Banner 468x60 for

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০

ধর্মান্ধতা দিয়ে করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে না

ধর্মান্ধতা দিয়ে করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে না

তসলিমা নাসরিন

ধর্মান্ধতা দিয়ে করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে না

ভারতে যা হচ্ছে তা হচ্ছে বলে বিশ্বাস হয় না। করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য গোমূত্র পানের ‘পার্টি’ হচ্ছে। দিল্লিতে গোমূত্র পার্টির আয়োজন করেছিল হিন্দু মহাসভা। করোনার কোনও প্রতিষেধক যেহেতু এখনও আবিষ্কার হয়নি, সেহেতু গোমূত্র পানই নাকি তাদের বাঁচাবে। দিল্লি থেকে কলকাতায় সংক্রামিত হয়েছে এই গোমূত্র পান। কলকাতাতেও গোমাতার পুজো এবং গোমূত্র পানের আসর বসেছে। গোমূত্রের মাধ্যমে ভাইরাস দূর হওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায়নি। যারা প্রচার করছে যে গোমূত্র রোগ সারায়, তারা কোনও ল্যাবে পরীক্ষা করেনি। ল্যাবে পরীক্ষা না করে গোমূত্র রোগবালাই দূর করবে, এমন দাবি করাটা লোক ঠকানো ছাড়া কিছুই নয়। এই অপপ্রচার বন্ধ হওয়া জরুরি। যারা ধর্মান্ধ, তারা তো কোনও কিছুর প্রমাণ দেখতে চায় না, এটাই মুশকিল। বিশ্বাসকে যারা যুক্তির ওপরে স্থান দেয়, তাদের তো গোমূত্র, উটমূত্র, নিজমূত্র কত বর্জ্য পান করতে হয়। আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র গোমূত্রের রোগ প্রতিরোধক গুণের দাবিকে বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি না দিলেও গোমূত্রের বিক্রি কিন্তু আকাশ ছুঁয়েছে। ধর্মান্ধতা এত প্রচ- যে কোথাও কোথাও গরুর দুধের চেয়ে আজ গোমূত্রের দাম বেশি! বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে ‘গোমূত্র চিকিৎসা ক্লিনিক’। বিক্রি হচ্ছে ‘গোমূত্র ক্যাপসুল’ এবং ‘ডিস্টিল্ড’ ও ‘মেডিকেটেড’ গোমূত্র! সৌদি আরবেও ছিল উটমূত্র বিক্রির দোকান। উটমূত্রও নাকি রোগ সারায়। আমার তো মনে হয় মধ্যপ্রাচ্যে যে মার্স ভাইরাস এসে ভয়ংকর কান্ড ঘটিয়েছিল, তার পেছনে উটমূত্র দায়ী। সৌদি সরকার উটমূত্র বিক্রি করা সে কারণেই হয়তো তখন বন্ধ করে দিয়েছিল। বাদুড় থেকে ভাইরাস উটে গেছে, উট থেকে মানুষে। মূত্রে লাভ তো হয় না, বরং ক্ষতি হয়। কিন্তু কে শুনবে কার কথা! ভারতের মতো দেশে যুক্তিবাদী চার্বাকের উত্তরসূরিরা আজ গোমূত্র পান করে ভাইরাস হটাতে চাইছে। ধর্মান্ধতা সম্বল করে মানব প্রজাতিকে সমূহ বিপদ থেকে বাঁচানো যায় না, শুধু লোক হাসানোর সার্কাস করা যায়। কেউ কেউ তো মন্দিরে মন্দিরে পুরোহিতদের মুখে মাস্ক, এমনকি দেব-দেবীর মূর্তির মুখেও মাস্ক পরিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ তো গায়ে গোবর লেপে বসে আছে। এই গোবর ভেদ করে নাকি ভাইরাস তাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারবে না। ধর্ম আর কুসংস্কার হাত ধরাধরি করে চলে। তিরুপতির মন্দির বন্ধ, সিরডি সাঁইবাবার মন্দির বন্ধ। বেলুড় মঠ বন্ধ। এই ভগবানই নাকি মানুষকে বাঁচায়। বিপদে মানুষকে রক্ষা করবে বলে মানুষ সারা বছর যাদের প্রার্থনা করে, তারাই মানুষের বিপদ দেখলে পালায়।
এ এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তন। কিন্তু বাঁচার জন্য এটি করতেই হচ্ছে। কারণ উপাসনাগারে গিয়ে তুমি কারো কাছ থেকে ভাইরাস নিয়ে এলে তুমি তো পুরো পরিবারকে সংক্রামিত করবে। ১ থেকে ১০০, ১০০ থেকে ১০,০০০ এভাবে সংক্রামিত হতে থাকবে, আর মরতে থাকবে মানুষ। এক ভাইরাসই মানুষ-প্রজাতিকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ধর্মানুসারীরা ভালো জানে যদি এই মুহূর্তে কেউ বাঁচায়, বাঁচাবে বিজ্ঞানীরা, যারা ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করায় ব্যস্ত। যাদের এই ব্যাপারে থ হয়ে যাওয়ার কথা, যাদের প্রচুর প্রশ্ন জাগার কথা, তারা, অগুনতি নিরীহ ধার্মিক দল, আজ কোথায়? অধিকাংশ লোক যেদিকে যায়, তারা সেদিকে যায়। কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে এই প্রশ্ন করে না। যারা যুক্তিবাদ বা মুক্তচিন্তা বিষয়ে কিছু জানে না। তারা কি আজও জানতে চাইবে না, যে উপাসনালয়ে গিয়ে উপাসনা করলে ঈশ্বর রোগ সারাবেন, সেই উপাসনালয় কেন মানুষের কল্যাণের জন্য বন্ধ করা হলো, তাহলে কি কোনও উপাসনালয়ই সত্যিকার উপকার করে না মানুষের?
ক্যাথলিকদের পবিত্র স্থান ভ্যাটিকেনের ভিতরেই পাওয়া গেছে করোনাভাইরাস। পোপ নাকি ঈশ্বরের সংগে যোগাযোগ করতে পারেন। কোথায়? তিনি তো ঈশ্বর প্রদত্ত কোনও ওষুধের নাম এখনও কিছু বলতে পারছেন না। ভ্যাটিকেনের ভিতর ভাইরাসের ভয়। পোপ জনসম্মুখে যাচ্ছেন না। জনগণের উপস্থিতিতে নানা রকম খ্রিস্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন হয় ভ্যাটিকেনে। ‘গুড ফ্রাইডে, ঈস্টার সব উৎসব অনুষ্ঠান এখন বাতিল করা হয়েছে, মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তাহলে ঈশ্বর কোথায়? ধার্মিকদের মনে কি এই প্রশ্নের উদয় হচ্ছে না?
প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত সব রকম ধর্ম প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অনুদান বন্ধ করে দেওয়া। মানুষের করের টাকায় আরাম করছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পোপ, পুরোহিত, যাজক ধর্ম ব্যবসায়ীরা। এরা তো মানুষের কোনও উপকার করছে না। মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। এরাই যত অনাচার, অত্যাচার, আর অন্যায় করে বেড়াচ্ছ। শিশুদের ধর্ষণ করছে। নারীবিরোধী বিধান দিচ্ছে। কী দরকার এইসব প্রতিষ্ঠানের? অকল্যাণ ছাড়া এগুলো আর কী করেছে শতাব্দীজুড়ে? মানুষ হত্যা, নারী নির্যাতন, দেশভাগ, রক্তপাত, মানুষের প্রতি মানুষের হিংসে আর ঘৃণা ছড়ানো ছাড়া? প্রচুর মানুষ যদিও তাদের গ্রাস থেকে ইতিমধ্যে মুক্ত করেছে নিজেদের, বিশেষ করে উন্নত সভ্য পৃথিবীতে, কিন্তু দারিদ্র্য, বৈষম্য, নারীবিদ্বেষ, বর্বরতা যেখানে ভীষণভাবে বিদ্যমান, সেখানে ঈশ্বরের পুজো আর্চাও ভীষণভাবে বিদ্যমান।
বিবর্তনের তত্ত্ব প্রচার করেছিলেন চার্লস ডারউইন ১৬০ বছর আগে। আজ অবধি তাঁর তত্ত্বকে খ-ন করতে পারেনি। মানুষ শিম্পাজি জাতীয় প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়ে মানুষ হয়েছে- ডারউইনেরও বহু আগে ষোলোশ’ শতাব্দীতে গ্যলেলিও গ্যলিলেই, তারও আগে কোপারনিকাস দেখিয়ে দিয়েছিলেন বাইবেলে মহাকাশ সম্পর্কে যে বার্তা আছে, তা ভুল। এরপরও কিন্তু পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ঈশ্বরে বিশ্বাস করেই গেছে। অদৃশ্য ঈশ্বর দৃশ্যমান হয়নি, আজ অবধি ঈশ্বরের অস্তিত্বের কোনও প্রমাণ মেলেনি, তারপরও কিন্তু মানুষ অন্ধের মতো বিশ্বাস করেই যাচ্ছে যে ঈশ্বর আছে। করোনাভাইরাস বিশ্বময় ছড়িয়ে যাওয়ার পর, যেহেতু মানুষ থেকে মানুষে সংক্রামিত হচ্ছে এই ভাইরাস, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সভা সম্মেলন যেখানে অনেক মানুষের জমায়েত হয়। মানুষ রোগ মুক্তির জন্য মন্দির গির্জা এবং নানা উপাসনালয়ে ছুটে যায়, সেই উপাসনালয়গুলোও বন্ধ। তাহলে তো এই-ই দাঁড়াচ্ছে, ঈশ্বর ভগবান কেউ রোগ সারায় না, রোগ সারায় বিজ্ঞানী! মানুষকে বাঁচায় কোনও অলৌকিক শক্তি নয়, মানুষের ভরসা মানুষ। ধার্মিকরাও এখন আর তাদের ঈশ্বরের দয়ার অপেক্ষায় বসে নেই, তারা অপেক্ষা করছে কবে ভ্যাক্সিন বের করবে বিজ্ঞানীরা।      

করোনায় মৃত ব্যক্তির গোসল-জানাজা-দাফনে অংশগ্রহণকারীদের যা করতে হবে

করোনায় মৃত ব্যক্তির গোসল-জানাজা-দাফনে অংশগ্রহণকারীদের যা করতে হবে


করোনায় মৃত ব্যক্তির গোসল-জানাজা-দাফনে অংশগ্রহণকারীদের যা করতে হবে
প্রতীকী ছবি

বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৭ মানুষ। এতে মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৭৯১ জনের। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে ভুগছে বিশ্ববাসী।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও বাংলাদেশেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি একজন বৃদ্ধ, বয়স ৭০ বছরেরও বেশি।
এদিকে, করোনাভাইরাসে মৃতদের গোসল, জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যববস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্যান্য দুর্যোগের তুলনায় করোনা আলাদা হওয়ায় সেই অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গোসল-জানাজা-দাফনে যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের নিরাপত্তামূলক পোশাক পরে অংশ নেওয়া উচিৎ। কারণ মৃত ব্যক্তি কিন্তু অলরেডি করোনা ভাইরাসের হটস্পট। যারাই যাবেন, নিরাপত্তামূলক পোশাক পরতে হবে এবং আসার সময় সেই পোশাক নষ্ট করে দিয়ে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নয়তো ওই ড্রেসগুলোর ভেতর ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা আছে।

হোম কোয়ারেন্টাইনের সিদ্ধান্ত কি আত্মঘাতি হয়ে যাবে না

''হোম কোয়ারেন্টাইনের সিদ্ধান্ত কি আত্মঘাতি হয়ে যাবে না?''

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ

  • Currently 0/5
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

হোম কোয়ারেন্টাইনের সিদ্বান্ত কি সঠিক ছিল?
সুনামগঞ্জের বাস্তবতায় আমার কাছে সঠিক মনে হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, ওমানসহ অনেক দেশ থেকে ৪০ জন প্রবাসী এসেছেন। তাদেরকে নিজের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলে বাড়িতে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন এবং সাংবাদিকরা লিখেছেন তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন না। মেলামেশা করছেন। বাইরে যাচ্ছেন। ছাতকে একজনকে গতকাল জরিমানা করা হয়েছে।
জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ শহরে চারজন যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। বিদেশ ফেরত যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেন না, ঘুরে বেড়ালেন, তাদের কারও শরীরে যদি করোনাভাইরাস থেকে থাকে তাহলে অবস্থা কি দাঁড়াবে?
হোম কোয়ারেন্টাইনের সিদ্বান্ত কি আত্মঘাতি হয়ে যাবে না?
কাজেই হোমকোয়ারেন্টাইনে নয়। তাদেরকে স্থান নির্ধারণ করে সে স্থানে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন রাখা হোক।

সমাধিক্ষেত্রে জায়গা নেই, লাশ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে শহরের বাইরে

সমাধিক্ষেত্রে জায়গা নেই, লাশ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে শহরের বাইরে


সমাধিক্ষেত্রে জায়গা নেই, লাশ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে শহরের বাইরে

ইতালির শহর বারগেমোতে মহামারী করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। শহরটিতে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে যে সমাধিক্ষেত্রে আর জায়গা অবশিষ্ট নেই। তাই বাধ্য হয়ে শহর কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো শহরের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বারগেমো শহরের বাইরে যেসব শহরের সমাধিক্ষেত্রে এখনো জায়গা খালি আছে সেখানে ওই মরদেহগুলো সমাধিস্থ করা হবে। মরদেহ পরিবহনে অংশ নিয়েছে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি গাড়ি।
বারগেমো শহরের মেয়র জিওর্জিও গোরি বলেছেন, করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ অনেকে টেস্ট করার আগেই মারা গেছে।
বারগেমো শহরের সমাধিক্ষেত্র ২৪ ঘণ্টাই মরদেহ সমাধিস্থ করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সূত্র: স্কাই নিউজ

মার্কিন সাংবাদিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা চীনের

মার্কিন সাংবাদিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা চীনের

মার্কিন সাংবাদিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা চীনের

মিডিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উত্তেজনার মধ্যে এবার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। গত মঙ্গলবার শি জিনপিং সরকার জানিয়েছে, নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ওয়াশিংটন পোস্টে কর্মরত মার্কিন সাংবাদিকদের চীন থেকে বের করে দেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি ভয়েস অব অ্যামেরিকা, টাইম ম্যাগাজিনের কাছে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়েছে চীন সরকার। 
চীন সরকার মার্কিন সাংবাদিকদের নির্দেশনা দিয়েছে, যাদের কাগজপত্রের মেয়াদ এ বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে, চার কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করবেন। সেই সঙ্গে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, চীনের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন সাংবাদিকদের কাজ করতে দেওয়া যাবে না। এমনকি হংকং এবং ম্যাকাওতে একই নিয়ম কার্যকর হবে। 
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন গণমাধ্যমগুলো চীনের গণমাধ্যমকে টার্গেট করে আক্রমণ করে। এটা একেবারে স্নায়ুযুদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন সে দেশের সরকার চালিত প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ জন চীনের নাগরিককে তাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারির দিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীন সরকার যখন হন্যে হয়ে কাজ করছিল, তখন মার্কিন গণমাধ্যমগুলো আক্রমণাত্মক লেখনি প্রকাশ করেছে। তার আগের বছরও চীন সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তালিকায় থাকা গণমাধ্যমগুলো।

লন্ডনে মসজিদ-স্কুল বন্ধ করে সেনা মোতায়েন

লন্ডনে মসজিদ-স্কুল বন্ধ করে সেনা মোতায়েন


লন্ডনে মসজিদ-স্কুল বন্ধ করে সেনা মোতায়েন

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার থেকে ব্রিটেনের বড় বড় মসজিদ, গীর্জা, সব স্কুল পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী মে ও জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য স্কুলের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলোও স্থগিত বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি। 
এই ঘোষণার সময়ই এই দুর্যোগ মোকাবেলায় লন্ডনের রাস্তায় নামানো হয়েছে কয়েক হাজার সেনাসদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০ হাজার সেনাসদস্যকে।
এছাড়া লন্ডনের ৪০টি পাতালরেল স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাতে আন্ডারগ্রাউন্ড বন্ধ থাকবে। সুপারস্টোরগুলোও ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু রাখা হয়েছে।
পাবলিক বাস-ট্রেন চালু থাকলেও তা সীমিত হয়ে আসবে। শুধুমাত্র ডাক্তার নার্স বা সেবা প্রদানকারীদের জন্য এই গণপরিবহন চালু থাকবে।   
খুব জরুরি না হলে নগরবাসীকে গণপরিবহন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন লন্ডনের মেয়র। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা বন্ধ করতে উপদেশ দেয়া হয়েছে। 
ইতোমধ্যে বিশিষ্ট ওলামেয়া কেরামগণ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ থাকবে। বাড়ি ভাড়া ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য ঘোষণা করেছেন প্রণোদনা। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে লন্ডনও লক ডাউনের দিকে যাচ্ছে বলেই ধারণা করছেন সবাই।
 
উল্লেখ্য মঙ্গলবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৭১। গত ২৪ ঘন্টায় তা বেড়ে ১০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ জনই ইংল্যান্ডের। আর পরীক্ষার পর ২,৬২৬ জনের মধ্যে করোনার লক্ষণ তথা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এদিকে, বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৮ হাজার। তবে করোনার সূতিকাগার চীনে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ক্রমশ কমছে।

করোনাকে পরাজিত করেছেন ৮৫ হাজার মানুষ, সচেতনতা ও চিকিৎসায় মিলবে সাড়া

করোনাকে পরাজিত করেছেন ৮৫ হাজার মানুষ, সচেতনতা ও চিকিৎসায় মিলবে সাড়া

করোনাকে পরাজিত করেছেন ৮৫ হাজার মানুষ, সচেতনতা ও চিকিৎসায় মিলবে সাড়া

কভিড-১৯ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘মহামারির চেয়েও ভয়ঙ্কর’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। এ পর্যন্ত গোটা বিশ্বে মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখের বেশি মানুষ। এ পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই ভাইরাস। তবে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৮৫ হাজার ৭৪৫ ব্যক্তি। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বয়সের মোট ৪৫ জনের উপর পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে এর টিকা। প্রায় ছ’সপ্তাহ ধরে চলবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘MRNA 1273’ নামের এই টিকার প্রয়োগ শুরু করেছেন আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ’ (NIH)-এর অধীন ‘দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস’ (NIAID)-র বিজ্ঞানীরা এবং তার সহযোগী বায়োটেকনোলজি সংস্থা মডার্না আইএনসি। 
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডঃ আসিফ ইকবাল (রেসপিরেটোরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার) জানান, এই ভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধার পরও প্রায় এক সপ্তাহ কোনও লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ৪-১০ দিন কোনও রকম উপসর্গই লক্ষ্য করা যায় না। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিন সাতেক পর থেকে হঠাৎ করেই জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথা ব্যথা শুরু হয়। তাই এ ক্ষেত্রে তার পরামর্শ, প্রত্যেকেরই ভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণগুলির অপেক্ষা না করে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া উচিৎ।
ডঃ ইকবাল জানান, করোনাভাইরাসের আকৃতি অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় বড়। বাতাসের মাধ্যমেও এই ভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। আমাদের হাঁচি-কাশি থেকে নির্গত ড্রপলেটসে থাকা ভাইরাস-কণা বাতাসে ৩০ মিনিটের বেশি সক্রিয় থাকতে পারে না। আপাতত নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধপত্র, যে কোনও কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথা ব্যথায় ভুগছেন এমন রোগীকে ‘আইসোলেশন’-এ রেখে বিশেষ পর্বেক্ষণে রাখা হচ্ছে। 

Native Banner