IT IS HOT NEWS. Some information and news unknown to everyone. Which is only possible in F S S T S T L. SO keeps watching and keeps telling others.
Banner 468x60 for
বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৯
লুমিনাতি
#ইলুমিনাতি__কী?
`ইলুমিনাতি’ একটি রহস্যপূর্ণ গোপন সংগঠন যার সদস্যবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ এবং বিশ্ব মিডিয়ার রাঘব বোয়ালগন। ইলুমিনাতি একটি গুপ্তসভা যা বিশ্বের সকল দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে দেশে অত্যাচারী সরকার ব্যবস্থা কায়েম করে দেশ ও জাতি নির্বিশেষে মানুষের ধর্মীয়, মানবিক, সামাজিক এমনকি ব্যক্তিগত অস্তিত্বের উপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা।
ইলুমিনাতি মূলত বিভিন্ন শক্তিশালী ধর্মীয় সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সরকার ব্যবস্থার মধ্যে অনুপ্রবেশ করে এবং মিডিয়া ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমূহের মালিকানা এবং কর্তৃত্ব গ্রহণ করে বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় প্রধান প্রধান যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে আরও হবে। বিশ্বের নানা ধরণের বিপ্লব, অর্থনৈতিক মন্দার জন্য মূলত এরাই দায়ী। এমনকি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ৯/১১ এর জন্যও এদেরকে দায়ী করা হয়। চলমান `সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ও দেশে দেশে পুলিশি রাষ্ট্র কায়েমের জন্য তাদের একটি অজুহাত মাত্র।
`কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্টেল স্ক্রিপ্ট’ হচ্ছে ঐতিহাসিক এবং সংস্কৃতিগত ভাবে এদের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এদের মূল অস্ত্র হচ্ছে যুদ্ধ, যা তারা তাদের বিত্ত এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাথা খাটিয়ে বাধিয়ে থাকে। যুদ্ধ করার জন্য এরা প্রথমে প্রচুর পরিমাণে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ধান্দা করে এবং পরে পুনর্গঠনের নামে আবারো সমৃদ্ধ করে তাদের অর্থের ভান্ডার।
ইলুমিনাতি `গণতন্ত্র’ এবং চার্চাকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বংশগত ভাবে অভিজাত শ্রেণীর ক্ষমতা এবং তাদের অর্থের ক্ষমতার মাধ্যমে। রাজনীতি এবং চার্চ এখন তাদের সম্পূর্ণ দখলে।
ইলুমিনাতি ব্যাংকারগণ ক্রমবর্ধমান ভাবে দখলে নিয়েছে বিশ্বের সকল দেশের ঋণ ব্যবস্থাকে। একটি সর্বগ্রাসী বিশ্ব সরকার বা `দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ কায়েমের লক্ষ্যে এবং তাদের নিজস্ব ঋণ সমূহকে নিরাপদ রাখতে ও সুদমুক্ত বা বিনামূল্যে ঋণ পেতে তারা রাষ্ট্রগুলোকে খেলাপী করে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের অধিকাংশ নেতা আন্তর্জাতিক এই সংগঠনের কনিষ্ঠ সদস্য। এই সকল সদস্যকে ব্ল্যাকমেইলিং, অবৈধ যৌন আনন্দ প্রদান, অর্থনৈতিক সুবিধা কিংবা শোষণ, নির্যাতন এমনকি হত্যার হুমকি দিয়ে সংগঠনভুক্ত করা হয়।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ছিল সপ্তদশ শতাব্দী থেকে ইলুমিনাতির বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার একটি ছদ্মরূপ। একই কারণে, উনিশ শতকে জার্মানি গড়ে ওঠার পর তারা দু’দুটো বিশ্বযুদ্ধ মঞ্চায়ন করে, তারপর আরও একটি লাভজনক স্নায়ু যুদ্ধের সূচনা করে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে। আর এখন তাদের লক্ষ্য, আমেরিকার ঘাড়ে পা দিয়ে সকল ক্ষমতা তথাকথিত বিশ্ব সরকার ব্যবস্থার কাছে হস্তান্তর করা যা কিনা পুরোটাই তাদের নিয়ন্ত্রণে।
ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে থাকে, কারণ এটা একটি পূর্বলিখিত স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করে চলে। দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে `রথসচাইল্ড ব্যাংকিং সিন্ডিকেট’ স্বৈর শাসনকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ইলুমিনাতিকে ব্যবহার করে আসছে যুদ্ধের মদদ দাতা হিসেবে। ইলুমিনাতি নিয়ন্ত্রণ করে সকল দিক। আমরা সবাই দাবার গুটি হিসেবে নিয়ন্ত্রিত হই যা কিনা ইলুমিনাতি তৈরী করেছে আমাদের বর্তমান সভ্যতা ধ্বংস করতে এবং আমাদের ধ্বংসস্তূপের উপর তৈরী করতে চাইছে তাদের নতুন বিশ্ব স্বৈর ব্যবস্থা।
#কিভাবে__তৈরী__হলো__ইলুমিনাতি?
আধুনিক ইলুমিনাতির প্রতিষ্ঠাতা এমশেল মেয়ার রথসচাইল্ড ১৭৭০ সালে `এমশেল মেয়ার রথসচাইল্ড’ এর নেতৃত্বে ইউরোপীয় ব্যাংকার সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করে ইলুমিনাতি নামের এই সংগঠনটির। ইলুমিনাতি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্ট ধর্মের বিনাশ, রাজতন্ত্রের বিনাশ, বিশ্ব সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক বন্ধন এবং বিবাহ ছিন্ন করা, উত্তরাধিকার এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার রদ করা এবং সর্বোপরি জাতিগত পরিচয় মুছে ফেলা।
১৭৭৩ সালে রথসচাইল্ড ১২ জন ইহুদি ক্যাবালিস্ট ব্যাংকারদের নিয়ে অর্থনৈতিক আধিপত্য বিষয়ে একটি পরিকল্পনা সভার আয়োজন করেন এবং ১৭৭৬ সালে এই দলটি এডাম ওয়াইশপট নামে ২২ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইন্সট্রাক্টরকে নিয়োগ দেয় ইলুমিনাতিকে পুনর্গঠিত করতে। এই এডাম ছিল একজন ইহুদি ধর্মযাজকের ছেলে কিন্তু সে নিজেকে পরিচয় দিত একজন ক্যাথলিক হিসেবে। ১৭ থেকে ২০ শতকের মধ্যে যতগুলি বিপ্লব এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে তার পিছনে ছিল এই ক্যাবালিস্ট ব্যাংকারদের হাত। এদের একচেটিয়া ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণ ছিল সরকারের ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে এবং এটা তারা ব্যবহার করেছে বিশ্ব জয় করার জন্য।
ইলুমিনাতি কখনোই নিজের নামে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতো না বা করে না। এরা সবসময় নিজেদের পর্দার আড়ালে রাখে এবং অন্যের দ্বারা নিজেদের কাজ করিয়ে নিতে অভ্যস্ত। এ ব্যাপারে এডাম ওয়াইশপট তার লেখনীতে বলেছিলো যে, `আমাদের কর্মকান্ডের শক্তি হচ্ছে আমাদের লুকায়িত পরিচয়। একে উন্মোচিত করো না কখনো এবং কোথাও। সকল কাজ অন্যের নামে এবং অন্যকে দিয়ে করিয়ে নাও’।
রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে যে কোনো ধর্মের ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী তা সে যে কোনো দেশেরই হোক তাদের অনেকেই গোপনে এই সংগঠনের সদস্য যা হয়তো তার পরিবারের লোকও জানে না। আপনার আমার আশে পাশেই হয়তো এমন অনেক প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব আছেন যাঁদের আমরা সম্মানের চোখে দেখি, তাঁরাও হয়তো এর সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়। সাধারণত এই লোকগুলো রাষ্ট্রের প্রচন্ড ক্ষমতাধর এবং প্রভাবশালী হয়ে থাকেন।
#ইলুমিনাতি_যে_সব_মার্কিন প্রেসিডেন্ট হত্যার সাথে জড়িত:
২০০৫ সালে স্যামুয়েল চার্চিল তাঁর মৃত্যুশয্যায় `মার্ডি গ্রাস সিক্রেটস’ নামে পরিচিত যে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন তাতে তিনি বলেন `ইলুমিনাতি এজেন্ট বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হেনরী হ্যারিসন এবং জ্যাকরী টেইলরকে হত্যা করে। তারা ১৮৫৭ সালে জেমস বুকাননকেও বিষ প্রয়োগ করে কিন্তু তিনি ভাগ্যগুনে বেঁচে যান…’। এই তিনজনই বাধা দিয়েছিলেন ইলুমিনাতি-রথসচাইল্ড পরিকল্পিত ১৮৬০ থেকে ১৮৬৫ সালের মার্কিন গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনায়। একই ডকুমেন্ট উল্লেখ করে যে, প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন এবং সিনেটর হিউ লং হত্যাকাণ্ডেও ইলুমিনাতির হাত ছিল। এ ছাড়াও উক্ত ডকুমেন্ট থেকে জানা যায় যে, প্রেসিডেন্ট কেনেডি, গারফিল্ড, ম্যাককিনলে এবং ওয়ারেন হার্ডিংও নিহত হন ইলুমিনাতিৰ যোগ সাজোশে।
এমনকি হালের বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা পল ওয়াকারের মৃত্যুকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে যে, এটা নিছক দুর্ঘটনা ছিল না বরং এটা ছিল একটি পরিষ্কার হত্যাকাণ্ড এবং যার পিছনে সম্ভবত ইলুমিনাতির হাত রয়েছে। (সূত্র: Was Paul Walker Killed By The Illuminati?)
স্যামুয়েল চার্চিল ছিলেন গুপ্ত নিউ অর্লিন্স মার্ডি গ্রাস সোসাইটির একজন উচ্চ পর্যায়ের সদস্য। এই সংগঠনটি `The Mystick Crewe of Comus’ নামেও পরিচিত। এই সংগঠনটি ১৮৫৭ সালে মার্ডি গ্রাস উৎসবের পুনঃপ্রচলন করে যার একটি অংশ ছিল `স্কাল এন্ড বোন্স’ নামে। চার্চিল বলেন ইলুমিনাতির রিং লিডার ছিলেন ক্যালেব কাশিং নামে একজন মার্কিন কূটনীতিক যিনি উইলিয়াম রাসেল নামে একজন আফিম চোরাকারবারিরও পার্টনার ছিলেন। এরাই মূলত ১৮৩২ সালে স্কাল এন্ড বোন্স সোসাইটি তৈরী করেন। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটানোই এই সংগঠনটির প্রধান কাজ। বিশেষত যারা ইলুমিনাতি কিংবা রথসচাইল্ডের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে থাকে তাদের হত্যা করে বিশ্বের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা দখল করাই এদের মূল উদ্দেশ্য।
স্কাল এন্ড বোন্স সোসাইটির ক্ষমতাধর সদস্যবৃন্দ
‘মার্ডি গ্রাস সিক্রেটস’ এর মতে আমেরিকা যদি তার গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে চায় তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে হবে। ঐতিহাসিক ভাবে `ইলুমিনাতি-রথসচাইল্ড’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যাঁরা এই নিয়ন্ত্রণকে অস্বীকার করেন তাঁরা একটি ফ্যান্টাসির মধ্যে বসবাস করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র `ইলুমিনাতি-রথসচাইল্ড’ এর একটি ক্রাউন ফিনান্সিয়াল কলোনী মাত্র:১৯০১ থেকে ১৯০৯ সালে টেডি রুজভেল্ট প্রশাসনের সময়ে মূলত ব্রিটিশ ব্যাংকারগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং ব্যবসায় বাণিজ্য অধিগ্রহণ করে। সেই সময় জে. পি. মরগানকে সামনে রেখে রথসচাইল্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ ভাগ ব্যবসায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের আসল পরিচয়কে আড়াল করে এর ছদ্মনাম দেওয়া হয় `ক্রাউন’। ক্রাউন শব্দটি একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় আন্তর্জাতিক ফিনান্সিয়াল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে যার প্রধান কার্যালয় ছিল লন্ডনে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কোনো নিয়ম এদের জন্য প্রযোজ্য ছিল না। এটা ছিল একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন বিশ্ব ক্ষমতার প্রতীক।
ব্রিটিশ, আমেরিকান, জার্মান, জাপানিজ এমনকি ইহুদি সাম্রাজ্যবাদ বলে আসলে কিছু নেই। এরা সবাই এই একক রথসচাইল্ড সাম্রাজ্যবাদের পুতুল মাত্র যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইল সহ পুরো পৃথিবীকে একটি উপনিবেশ বানিয়ে রেখেছে। এবং এটাই হচ্ছে `দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’।
শেষ কথা:বাংলাদেশ কিংবা তৃতীয় বিশ্বতো কোন ছাড়, আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্প বা হিলারী ক্লিনটনকে নিয়ে যতই গলা ফাটাই, ইলুমিনাতি যাকে চাইবে সেই হবে আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। সুতরাং যুদ্ধের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, শোষনের বিরুদ্ধে যতই লেখালেখি, প্রতিবাদ আর সভা সেমিনার করেন, কিছুতেই কিছু হবে বলে মনে হয় না। সবই চলে ইলুমিনাতির সুতোর টানে।
লেখাটা খুবই জরুরী!! অদ্ভুত একটা বিষয়, কিন্তু সবার জানাটা উচিত। শুনলে অবাক লাগে। মনে হয়, না... এসব সত্য না। এজন্যেই মূলত লেখা। ইন্টারেস্ট থাকলে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যায় সহজেই- 'ইলুমিনাতি' বিষয়টা নিয়ে আমাদের জ্ঞান খুবই অল্প। বাঙালীরা তো জানি'ই না। যারা মুভিখোরের পর্যায়ে পড়ে তারা বিভিন্ন মুভি দেখে এই শব্দটা মোটামুটি শুনেছেন.... অল্প কথায় একটু আইডিয়া দিই। আমেরিকা নামক রাষ্ট্রটি নিয়ন্ত্রণ করে ইলুমিনাতি নামক একটি গ্রুপ। যারা শয়তানের পূজা করে। অর্থাৎ 'ডেভিল ওরশিপার'। আমেরিকার প্রত্যেকটি প্রেসিডেন্ট এই ইলুমিনাতি দলের সদস্য। আমেরিকান সরকার আমেরিকান সিটিজেনদের প্রয়োজনের চেয়েও অতিরিক্ত সুযোগ- সুবিধা দেয় একটা কারণে... যাতে তারা হাতের কাছে সবকিছু পেতে পেতে আস্তে আস্তে অলস হয়ে পড়ে। এই অলস আমেরিকানরা যাতে প্রয়োজন হলে কোন ধরণের বিদ্রোহ বা রায়ট করতে না পারে.... যা'ই হোক। আগের প্রেসিডেন্টদের কথা থাক। সাম্প্রতিক কালে আসি। জর্জ ডাব্লিও বুশের বাবা জর্জ বুশ 'নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার' একটি প্রস্তাবনা আনেন। যার মূল বক্তব্য ছিলো এমন- বিশ্বের জনসংখ্যা কমিয়ে ২ বিলিয়নে নিয়ে আসতে হবে.... এরপর সেই ২০০ কোটি মানুষকে নিয়ে নতুন করে নতুন আইনে বিশ্ব পরিচালনা শুরু হবে।" বিশ্বের জনসংখ্যা কমিয়ে ২ বিলিয়নে আনার একটাই উপায়... একটা বিরাট মাস জেনোসাইড বা বড় গণহত্যা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ একটি উদাহরণ মাত্র। এবার সবচেয়ে ভয়াবহ কথাটি বলি... এইডস রোগের ভাইরাস সৃষ্টি করা হয়েছে আমেরিকার গোপন ল্যাবরেটরী তে... এই ভাইরাস টেস্ট করা হয় আফ্রিকারবানরের উপর। সেখান থেকে নানান পর্যায় ঘুরে একজন আমেরিকান সমকামী এই ভাইরাস আমেরিকায় নিয়ে আসেন। কয়েকদিন আগে মালেশিয়ান এয়ারলাইন্সের যে প্লেনটি উধাও হয়, সেটিতে বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী ছিলেন যারা এইডসের প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করছিলেন... তাঁদের কিছু টীম মেম্বারদের মতে তারা সফলতার বেশ কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। তবে কি তাঁদের হত্যা করার জন্যেই পুরো প্লেনগায়েব করে ফেলা হলো...?? নতুন ইবোলা ভাইরাসের সৃষ্টি করা হয়েছে আমেরিকান এয়ার ফোর্সের ল্যাবরেটরীতে... এরপর ছড়ানো হয়েছে আফ্রিকায়। কারণটা কি...?? আমেরিকার প্রত্যেকটা প্রেসিডেন্ট দুইবার করে নির্বাচিত। যারা দুইবারের বেশি নির্বাচিত হবার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন, তাঁদের আততায়ীর মাধ্যমে হত্যা করা হয়নি... যে আমেরিকার এফবিআই লাদেন বা সাদ্দাম হোসেনকে গর্তের ভেতর থেকে বের করে এনেছে, বিশ্বের সব শক্তিশালী স্যাটেলাইট যাঁদের... তারা নিজের দেশের প্রেডেন্টের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে পারলো না...?? একটু অবাক করার মতো বিষয় নয় কি?? জর্জ বুশের সন্তান পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হওইয়া জর্জ ডব্লিও বুশ কোন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। কিছু নির্দিষ্ট সিনেটরের সম্মতিতে তাঁকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়... যিনি ছিলেন ইলুমিনাতি দলের অন্যতম একজন নেতা। বুশ এসেই পৃথিবী কাঁপালেন কিছু ইস্যু দিয়ে। জর্জ বুশ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলেন শুধুমাত্র নাইন ইলেভেন বা টুইন টাওয়ার ট্র্যাজেডীর জন্য নেয়া একশনের কারণে.... যার নাম দেয়া হলো টেরোরিজম দমন'। একটা মজার বিষয়হলো বুশকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আনার জন্যে টুইন টাওয়ার ট্রাজেডী ছিলো সম্পূর্ণ সাজানো একটা নাটক। আমরা দুই আঙ্গুল উঁচিয়ে 'রক এন্ড রোল' এর যে সাইন দেখাই, সেটা শয়তানের সাইন। তাছাড়া স্ট্যাচু অফ লিবার্টির হাতে যে জ্বলন্ত মশাল আছে সেতাকে বলা হয় আলোকবর্তিকা। কিন্তু এই মশাল শয়তানের একটি রূপ 'লুসিফার' এর সাইন। ইলুমিনাতির সবচেয়ে পপুলার সাইন হলো একটি চোখ.... যেটি আমেরিকার এক ডলার নোটে আছে। 'দাজ্জাল' সম্পর্কে যারা জানেন, তাদের কি মনে পড়ে যে দাজ্জালেরও একটি চোখ থাকবে...?? যাকে ধ্বংস করার জন্যে আখেরী জমানায় আবার আসবেন ঈসা আ: ...?? তবে কি এই ইলুমিনাতি'ই দাজ্জাল...??? ইলুমিনাতির টিম মেম্বাররা ভয়ংকর স্মার্ট.... হলিউডে নায়ক-নায়িকা, পপ তারকা হতে হলে ইলুমিনাতি মেম্বার হতে হয়। ইলুমিনাতি যখনই টুইন টাওয়ার টাইপ কোন কান্ড ঘটাতে যায়, তখনই আমেরিকায় নতুন নোট চালু করে সেই নোটে ক্লু দিয়ে দিয়ে দেয়। একেবারে প্রকাশ্যে সবকিছু জানিয়ে তারপর কাজ সারে.... এমনি টুইন টাওয়ার ধ্বংসের কাহিনীও ২০০১ এর আগেই আমেরিকান ৫ ডলার নোটে দেয়া হয়েছিলো। কেউ সেটা বুঝতে পারে নি। ইলুমিনাতির সাইন আছে জাতিসংঘের লোগো তে, আছে এমিনেম বা লেডি গাগার ভিডিও তে। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার প্রচন্ড জনপ্রিয় সিম্পসন্স কার্টুনের নানান সময়ের এপিসোডে পরবর্তী ভয়াবহ ঘটনাগুলোর অনেক আগে থেকে ইঙ্গিত দিয়ে দেয়া.... যেমন ১৯৯৭ সালে ৯/১১ এর ঘটনার ইঙ্গিত, ২০১৪ বিশ্বকাপের ৩মাস আগেই জার্মানীর চ্যাম্পিয়ন হবার ইঙ্গিত, ১৯৯৭ তেই ইবোলা ভাইরাস আসার ইঙ্গিত... যেটার ব্রেকডাউন হয় ১৭ বছর পর ২০১৪ তে.... আজ থেকে ১৫ বছর আগে ২০০০ সালের একটি এপিসোডে তাঁরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করা এবং জয়ী হবার ঘটনা প্রচার করে। এর মাঝখানে অলরেডি দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেছে... এই কার্টুন ১৫ বছর আগেই এই ভবিষ্যদ্বাণী কিভাবে করলো...?? এখন ট্রাম্প নির্বাচিত হলেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে। ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসেরসামনে থেকে সে স্ট্রীট গুলো বিভিন্ন দিকে চলে গেছে, সেগুলো কে রেখা ধরে পরস্পর যোগ করা হলে পাওয়া যায় একটি পেন্টাগ্রাম বা পঞ্চভূজ। যা শয়তানের সাইন হিসেবে বেশ পাকাপোক্ত। ইউরোপ আমেরিকার প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপণা বানানো হয়েছে পিরামিডের আদলে.... যে পিরামিড ফারাওদের নিশান এবং একটি প্রধান ইলুমিনাতি সাইন। এতো কথা বলার একটা'ই কারণ। 'জানা' এবং 'জানানো'। সচেতন হবার সময় এসেছে... জ্ঞানের পরিধি খুলুক, এটাই কামনা। বাংলাদেশ কিংবা তৃতীয় বিশ্বতো কোন ছাড় নেই,, আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্প বা হিলারী ক্লিনটনকে নিয়ে যতই গলা ফাটাই, ইলুমিনাতি যাকে চাইবে সেই হবে আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। সুতরাং যুদ্ধের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, শোষনের বিরুদ্ধে যতই লেখালেখি, প্রতিবাদ আর সভা সেমিনার করেন, কিছুতেই কিছু হবে বলে মনে হয় না। সবই চলে ইলুমিনাতির সুতোর টানে।
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৯
সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮
মঙ্গলের মাটি স্পর্শ করেছে ইনসাইট
মহাকাশযান ইনসাইট।দীর্ঘ সাত মাসের যাত্রা শেষে মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে অবতরণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মনুষ্যবিহীন মহাকাশ যান ‘ইনসাইট।’ নাসার গবেষকেরা জানিয়েছেন, সোমবার মার্কিন স্থানীয় সময় বিকেল তিনটা ১০ মিনিটে মঙ্গল স্পর্শ করেছে এই যান। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।অবতরণের পর পরই নাসার ইনসাইট মিশনের কাছে সেখানে পৌঁছানোর বার্তা পাঠায় ইনসাইট। এর কিছুক্ষণ পরে অবতরণ স্থানের একটি ছবিও পাঠিয়ে দেয়। নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরি ইনসাইটকে নিয়ন্ত্রণ করছে। মঙ্গলে অবতরণের বার্তা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিজ্ঞানীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
ইনসাইট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এবারের এ মিশনকে ২০৩০ সালের দিকে মঙ্গল গ্রহে মানুষবাহী যান পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে নাসা।এই মুহূর্তে ইনসাইট রয়েছে মঙ্গলের বিষুব রেখার কাছে ‘ইলিসিয়াম প্ল্যানিশিয়া’ নামের একটি জায়গায়, যাকে নাসা গ্রহটির ‘সবচেয়ে বড় পার্কিং স্পেস’ বলছে। ২০১৮ সালের ৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ভ্যান্ডেনবার্গ এএফবি থেকে ‘ইনসাইট’কে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেমস ব্রাইডেনস্টিন দিনটিকে অসাধারণ বলে অভিহিত করেছেন। এ সাফল্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করে নাসা টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জেট প্রপালশন ল্যাবের পরিচালক মাইক ওয়াটকিনস তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, বিজ্ঞানচর্চায় আমাদের সাহসী ও অনুসন্ধানী হতে হবে।
গবেষকেরা বলছেন, মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠ বিশ্লেষণ করে এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার লক্ষ্যে রোবট যানটিকে পাঠানো হয়েছে। ইনসাইটে রয়েছে ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের তৈরি 'সিস' যা মঙ্গলের কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করবে। মঙ্গলে কোনো তরল পদার্থ আছে কি না তা পরীক্ষা করবে একটি যন্ত্র। ২০২০ সালে একটি রোভার মঙ্গলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই কাজ করবে ইনসাইট।
মহাকাশের প্রথম বিলাসবহুল হোটেল
বিলাসবহুল মহাকাশ হোটেল অরোরা স্টেশন।এক দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় দেখতে চান? মহাশূন্যে ভেসে বেড়াতে চান? মহাশূন্যে থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখায়, সে অভিজ্ঞতা নিতে চান? আর মাত্র চার বছর ধৈর্য ধরুন। গুছিয়ে ফেলুন ৭৮ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা বা ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। এ টাকা খরচ হবে বিশ্বের প্রথম বিলাসবহুল মহাকাশ হোটেলে থাকা-খাওয়ার বিল হিসেবে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ হোটেল সম্পর্কে নানা তথ্য।
হোটেলের নাম ‘অরোরা স্টেশন’। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান হোসেতে অনুষ্ঠিত স্পেস ২.০ সম্মেলনে ওই মহাকাশ হোটেল তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন স্প্যান ওই হোটেল তৈরি করবে। ১২ দিনের মহাকাশ সফরে এখানে দুজন ক্রু সদস্যসহ একসঙ্গে ছয়জন থাকতে পারবেন। ২০২২ সালে প্রথম অতিথি হিসেবে সেখানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
বার্গনার বলেন, মহাকাশ স্টেশনে যেতে নভোচারীদের ২৪ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু তাঁরা একে তিন মাসে নামিয়ে এনেছেন। ১২ দিনের এ রোমাঞ্চকর যাত্রা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ২০০ মাইল ওপরে লো আর্থ অরবিটে (এলইপি) উড়বেন। সেখান থেকে পৃথিবীর চমৎকার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ হোটেল পৃথিবীকে প্রতি ৩০ মিনিটে প্রদক্ষিণ করবে। অর্থাৎ হোটেলের অতিথিরা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১৬ বার সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। হোটেলে বসে অতিথিরা খাবার উৎপাদনের মতো গবেষণায় অংশ নিতে পারবেন। এসব খাবার তাঁরা উপহার হিসেবে পৃথিবীতে সঙ্গে নিতে পারবেন। উচ্চগতির ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সিস্টেম থাকবে সেখানে। সরাসরি পৃথিবীতে লাইভ ভিডিও চ্যাট করা যাবে। এ ছাড়া পৃথিবীতে ফেরার পর তাঁদের বিশেষ সম্মান জানানো হবে। ভরশূন্য অনুভূতির মজা নেওয়া ছাড়াও অতিথিরা মুক্তভাবে হোটেলের ভেতর ভেসে থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু প্রভার দৃশ্য দেখতে পাবেন।
যাঁরা এ সুযোগ হারাতে চান না, তাঁদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিতে শুরু করেছে ওরিয়ন স্প্যান। ৮০ হাজার ডলার দিয়ে আগাম বায়না করে রাখতে হবে। তবে পরে যদি কেউ পুরো অর্থ না দিতে পারেন, তবে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
অবশ্য মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে ওরিয়ন স্প্যানের মতো আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যাক্সিওম স্পেস। টেক্সাসভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের সাবেক এক ব্যবস্থাপক। ২০২৪ সালে একটি বাণিজ্যিক স্পেস স্টেশন চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু তারা এখনো খরচের কথা প্রকাশ করেনি। তবে আগে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে মহাকাশ ভ্রমণ করা ডেনিস টিটোর চেয়ে তখন মহাকাশ ভ্রমণে খরচ কম হবে বলেই জানিয়েছে তারা। ২০১৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ভ্রমণকারীদের পৌঁছে দেবে এক্সিওম। পরে নিজেদের স্টেশনে যাত্রী নিয়ে যাবে।
এদিকে রিচার্ড ব্র্যানসনের ভার্জিন গ্যালাকটিক আড়াই লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ভরশূন্য অভিজ্ঞতা দিতে কাজ করছে। ২০০৯ সালে এটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্রথম যাত্রা তারিখ ঠিক হয়নি।
অবশ্য মহাকাশ ভ্রমণে খরচ যা-ই হোক, যাত্রী খুব কম পাওয়া যাবে। তবে বার্গনার বলছেন, অরোরা স্টেশন শুধু হোটেল হিসেবে কাজ করবে না; এটি মহাশূন্যে ভরশূন্য অবস্থায় বিভিন্ন গবেষণা ও মহাশূন্যে কারিগরি কাজে মহাকাশ সংস্থাগুলোর জন্য কাজ করবে। বর্তমান বাজার চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও সুবিধা ওরিও স্প্যানে বাড়ানো যাবে বলেই জানান বার্গনার।
ছায়াপথের কেন্দ্রে ছোট কৃষ্ণগহ্বরের মেলা!
মিল্কিওয়ে বলে পরিচিত ছায়াপথের কেন্দ্রে ছোট অনেক কম ভরের কৃষ্ণগহ্বর আছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অলংকরণ। ছবি: রয়টার্স।আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে ছোট আকারের অজস্র কৃষ্ণগহ্বর আছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। কয়েক বছর ধরে কসমিক গ্যাসের আভা পর্যালোচনা করে কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে নতুন তথ্য জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।
কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চাক হেইলি ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা করছেন। ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের গ্রাসে পরিণত হওয়া কসমিক গ্যাসের আভা নিয়েই কাজকারবার তাঁর। জ্যোতির্বিদেরা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহার করে ওই আভা ধরতে পারেন।
পৃথিবীকে আবর্তন করা চান্দ্রা এক্স-রে অবজারভেটরি থেকে তথ্য ব্যবহার করেন গবেষকেরা। গবেষক হেইলির নেতৃত্বে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল ছায়াপথের কেন্দ্রের কয়েক আলোকবর্ষ দূরের ১২টি রঞ্জন রশ্মির উৎস বেছে নেন এবং ধারণা করেন, এগুলো ছোট কৃষ্ণগহ্বর থেকে আসছে।
এই গবেষণাবিষয়ক নিবন্ধ ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা যে এক ডজন কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেগুলো সূর্যের ভরের তুলনায় ১০ গুণ। এগুলো খুবই ছোট আকারের কৃষ্ণগহ্বর। কিন্তু সূর্যের চেয়ে ৪০ লাখ গুণ বেশি ভরের বিশাল কৃষ্ণগহ্বর সেখানে আছে।
গবেষকেরা বলেন, ছোট এসব কৃষ্ণগহ্বরের শিকার হওয়া নক্ষত্রগুলো খুঁজতে গিয়ে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। যখন কৃষ্ণগহ্বর একটি নক্ষত্রের সঙ্গে আবর্তিত হয়, তখন এর সঙ্গী নক্ষত্রটির সবকিছু গ্রাস করে ফেলে। এর ছায়ায় হারিয়ে যেতে থাকে নক্ষত্রের আলো। নক্ষত্রের সঙ্গে আবর্তিত হওয়ার এ পদ্ধতিকে বাইনারি সিস্টেম বলে। ধীরে ধীরে সঙ্গী নক্ষত্রকে গ্রাস করার সময় গরম গ্যাসের উজ্জ্বল চাকতি তৈরি হয়। এটিকে শক্তিশালী টেলিস্কোপের রঞ্জন রশ্মি দিয়ে দেখা যায়। হাজারো কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যেও তাই হেইলি ও তাঁর দল এ কৃষ্ণগহ্বরগুলো শনাক্ত করতে পেরেছেন।
হেইলি ও তাঁর দলের ধারণা, ছায়াপথে ১০ হাজারের মতো ছোট আকারের কৃষ্ণগহ্বর থাকতে পারে। জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা এ অনুমান করছেন। তাঁরা বলছেন, এ কৃষ্ণগহ্বর যদি ছায়াপথের কেন্দ্রে হতো, তবে তা এতটাই অনুজ্জ্বল থাকত, যা পৃথিবী থেকে শনাক্ত করা কঠিন। এগুলোর অধিকাংশই দেখতে পাওয়া যায় না, কারণ ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে তা অনেক দূরে।
নতুন সন্ধান পাওয়া ছোট আকারের এসব কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে চমকে উঠেছেন হেইলি। তাঁর মতে, যাদের সঙ্গী নক্ষত্র নেই, এমন কত কৃষ্ণগহ্বর ভেসে বেড়াচ্ছে, যা টেলিস্কোপে ধরা পড়ছে না। অসংখ্য কৃষ্ণগহ্বর সঙ্গীহীন থাকতে পারে।
আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ প্রকল্পের সদস্য সেরা মার্কস বলেন, ‘আমাদের ছায়াপথে অসংখ্য ছোটখাটো কৃষ্ণগহ্বরে ভরা—এমন তথ্যে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের ছোট পৃথিবীর জন্য এগুলো হুমকি নয়। তবে কেউ যদি ছায়াপথের কেন্দ্রে যান, তবে বড় কৃষ্ণগহ্বরের মতোই ছোটগুলো ভয়ংকর হয়ে দেখা দিতে পারে।’
প্রতিটি কৃষ্ণগহ্বরের ‘ঘটনা দিগন্ত’ নামের অদৃশ্য সীমানা আছে। এ থেকে কোনো কিছু এমনকি আলোও বের হয়ে আসতে পারে না। ওই দিগন্ত যে পার করে, সে-ই চিরতরে হারিয়ে যায়। কেউ যদি ওই ঘটনা দিগন্তে যায়, তবে ভয়ংকর মহাকর্ষীয় টানে তা হারিয়ে যাবে। কৃষ্ণগহ্বর যত ছোট, তার এই টেনে নেওয়ার শক্তি তত বেশি বা সেটি তত বেশি ঘনত্বের।
মহাজাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধরলে ছায়াপথের কেন্দ্রে কোনো জীবিত প্রাণী টিকতে পারবে না। এটা সৃষ্টির স্থান। হেইলির মতে, মহাজাগতিক বস্তুর সৃষ্টিস্থান এটি। এটি ঠিক উর্বর ভূমির মতো, যেখানে বড় বড় নক্ষত্র বেড়ে ওঠে এবং কৃষ্ণগহ্বরে বিলীন হয়ে আরেকটি নক্ষত্রকে গ্রাস করে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)
