমার্স ব্যবসায়ী হতে চান…?

e-commercee-commerce_r0124l11
পৃথিবীটা এখন আধুনিকতায় মোড়ানো। মানুষের রুচি,কথাবার্তা আর  চালচলনে এসেছে বিপুল পরিবর্তন। শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নয়,পরিবর্তন এসেছে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই। আর এই পরিবর্তনের বিরাট একটা অংশ এসেছে ইন্টারনেট নামক এক জাদুর কাঠিতে ভর করে। যোগাযোগ ব্যাবস্থা থেকে শুরু করে যেকোনো ক্ষেত্রেই বেড়েছে ইন্টারনেট সেই সাথে এটাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কোটি কোটি ডলারের ইকমার্স ব্যবসা।
দিন যত যাচ্ছে ততই অনলাইনে কেনাকাটার পরিমান বৃ্দ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে অনলাইন শপিং ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটা কিছু শ্রেনীর মানুষদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও অচিরেই এটি যে জনপ্রিয় হতে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়, কারন প্রতিনিয়তই ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। আর তাই দিন দিন ইকমার্স সাইটগুলোর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।
কিন্তু অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিক কিভাবে শুরু করবেন। অথবা শুরু করার চেষ্টা করছেন কিন্তু গাইডলাইনের অভাবে শুরু করতে পারছেন না  চলুন তাহলে ধারনা নেওয়া যাক এ ব্যবসায়ে সফলতা নিশ্চিত করতে কি কি করা দরকার সে সম্পর্কে।

ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরী করতে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হল আপনি কোন ধরনের পন্য বিক্রি করবেন তা নির্দিষ্ট করা। পন্য নির্ধারন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিচক্ষন হতে হবে। কারন আপনার নির্ধারিত পন্যের  এর চাহিদা কেমন হবে, পন্য বিক্রয় করে কেমন লাভ হবে, পন্য ক্রেতার নিকট পৌছানোর পরিবহন খরচ কেমন পরবে তা চিন্তা না করে যেমন খুশি তেমন সাজো এর মত পন্য সিলেক্ট করলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ব্যবসার শুরুতেই।
আবার নিজের বিন্দুমাত্র আইডিয়া নেই এরকম পন্য সিলেক্ট করা ও বোকামি। পন্য নির্বাচন করার আগে অবশ্যই আপনার প্রতিদ্ধন্দী কারা, তাদের মার্কেট পজিশন কোন স্তরে তা বিবেচনা করা উচিত। কখোনই এমন পন্য বিক্রির চেষ্টা করবেন না যেটি অন্য বিখ্যাত ইকমার্স ওয়েবসাইট দ্বারা মার্কেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ চাহিদা পুরন করা হচ্ছে সফলতার সাথে। আর পন্য মানের সাথে কার্পণ্য করা চলবে না। সব সময় বাজারের সেরা পন্যটি আপনার ক্রেতার হাতে তুলে দেবার চেষ্টা রাখতে হবে।
পন্য নির্ধারনের পর নির্দিষ্ট করুন পন্যগুলো কোন কোন ক্যাটাগরীতে পড়ছে। ক্যাটাগরী নির্দিষ্ট করার সুবিধা হচ্ছে, পন্যগুলো কিনতে সুবিধা হবে এবং দাম নির্ধারন করতেও সুবিধা হবে। তাছাড়া আপনার ওয়েবসাইটে কাস্টোমাররা সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় পন্য গুলো খুজে নিতে পারবে।
কোন কোন পন্য বিক্রি করবেন তা নির্ধারন  করার পর আপনি পন্য কীভাবে কাস্টোমারর হাতে পৌছাবেন তা ঠিক করুন। হোম ডেলিভারী দেবার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে কোন কুরিয়ার সার্ভিস/পরিবহন ব্যাবহার করবেন তা নির্ধারন করুন। হোম ডেলিভারী কোন কোন এলাকার জন্য রাখবেন তা নির্ধারন করুন। হোম ডেলিভারীর আগেই পেমেন্ট নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ওয়েবসাইট তৈরীতে হাত দেওয়ার আগে নির্ধারন করুন পেমেন্ট অপশন হিসেবে আপনি কোনগুলো রাখবেন। অর্থাৎ কোন কোন মাধ্যমে আপনার ক্রেতা আপনার পন্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবে।
মানুষ কোন পেমেন্ট অপশন ব্যাবহারে স্বাচ্ছন্দ্যতা বোধ করে তা বিবেচনা করে পেমেন্ট অপশন নির্ধারন করুন। পেমেন্ট অপশন হিসেবে ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ব্যাকিং  ব্যবস্থা বিকাশ, সহ  পেজা, মানিবুকার রাখতে পারেন। তবে উপরের সবগুলো রাখতে হবে এমন না কারন কাস্টোমারের সেটিসফিকশন যেমন দরকারী তেমন নিজের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করতে পারাটাও দরকারি।
একটা ইকমার্স ওয়েবসাইটের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে একটি সুন্দর ডোমেইন নেম। আপনার ইকমার্স ওয়েবসাইটের জন্য একটি সুন্দর এবং ইকমার্স রিলেটেড নাম সিলেক্ট করুন। যেমন ইকমার্সের জন্য আপনি যদি চিন্তা করেন অামি-তুমি-সে-ডটকম নাম রাখবেন তাহলে তা মানানসই হবে না, কেউ বুঝবেও না এটা কি ওয়েবসাইট। কিন্তু যদি ইবাজারডটকম রাখেন তবে সবাই বুঝবে এটি কিসের ওয়েবসাইট।
যেকোন ওয়েবসাইটের জন্য ভাল মানের হোস্টিং দরকার আর তা যদি হয় ইকমার্স ওয়েবসাইটের জন্য তাহলে তো কথাই নেই। তাই হোস্টিং কেনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে আপনাকে।  ইকমার্স ওয়েবসাইট চালুর প্রথম দিকে ভালো শেয়ার্ড বা বিজনেস ক্লাস হোস্টিং ভাল হবে তবে সাইটের ট্রাফিক বাড়লে ভিপিএস বা ডেডিকেটেড এ মাইগ্রেট করাই উত্তম হবে।
কোন স্ক্রিপ্ট দিয়ে তৈরী করবেন অথবা কোন প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এ তৈরী করবেন তা আগেই নির্ধারন করুন। যেহেতু এখানে অর্ডার রিসিভ এবং সিকিউরিটি মেইনটেইন করার ব্যাপার আছে তাই ইকমার্স ওয়েবসাইটটি করার সময় সর্তকতার সাথে এগুলো নির্ধারন করতে হবে। আপনার ইকমার্স ওয়েবসাইটের জন্য একটি ইউনিক টেম্পলেট ইউজ করার চেষ্টা করুন এবং নিজে না পারলে তা রেস্পন্সিভ ওয়েবডেভেলপার দিয়ে করুন। সেই সাথে ইকমার্স সাইটের জন্য মোবাইল ভার্সন রাখার চেষ্টা করুন।
এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে ইকমার্স ওয়েবসাইটের জন্য একটা ইউজার ফ্রেন্ডলী ইন্টারফেস সবচেয়ে দরকারী। তাই সাইটের ডিজাইন করার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ইউজার ফ্রেন্ডলী করে তৈরি করার চেষ্টা করুন। সেই সাথে আপনার ওয়ব সাইটটি সার্চইঞ্জিনে দ্রুত খুজে পাওয়ার জন্য করতে হবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও এর কাজও।
আপনার ইকমার্স ওয়েবসাইটটি চালু করার আগেই একটু জোরেশোরে প্রচারনা চালানোর চেষ্টা করুন। ইকমার্স ওয়েবসাইটটির ফিচার গুলো কেমন হবে, কেন অন্যদের থেকে আলাদা তা তুলে ধরার চেষ্টা করুন। প্রচারনার জন্য বাজেটের একটা অংশ রাখুন। কারন প্রচারেই প্রসার। প্রচারনার অংশ হিসেবে ফেসবুক প্রোমোট,  বিলবোর্ড এডভার্টাইজিং ইত্যাদি রাখতে পারেন। তাছাড়া ইকমার্স ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাখতে পারেন বিশেষ ছাড় এবং উপহার সামগ্রীও।
ইকমার্স ব্যবসায়ের জন্য ডোমেইন, হোষ্টিং সার্ভার, ওয়েবসাইট ডিজাইন, এসইও অথবা এ সংক্রান্ত যে কোন তথ্যের প্রয়োজনে আপনি উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকমের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৩৫-২৮৪৬১৭ নাম্বারে। আমরা চেষ্টা করব আপনাদের জন্য সঠিক দিক নির্দেশনা রাখার যাতে করে আপনি এগিয়ে যেতে পারেন ইকমার্স ব্যবসায়ে সাফল্যের পথে।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসার আইডিয়া

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসার আইডিয়া

connessione adsl2ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছে দ্রুত গতিতে। আর সেই পথে গতি এনেছে ইন্টারনেট। তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ খুব বেশী এগোতে না পারলেও সাফল্য কিন্তু কম নয়। মুক্তপেশা ফ্রিল্যান্সিং এ তরুনরা এগিয়ে চলেছে সমান তালে। সফটওয়্যার রপ্তানীতেও বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে তরুন প্রজন্ম এগিয়ে চলছে সমান তালে। যদিও উন্নত বিশ্ব যখন ফাইভ জি নেটওয়ার্ক নিয়ে এগিয়ে চলছে সেখানে আমরা এখনও থ্রিজি সেবা পৌছে দিতে পারি নাই প্রতিটি জেলা শহরে। আর এই পিছিয়ে পড়া থেকে এগিয়ে যাওয়ার পথে তৈরী হয়েছে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা।
snekআমাদের অনেকেরই হয়ত জানা নেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসা সম্পর্কে। আমি মাসুদুর রহমান আজ আপনাদের এ বিষয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। সাথে থাকবেন আশা রাখছি।
কম টাকায় উচ্চ গতির ইন্টারনেট পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। আনলিমিটেড প্যাকেজ, স্বল্প মূল্য এবং নিরবিচ্ছিন্ন সঠিক গতির নিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ মানুষ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে আগ্রহী। কিন্তু আমাদের দেশের খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবসা যদিও অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এব্যবসা সম্পর্কে জানার সীমাবদ্ধতার কারনে শুরু করতে পারছেন না অনেকেই।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসা মূলত ইন্টারনেট ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসা। বিভিন্ন ভাবেই মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। যেমন ওয়ারল্যাস, ওয়াইফাই, ওয়াইম্যাক্স, ব্রডব্যান্ড। এগুলোর মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে সবচেয়ে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া যায় গ্রাহকদের।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবসা করতে সর্বপ্রথম ধারনা নিন আপনার নির্ধারিত ব্যবসায়িক এলাকায় কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কেমন। যদি সন্তোষজনক হয় তাহলে শুরু করতে পারেন। ব্রডব্যান্ড ব্যবসা করার জন্য বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স নিতে হবে আপনাকে। লাইসেন্স করার জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।  ফরমে বর্ণিত সকল কাগজপত্র সংযুক্ত করে বিটিআরসি হেড অফিসে জমা দিতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আবেদন করার তিন মাসের মধ্যেই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন আপনি। লাইসেন্স পাওয়ার পর আপনাকে কিনতে হবে ব্যান্ডউইথ।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসার জন্য সবার আগে প্রয়োজন হবে ব্যান্ডউইথ। আর ব্যান্ডউইথ আসে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে। তাই প্রথমে দেখতে হবে যে আপনার ব্যবসায়ীক এলাকায় অপটিক্যাল ফাইবার আছে কিনা। শুধু ফাইবার থাকলেই হবে না কানেকশন দেওয়ার পপস পোর্টও থাকতে হবে। বিটিসিএলের ফাইবার লাইনের পপস পোর্ট আছে শুধুমাত্র জেলা শহরগুলোতে। তাতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মোবাইল অপারেটরদের ৩জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কারণে এখন গ্রাম পর্যায়েও অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছে গেছে। বেসরকারি আইআইজি  (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) গুলো প্রায় সারাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। আপনাকে সেসব আইআইজি এর কাছ থেকে জেনে নিতে হবে আপনার এলাকায় তাদের অপটিক্যাল ফাইবারের পপস পোর্ট আছে কিনা।
কম দামে ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে ও সারাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে এমন কয়েকটি আইআইজি হল বিটিসিএল, ম্যাঙ্গো টেলিকম, সামিট কামিউনিকেশন, বাংলা ফোন, ভার্গো কামিউনিকেশন, ফাইবার এ্যাট হোম, নভোকম ও বিডি লিংক কামিউনিকেশন। আমাদের দেশে মোট ৩৬ টি ব্যান্ডউইথ প্রোভাইডার রয়েছে। আপনি এদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে ব্যান্ডউইথ কিনে নিতে পারবেন।
যদি আপনার কাছাকাছি পোর্ট থাকে তাইলে ব্যবসা শুরু করতে আর বাধা নেই। কাছাকাছি না হয়ে একটু দূরে পোর্ট থাকলে সেখান থেকেও রেডিও লিংক করে আনতে পারবেন। আর যদি পপস পোর্টের দূরত্ব বেশি হয় তাইলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ নিতে পারবেন বা মাইক্রোওয়েভ দ্বারা কানেক্টেড মোবাইল টাওয়ারের বিটিএস থেকেও নিতে পারবেন ব্যান্ডউইথ। তবে এই দুই পদ্ধতিতেই ব্যান্ডউইথের দাম অনেক বেশি পরবে। বিভাগীয় শহরগুলিতে অনেক আইএসপি কম দামে সাবলাইন দিয়ে থাকে। তাদের থেকে ব্যান্ডউইথ নিয়েও ব্যবসা করতে পারবেন আপনি।
fibre-internet_718ব্রডব্যান্ড ব্যবসা করতে হলে আপনাকে কিছু যন্ত্রপাতি কিনতে হবে। সেগুলি হল স্পিড কন্ট্রোল করার জন্য মাইক্রোটিক রাউটার, মিডিয়া কনভার্টার, ক্যাবল,  পিসি, বেজ ষ্টেশন স্থাপন করার জন্য সুইচ ও বক্স। সেই সাথে আপনাকে চব্বিশ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে মাইক্রোটিক রাউটার চালু রাখার জন্য।
প্রাথমিক ভাবে দুই লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেই শুরু করতে পারবেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ব্যবসা।  পর্যায়ক্রমে ব্যবসার পরিধির উপর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে আপনাকে। প্রাথমিক বিনিয়োগ থেকে আপনি প্রতি মাসে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। ব্যবসার পরিধি বাড়ার সাথে সাথে আয়ের পরিমানও বাড়বে।
প্রথমেই বলেছি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায় ঝুঁকি অনেক কম। কারণ এই ব্যবসায় শুরুতেই একবার সব কিছু স্থাপন করে নিলে তারপর ব্যান্ডউইথ কেনা ছাড়া তেমন কোন খরচ নেই। বর্ষাকালটা যদিও ব্রডব্যান্ড ব্যবসার জন্য শত্রুতামুলক আচরন করে। কারন বজ্রপাতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
আপনার ব্যবসায়িক এলাকায় আপনি যে ব্রডব্যান্ড ইন্টানেটের সার্ভিস নিয়ে এসেছেন সেটা তো মানুষকে জানাতে হবে। আর এর জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রচার করতে হবে। যেহেতু আপনি একটা এলাকা টার্গেট করে ব্যবসায় নামবেন সেহেতু  মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে তেমন বড় বাজেট রাখতে হবে না। লিফলেটে আপনার প্যাকেজ সমূহ, প্যাকেজ মূল্য, স্পিড, শর্তাদি ইত্যাদি বিস্তারিত লিখে আপনার টার্গেটকৃত এলাকায় বিতরণ করতে হবে। আগে থেকেই কোন আইএসপি থাকলে তাদের সাথে কম্পেয়ার করে রেট নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া সরাসরি বাসায় বাসায় গিয়ে, মাইকিং করে, ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে, পরিচিত মহলকে অনুরোধ করেও মার্কেটিং করতে পারেন।
এই ব্যবসা যেহেতু ব্যবহারকারী ভিত্তিক এবং এক ব্যবহারকারীর সাথে আরেক ব্যবহারকারী সম্পর্কযুক্ত থাকে তাই আপনার বর্তমান ব্যবহারকারীদের বিশেষ ডিসকাউন্টের অফার দিয়ে প্রভাবিত করেও উইজার বাড়াতে পারবেন। এ ছাড়াও এমন ঘোষণা দিতে পারেন প্রথম নির্দিষ্ট সংখ্যার কিছু ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট পাবেন। এতে করে দ্রুত কাস্টমার পাওয়া আপনার জন্য সহজ হবে।
এই ব্যবসায় আপনি কর্মী নিয়োগ দিতে চাইলে দেখতে হবে সে মাইক্রোটিক রাউটার কন্ট্রোলিং এর কাজ জানে কিনা, নতুন পোর্ট বানানো, সুইচ, কানেকশন দিতে পারে কিনা, যোগাযোগ দক্ষতা কেমন, মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা কেমন। এ ছাড়াও যোগ্যতা হিসেবে বাই সাইকেল চালানো জানলে বাড়তি সুবিধা পাবেন। কেননা দূর দূরান্তে গিয়ে লাইন ঠিক করতে হবে।
আপনার কাস্টমারদের সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আপনাকে। তারা খারাপ কিছু করলেও তাদের উপর রাগ করা যাবে না। গভীর রাতেও অনেকে ফোন করতে পারে আপনার সেবার জন্য। তাতে বিরক্ত হওয়া চলবে না আপনাকে।

Native Banner