Banner 468x60 for

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

দুর্লভ সূর্যগ্রহণে কুসুফ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে আমিরাতে


দুর্লভ সূর্যগ্রহণে কুসুফ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে আমিরাতে


দুর্লভ সূর্যগ্রহণে কুসুফ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে আমিরাতে
অ- অ অ+

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুর্লভ সূক্ষ্ম সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে সারা দেশের মসজিদে সালাতে কুসুফ অনুষ্ঠিত হবে।

আরব আমিরাতের ইসলামিক বিষয় ও যাকাত কর্তৃপক্ষের জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে যে ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টা ৪০ মিনিটে আবুধাবীর শেখ জায়েদ মসজিদ এবং অন্যান্য প্রধান মসজিদে 'কুসুফ' নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

বিরল এই সুর্যগ্রহণটি সর্বশেষে ১৮৪৭ সালে হয়েছিল। ইসলামী গবেষক ড. শেখ মোহাম্মদ আশমাউয়ের মতে, যখন সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ ঘটে, তখন মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুসুফের নামাজ পড়তেন।
নবীজির সময়, যখন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, তখন তিনি উদ্বিগ্নভাবে মসজিদে ছুটে গেলেন এবং তাঁর চাদরটি পেছনে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং লোকদের নামাজে নিয়ে গেলেন। তিনি যখন গ্রহণের ঘটনা ঘটে তখন লোকদের প্রার্থনা করার আদেশ করেছিলেন।

মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে, গ্রহণগুলি মানুষের ধার্মিক হওয়ার জন্য অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দারা আমিরাত স্পেস এজেন্সি কর্তৃক বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষকের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় বিনামূল্যে বিভিন্ন ইভেন্টে বিরল সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন। দেখার স্টেশনগুলো আল দাফরার মদিনাত জায়েদের নিকটে লিওয়া হিলস হোটেলে, কসর আল সরব মরুভূমি রিসর্ট এবং আবুধাবিতে মেরিনা মলে। দুবাইয়ের মুশরিফ পার্কের আল থুরায়া জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রেও আংশিক গ্রহণ দেখতে পারবেন বাসিন্দারা।

হাদিসের নির্দেশনা কতটুকু খাবেন? ইসলাম যা বলে

হাদিসের নির্দেশনা
কতটুকু খাবেন? ইসলাম যা বলে
মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

কতটুকু খাবেন? ইসলাম যা বলে
অ- অ অ+

বিজ্ঞানের উৎকর্ষের এই যুগে চিকিৎসাবিজ্ঞান সদর্পে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান জীবনযাত্রা সহজ ও সাবলীল করেছে। কিন্তু নানা কারণে মানুষের মধ্যে রোগব্যাধি ও অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধের উপাদানগুলো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, ব্লাড প্রেসার, শ্বাসকষ্ট, অনিদ্রা ইত্যাদি রোগ আধুনিক মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ভাইরাস ও অদ্ভুত রোগব্যাধি। এসব রোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডাক্তার ও হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু মানুষ আসলে কী পরিমাণ সুস্থ হচ্ছে বা সুস্থ থাকতে পারছে বা মানুষ কতটা ডাক্তারের ওপর আস্থা রাখতে পারে—সেটি এক অমীমাংসিত অধ্যায়। এসব রোগ ও রোগীর কূলকিনারা করতে না পেরে বর্তমানে এ কথার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যে কম আহার করুন, বেশিদিন বাঁচুন। আর মানুষকে বারবার এ কথা বলা হচ্ছে যে বেশি খেলে বহু রোগ সৃষ্টি হয়। প্রফেসর রিচার বার্ড এই মর্মে একটি তালিকাও প্রণয়ন করেছেন। তিনি লিখেছেন, বেশি খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে—

১. মস্তিষ্কের ব্যাধি, ২. চক্ষুরোগ, ৩. জিব ও গলার রোগ, ৪. বক্ষ ও ফুসফুসের ব্যাধি, ৫. হূদেরাগ, ৬. যকৃত্ ও পিত্তের রোগ, ৭. ডায়াবেটিস, ৮. উচ্চ রক্তচাপ, ৯. মস্তিষ্কের শিরা ফেটে যাওয়া, ১০. দুশ্চিন্তাগ্রস্ততা, ১১. অর্ধাঙ্গ রোগ, ১২. মনস্তাত্ত্বিক রোগ, ১৩. দেহের নিম্নাংশ অবশ হয়ে যাওয়া। (‘সান’ উইকলি, সুইডেন)

গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে এই তালিকা প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর তালিকা, যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মহানবী (সা.)-এর জীবনচরিত ও হাদিসের প্রতি লক্ষ করুন। তাঁর খাদ্যবিধি পাঠ করুন। তিনি বলেছেন, ‘পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৪৯)

পেটের এক-তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে পূর্ণ করতে বলার কারণ হলো, পানির মধ্যেও বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে—

পানির উপকারিতা নিম্নরূপ
শরীরে পানির অভাব পূরণ করা, রক্তের তরলতা বজায় রাখা, শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় দূষিত জিনিস নির্গত করতে সাহায্য করা, খাদ্যদ্রব্য হজম করতে সাহায্য করা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরের অম্ল-ক্ষারের স্বাভাবিকতা ঠিক রাখা, হরমোন তৈরি করতে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করা।

একজন ঈমানদার শুধু নামাজ-রোজায়ই তাঁর জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখেন না; তাঁর আহার-বিহার, নিদ্রা-জাগরণ—সব কিছুই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ মোতাবেক পরিচালিত হতে হবে।

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রহ.) নাফে (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইবনে ওমর (রা.) ততক্ষণ পর্যন্ত আহার করতেন না, যতক্ষণ না তাঁর সঙ্গে খাওয়ার জন্য একজন মিসকিনকে ডেকে আনা হতো। একবার আমি তাঁর সঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়ে এলাম। লোকটি খুব বেশি পরিমাণে আহার করল। তিনি বলেন, নাফে! এমন মানুষকে আমার কাছে নিয়ে আসবে না। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মুমিন এক পেটে খায়। আর কাফির সাত পেটে খায়। (মুসলিম, হাদিস : ২০৬০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৫২২০)

বর্তমানে মিক্সড ফুড, পাঁচমিশালি সবজির প্রতি জোর দেওয়া হয়। বিশেষভাবে সকালের নাশতায় পাঁচমিশালি সবজি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়। এ ধরনের খাবারের পুষ্টিগুণই শুধু বেশি নয়, বরং স্বাদেও অসাধারণ। এ বিষয়ে একটি হাদিস স্মরণীয়। সালামাহ (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিল। অবশেষে আমাদের কিছু সওয়ারির বাহন জবাই করার কথা ইচ্ছা করেছিলাম। তখন নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশে আমরা আমাদের খাদ্যদ্রব্য একত্র করলাম। আমরা একটি চামড়া বিছালাম এবং তাতে লোকদের খাদ্যদ্রব্য জমা করা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেটির প্রশস্ততা অনুমান করার জন্য দাঁড়ালাম এবং আমি আন্দাজ করলাম, সেটি একটি ছাগল বসার স্থানের সমান। আর আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দ শ জন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সবাই তৃপ্তির সঙ্গে খেলাম। তারপর আমাদের নিজ নিজ খাদ্য রাখার থলে পূর্ণ করে নিলাম...।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৪৩৬৯, ইফা)

এই হাদিসের ভাষ্য মতে, পাঁচমিশালি অল্প খাবার বহু মানুষের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থেকে তাঁর ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।

উপকারী দোয় শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া



শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া
অ- অ অ+

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম ওয়া নাউজুবিকা মিং শুরুরিহিম।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় তোমাকে যথেষ্ট ভাবছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাইছি।’

উপকার : আবু বুরদা ইবনে আবদুল্লাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তার পিতা তাকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতির আশঙ্কা করলে এই দোয়া পড়তেন।

জ্বলন্ত আগুনে উল্টো ঘি ঢাললেন ভারতীয় সেনাপ্রধান




জ্বলন্ত আগুনে উল্টো ঘি ঢাললেন ভারতীয় সেনাপ্রধান
অ- অ অ+

বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের খবরের শিরোনাম হলেন ভারতীয় সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াত। তাঁর বক্তব্য, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি নিয়ে ভারতে এখন অশান্তি তুঙ্গে। আগুন ছড়াচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতে। ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে। অশান্ত হায়দরাবাদ। ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে কাশ্মীর। এমন পরিস্থিতিতে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে আগুন যেন উস্কে দিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। বললেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্তে যে কোনো সময় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভারত প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা কোনো নতুন কথা নয়। গত কয়েক মাসে ভারত একাধিকবার দাবি করেছে যে, পাক সীমান্তরক্ষী বাহিনী অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালিয়েছে। পাকিস্তানও একাধিকবার একই দাবি করেছে। কিন্তু ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে কাশ্মীর পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিয়েছে, তাতে সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভারত সরকার বার বার দাবি করছে কাশ্মীর শান্ত। কিন্তু কাশ্মীরীদের এক বড় অংশের দাবি সেখানে পরিস্থিতি ভয়াবহ। ১৩৪ দিন ধরে কাশ্মীর কার্যত অবরুদ্ধ। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। হাসপাতাল থেকে ব্যবসা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে সেনাপ্রধানের মন্তব্যে কাশ্মীর উপত্যকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই মন্তব্যের জেরে সত্যি সত্যি যদি সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে তাতে এই মুহূর্তে ভারতের পক্ষে তা সামলানো তত সহজ হবে না। কারণ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিক্ষোভের জেরে সেনা বাহিনীর একটি বড় অংশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে উত্তর পূর্ব ভারতে। দেশের ভিতরেও প্রায় সর্বত্র বিক্ষোভ চলছে। এই মুহূর্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলানো মুশকিল।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, দেশের ভিতর দিকে দিকে বিক্ষোভ থেকে চোখ ঘোরানোর জন্যই কি এমন মন্তব্য করলেন রাওয়াত?

আগামী ৩১ ডিসেম্বর জেনারেল রাওয়াতের অবসর নেওয়ার কথা। তবে তার পরে তিনি দেশের নিরপত্তা প্রধান হতে পারেন। এই প্রথম এমন একটি পদ তৈরি করেছে সরকার। সেই পদে বসার কথা জেনারেল রাওয়াতের।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, তুমি মুসলিম : এলিজাবেথ ভ্যালেনসিয়া

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, তুমি মুসলিম : এলিজাবেথ ভ্যালেনসিয়া


আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, তুমি মুসলিম : এলিজাবেথ ভ্যালেনসিয়া
প্রতীকী ছবি

অ- অ অ+

‘ইসলামের শাশ্বত বাণী আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আমার কাছে জীবনটা আগে থেকেই বিষাদময় মনে হতো। নিজেকে অনেক সময় অনেক কষ্ট দিতাম। মা-বাবা আমার প্রয়োজনের সবই সরবরাহ করতেন। তার পরও তাঁদের প্রতি ক্রোধান্বিত হতাম। জীবনটা আমার কাছে বরাবর বিষাদময় মনে হতো। স্কুলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করতাম, যেন তারা অপরিচিত। মনে হতো, আমি যেমন নিজেকে চিনি না, তেমনি তাদেরও আমি চিনি না।

আমি আমার সাথিদের চেয়ে পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমি ক্লাস ফাঁকি দিতে শুরু করলাম, ফলাফল খারাপ করলাম। তখন মিথ্যা বলা শুরু করলাম এবং ক্রমেই নিজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হতে লাগলাম। বয়ফ্রেন্ডরাও আমাকে অপছন্দ করতে লাগল। সার্বিক দিক দিয়ে জ্বালা-যন্ত্রণা ক্রমে আমাকে অসহনীয় করে তুলল। আমার স্কুলের বন্ধু, মা-বাবা ও দাদা-দাদির কাছে বলতে শুরু করলাম আমার মানসিক অবস্থা। আমি অস্থির হয়ে ভাবতে শুরু করলাম আমি কী করব? তারপর হঠাৎ করেই একদিন মানসিক অবস্থা পরিবর্তনে আমি প্রার্থনা-উপাসনায় মনোযোগ দিলাম। কিন্তু ক্রমেই আমার মনের অবস্থা আরো কৌতূহলী, উচ্ছল হতে লাগল। বেড়ে গেল অনুসন্ধিৎসা। খুঁজতে লাগলাম কার উপাসনা করছি আমি। কোনো সমাধান পেলাম না। আমার সমস্যা আরো প্রকট হলো। আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হলো। আমার যেসব বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড ছিল, তাদের হিংসা করতাম।

এরই মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে স্কুল বন্ধ হলো। ৪ নভেম্বর শনিবার আমি একজনের দেখা পেলাম। তিনি আমাকে এক কপি পবিত্র কোরআন শরিফ উপহার দিলেন। আমি অধীর আগ্রহে পবিত্র কোরআন পাঠ করে তিন মাসে শেষ করলাম। এটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম একাধারে পাঠ করে শেষ করা কিতাব। কোরআনের প্রতিটি শব্দ ও বাক্য আমাকে আবেগতাড়িত করল। আমার অনুভূতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করল।

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০১ সাল। সেদিন আমি হঠাৎ কিছুটা বিষণ্নতায় ছিলাম। মনে মনে কোনো মুসলমান বন্ধুর টেলিফোন আশা করছিলাম। সেদিন আমি আমার স্কুল ফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড এমনকি মা-বাবার সম্পর্কের টানাপড়েন সইতে পারছিলাম না। প্রচণ্ড মানসিক দ্বন্দ্বে আমি ভুগছিলাম। সব প্রশংসা আল্লাহ পাকের, দরুদ ও সালাম নবীর ওপর। এই কঠিন সময়ে আমার মন পরিবর্তন হলো। আমি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে হামজায় গিয়ে সেখান থেকে কিছু মুসলমানের ফোন নম্বর সংগ্রহ করলাম। এক দম্পতির সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। উল্লেখ করলাম যে আমি বেশ কিছুদিন ধরে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করছি। ১৩ বছর বয়স্ক এক মুসলিম মেয়েকেও পেলাম। আমি বললাম, মুসলমান হতে চাই। কিন্তু কিভাবে হতে হয়? সে বলল, এটা খুবই সহজ ব্যাপার। অন্তর থেকে মনোযোগসহকারে ঘোষণা দিতে হবে, স্বীকার করতে হবে, আল্লাহ এক ও একমাত্র উপাস্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। মুসলিম মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, আমি এ ঘোষণা তার বাবা ও বাবার সহযোগীর সামনে দিতে প্রস্তুত কি না? আমি রাজি হলাম। দুজন সাক্ষীর সামনেই আমি তাওহিদের মহান বাণী মনে-প্রাণে স্বীকার করে গ্রহণ করলাম। আনন্দে আমি মনভরে, প্রাণভরে কিছু সময় ধরে কাঁদলাম। আমি সেই মুসলিম বোনকে ইসলাম গ্রহণের কাহিনি শোনালাম। সবাই অভিবাদন জানাল, দোয়া করল আল্লাহর দরবারে। আমি তারপর গোসল করলাম। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম, নিজেকে বললাম, তুমি মুসলমান। তুমি মুসলমান, ভুলে যেয়ো না, এই মুহূর্ত থেকে তুমি একজন মুসলিম নারী।

আমি দ্রুত নামাজ, রোজাসহ শরিয়তের বিধানাবলি শিখতে আরম্ভ করলাম। প্রয়োজনীয় সুরাগুলো মুখস্থ করলাম। স্কুলে যাওয়ার ফাঁকে আমি মাঝেমধ্যে মসজিদে যাওয়া শুরু করলাম। ইসলামী বইপুস্তক অধ্যয়ন শুরু করলাম। আস্তে আস্তে আমার মনের দৃঢ়তা বাড়তে থাকল। এরই মধ্যে আমি একদিন বাবার সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা করলাম। এ ব্যাপারে আলোচনায় কারো সঙ্গে আমার ভয় হতো না। ইসলামের কথা বলতে না বলতেই আমার ক্যাথলিক খ্রিস্টান পিতার ইসলাম সম্পর্কে ভুল ভাঙল।

ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার

ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার


ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার
অ- অ অ+

অতিরিক্ত ওজন হোক বা না হোক, আমরা সকলেই বিষাক্ত পদার্থ থেকে মুক্তি পেতে চাই। আপনি অবশ্যই জুস ডিটক্স, সালাদ ডিটক্স সম্পর্কে শুনেছেন, কিন্তু আপনি কি আপেল সিডার ভিনেগার ডিটক্সের কথা শুনেছেন? কিছু মশলার সাথে আপেল সিডার ভিনেগার একটি মিশ্রণ হল নতুন শুদ্ধি যা লোকেদের ওজন কমানোর চেষ্টা করছে।

ডিটক্স জনগণের ওজন হ্রাস করতে, তাদের কোলেস্টেরল কমাতে, রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে, রক্তচাপকে হ্রাস করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং শরীরের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

১–২ টেবিল-চামচ কাঁচা ছাপানো আপেল সিডার ভিনেগার, ২৫০ মিলি বিশুদ্ধ পানি এবং ১- ২ টেবিল চামচ সুইটেনার্স (মধু, ম্যাপেল সিরাপ বা স্টেভিয়া) নিন। সুবিধার জন্য অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (সপ্তাহ বা মাস) নিয়মিত এটি গ্রহণ করতে হবে।

২০০৯ সালে পরিচালিত একটি জাপানি গবেষণায় ১৫৫ জনকে নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল। এই লোকদের তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছিল যার একটি গ্রুপের একটি প্লাসবো ছিল, অন্য গ্রুপে ছিল ১ টেবিল চামচ এসিভি এবং তৃতীয় গ্রুপে ২ টেবিল চামচ এসিভি রয়েছে।

১২ সপ্তাহ পরে, এটি পাওয়া গেছে যে প্ল্যাসেবো ছিল এমন লোকেরা কোনও ওজন কমাতে পারেনি। যাদের ভিনেগার ছিল তারা অধ্যয়ন শেষে ২–৪ পাউন্ড কমিয়েছিলেন। আপেল সিডার ক্লিনসকে ব্যয় করা হয় বলে বলা হয়, যা আপনাকে ওজন কমাতে সহায়তা করতে পারে। ভিনেগারের অম্লতা কম পিএইচ এবং ধীরে ধীরে হজমকে সক্রিয় করতে পারে। ধীরে ধীরে হজম মানে পরিপূর্ণ হয়।

আরবদের বহু বিবাহ প্রথা ও কিছু কথা

আরবদের বহু বিবাহ প্রথা ও কিছু কথা


আরবদের বহু বিবাহ প্রথা ও কিছু কথা
অ- অ অ+

বিয়ে একটি সামাজিক ও ধমীয় প্রথা। তবে একাধিক বিয়ে নিয়ে রয়েছে নানা মত। একাধিক বিয়ে নিয়ে কেউ সুখী আবার কেউ বা দুঃখী। যেমন, আমিরাতের (ইউএই) আরবদের একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত ধ্যান-ধারণা কৌতুহলোদ্দীপক। একাধিক বিয়ে বা বউ নিয়ে তারা অত্যধিক সুখী না হলেও দুঃখী কাউকে দেখা যায় না। একাধিক বিয়ে নিয়ে আরবদের অনেকেই তেমন কিছু বলতে চান না। তবে অনেক ঘনিষ্ঠজনের কাছে প্রসঙ্গক্রমে বলেন অনেক কিছুই- সেসব থেকে জানা কিছু কিছু বিসয় তুলে ধরা হরো এখানে।

আমিরাতে বিয়ে করতে গেলে কনে পক্ষকে বিপুল পরিমাণ মোহরানার অর্থ দিতে হয়। এ কারণে বেশ কিছু আরব স্থানীয় আরব মেয়ের পরিবর্তে ভিনদেশি মেয়েদের বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আর আরব মেয়েরাও এতে তেমন একটা পিছিয়ে নেই। অবশ্য এখন অনেকেই একাকী জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। তাদের মতে সতীনের সঙ্গে ঘর করার চেয়ে একা থাকাই ভালো। এ কারণে অনেক আরব মেয়ে বিয়ে করেননি।

আবার অনেকে বিয়ে করে কিছুদিন সংসার করে পিতৃগৃহে বা নিজ ঘরে বসে আছেন। এখানে তালাক দেওয়া-নেওয়ার ঘটনা প্রচুর। যাদের ঘরে তিন-চারটা মেয়ে রয়েছে, তাদের ২-১ জনের বিয়ে হলেও ঘুরে ফিরে আবার তাদের বাপের বাড়িতেই দেখা যায়।

আহমদ আল শামসির (ছদ্মনাম) বয়স ৩৪, একটা কম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তার দুজন স্ত্রী এবং চারটি সন্তান। বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতেই বলে ওঠেন, “এখন পর্যন্ত দুটো। তবে চারটা পর্যন্ত করার ইচ্ছে। এখন দুইজনকে দুই ঘরে রাখি, ঝামেলা তেমন একটা হয় না।" কৌশলে সব কিছু ম্যানেজ করেন বলে জানান তিনি। তার বাবার, শ্বশুরের আর দাদারও দুটো করে বউ ছিল বলে জানান।

এস হারিবের (ছদ্মনাম) বয়স ৩২, একটি সরকারি অফিসের বিশেষ বিভাগের প্রধান। বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে জানান, বউ তার একটাই। তবে ছয়জন ছেলেমেয়ে। ২২ বছর বয়সে নিজের কাজিনকে বিয়ে করেন তিনি।

হারিব আরও জানান, তার বাবার তিন বউ, শ্বশুরের চার বউ। আর বিয়ে করবেন কিনা জানতে চাইলে জানান, অন্তত দুই থেকে তিনটি বিয়ে করবেন তিনি। তবে এখন নয়- তা হবে চল্লিশের পর।

তিনি আরো জানান, তার তিনটি মোবাইল, একটি মোবাইলে তিন চারজন গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ। পরে হয়তো এদের কাউকে বিয়ে করতে পারেন বলে জানান। বউয়ের সঙ্গে এদের কোনো সমস্যা হবে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, এসব কিছু ম্যানেজ করতে হবেই। শুধু বাড়ি, গাড়ি আলাদা করে দিলেই হলো। তবে তার বউ নাকি নিশ্চিত তার আরো দুই তিনজন সতীন আসবে।

আবু জিদান (ছদ্ম নাম) অর্থাৎ জিদানের বাবার বয়স ৫২ বছর। তার ছেলের নাম জিদান তাই তাকে সবাই আবু জিদান বলেই ডাকেন। আরবে কোনো ব্যক্তিকে তার বড় ছেলের নামের আগে আবু যুক্ত করে ডাকার রেওয়াজ রয়েছে। আবু জিদান একজন চৌকস ব্যবসায়ী, ঘরে রয়েছে তিনজন বউ। আলাদা দুই বাড়িতে দুই বউকে, আর তৃতীয়জনকে রেখেছেন একটি ফ্লাটে। ছেলেমেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করতেই মুচকি হেসে বলেন, “অনুমান করেন, কয়টি হবে?” বললাম, “১০ জন হবে।” মুচকি হেসে ‘হাঁ’ বললেন এ বুড়ো খোকা।

জানলাম, কয়েক মাস পূর্বে জর্ডান থেকে আরেকটি বিয়ে করে নিয়ে এসেছেন। তার আগে আনলেন মরক্কো থেকে একটি। কেন এসব করছেন- জিজ্ঞেস করলে বলেন, “মন তো আরো বেশি চায়।”

সালমা আলীর (ছন্দনাম) বয়স ৩৬। একটি সরকারি অফিসে ভালো চাকরি করতেন। চার সন্তান নিয়ে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন তিনি। চাকরির সুবাদে আলাপ ও দেখা হত ২৬ বছরের যুবক আলীর সঙ্গে। প্রতিদিনের আলাপে ফেঁসে যান আলী। একদিন সালমা আলীর ঘরে বউ হয়ে আসেন। তাদের রয়েছে এখন চারটি ছেলেমেয়ে। আগের ঘরের ছেলেরাও মায়ের সঙ্গে থাকেন। সালমা জানেন, সুযোগ বুঝে আলীও কয়েকটি বিয়ে করবেন।

তবে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে একাধিক প্রেমের প্রবণতা প্রবল থাকলেও বিয়ের প্রবণতা অনেক কমেছে। আরবের অনেক শেখের উপযুক্ত ছেলেরাও এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চান না। যাদের পেতে বা বিয়ে করতে অনেক মেয়েই পাগল। আরবের নতুন প্রজন্মও বোঝে, বিয়ে বা বহু বিবাহ সব সমস্যার সমাধান নয়। বহু বিবাহ তাদের রীতি; বাপ দাদারা করে এসেছেন, তাই তারা করেন। কিন্তু এখন অনেকেই এক বউ বা এক সংসারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যদিও নারী আসক্তিটা তাদের কমবেশি রয়েছেই।


মন্তব্য

Native Banner