Banner 468x60 for

বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২

এখানে সেখানে ওয়ারসো স্মৃতিসৌধ

সমাজতান্ত্রিক দীনতা ঝেড়ে ফেলে এ শহর যেন নতুন রূপ নিয়ে ফুটে উঠছে। আমরা বেশি দূর যেতে পারি না। রাস্তার পাশে একটি সৌধের সামনে এসে আমাদের গাড়ি থেমে যায়। আমাদের তিনজনকে নিয়ে সাইফউদ্দিন ভাইও নেমে পড়েন গাড়ি থেকে। বলেন, ‘নামেন, আপনাদের পোল্যান্ডের স্মৃতিসৌধ দেখাই।’
এটি ওয়ারসো জাগরণের স্মৃতিসৌধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনী যখন কয়েকবার মার খেয়ে পিছু হটতে থাকে, তখন স্বয়ং হিটলার হুকুম দেন ওয়ারসো নগরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে। এর পরই ওয়ারসো নগরের ওপর বুলডোজার চালায় নাৎসি বাহিনী। প্রত্যুত্তরে পোলিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল পোলিশ সাধারণ জনগণ, আবালবৃদ্ধবনিতা। এটিই বিশ্বের ইতিহাসে ‘ওয়ারসো জাগরণ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে।
ওয়ারসো জাগরণে যেসব সেনা ও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে এ ক্রসিনস্কি স্কয়ারে স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ওয়ারসো নগরের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে পোলিশ সেনাবাহিনী। ধ্বংসের মধ্যেও মাথা নত না করার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পেছনের খাড়া কলামগুলো।
ওয়ারসো জাগরণ স্মৃতিসৌধের মূর্তিগুলো দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি ভাগে ইনসার্জেন্ট ইউনিট। এটি মূলত সে সময়ে পোলিশ সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এবং যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করছে। আর অন্য অংশটি ‘এক্সোডাস গ্রুপ’। এই অংশে মূলত যেসব সাধারণ মানুষ ওয়ারসো জাগরণের যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলেও এ স্মৃতিসৌধ ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অবগুণ্ঠিতই রাখা হয়েছিল। কারণ, ওয়ারসো জাগরণ যুদ্ধে সোভিয়েত রেড আর্মির ভূমিকাসংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের বিরাট একটা সমস্যা ছিল। সে কারণে যখন ১৯৮৯ সালে সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয়, তখন এ স্মৃতিসৌধের অবগুণ্ঠন তুলে দিয়ে তা উন্মুক্ত করা হয় জনগণের সামনে। এখন প্রতিদিনই দেশপ্রেমিক পোলিশরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে যায় সেই বীর সেনানীদের।
ওয়ারসো নবজাগরণের স্মৃতিসৌধ দেখা শেষ। এবার আবার ছুটে চলা। সঙ্গে বাংলা গান। সাইফ ভাইকে বলি, ‘ভাই, আমরা এখন কোথায় যাব?’ সাইফ ভাই বলেন, ‘ডানে-বাঁয়ে দেখুন, পোল্যান্ড কেমন করে প্রতিদিন নতুন হয়ে উঠছে।’
আমরা ছুটতে থাকি নতুন শহরের রাস্তা ধরে। ওয়ারসোর যে অংশকে নতুন শহর বলা হচ্ছে, তার জন্মও কিন্তু অষ্টাদশ শতকে। এসব ভবনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধ্বংস করা হয়েছিল। ওয়ারসো পুনর্জাগরণের পরে ১৯৫৪ সালের মধ্যে আবার এসব ভবন সংস্কার করা হয়।
১৯৮৯ সালে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদায় নেওয়ার পর পোল্যান্ড দ্রুত পুঁজিবাদের সংস্কৃতি রপ্ত করে ফেলে। তার প্রমাণ এসব অত্যাধুনিক দালানকোঠা। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যরীতির দালানকোঠার পাশাপাশি ওয়ারসোর আকাশসীমা দখল করে ফেলছে অত্যাধুনিক স্থাপত্যরীতির দালানকোঠা। এসব দালানকোঠায় নির্মাণসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইস্পাত আর কাচ।
নতুন ওয়ারসোর এসব দৃশ্য আমাদের আর টানে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত শুকিয়ে তারা যতই ওপরের দিকে যাক না কেন, আমরা বারবার তাদের সেসব দুঃখজাগানিয়া জায়গাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার জন্য অধীর হয়ে যাই।
সাইফ ভাই আমাদের কথা বোঝেন। বলেন, ‘আপনাদের আরেকটা স্মৃতিসৌধ দেখাচ্ছি। “ঘেটো”র কথা শুনেছেন? ঘেটো জাগরণের সময় যেসব বীর যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণে বানানো হয়েছে এ সৌধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ওয়ারসোর সবচেয়ে বর্ধিষ্ণু এলাকা ছিল এই ঘেটো। সে সময় এ এলাকায় ইহুদিদের বাস ছিল সবচেয়ে বেশি।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হাতে এ এলাকার তিন থেকে চার লাখ লোক প্রাণ হারায়, যাদের অধিকাংশ ছিল ইহুদি। সে সময় এ এলাকার লোকজন হাতে অস্ত্র তুলে নেয় নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেসব অস্ত্রের অধিকাংশই ছিল হাতে তৈরি। এ এলাকার যোদ্ধাদের মধ্যে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল বেশি। সে সময় পুরো ওয়ারসোর সব ইহুদি এক হয়েছিল এ ঘেটো এলাকায়। যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়, তখন এ এলাকায় কয়েকজন ইহুদি জীবিত ছিল। পরবর্তী সময়ে তারাও ইসরায়েলে চলে যায়।
সাইফ ভাই বলেন, এ জায়গাটি শুধু পোলিশদের নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইহুদিদের একটা বড় শ্রদ্ধার জায়গা। প্রত্যেক ইহুদিই মনে করে, জীবনে একবার এসে যদি এ স্মৃতিসৌধে একটি ফুলের পাপড়ি রেখে যেতে পারে, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ইহুদিদের প্রতি তাদের কিঞ্চিৎ সমবেদনা দেখানো সম্ভব হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইহুদিকে ফুল দিতে দেখা যায়।
আমরা আমাদের দেশে একুশে ফেব্রুয়ারি, ছাব্বিশে মার্চ বা ষোলোই ডিসেম্বর এলেই শুধু স্মৃতিসৌধে ফুল দিই। এখানে ফুল দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো দিনের অপেক্ষা কেউ করে না, সুযোগ পেলেই এসে ফুল দিয়ে যায়।

‘বাংলাদেশকে ওরা ভালোবেসে ফেলেছে’ নওয়াজীশ আলী খান, উপদেষ্টা (অনুষ্ঠান), এটিএন বাংলা

আমরা কেউই শিকড়বিহীন নই। প্রতিটি মানুষেরই শিকড় আছে। ২০০ বা ৩০০ বছর পরও কিন্তু মানুষ নিজেদের শিকড়ের খোঁজ করে। আমাদের যে তৃতীয় প্রজন্ম ভিনদেশে বেড়ে উঠছে, তাদের নিজের দেশকে ভালোভাবে জানার তেমন সুযোগ নেই। দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, কীভাবে দেশের মানুষ প্রতিদিন যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে—এসবের কিছুই তারা জানে না। আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে দেশ সম্পর্কে জানানো। যখন আমাদের প্রতিযোগীদের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো, দেখলাম, এরা দেখতে বাঙালি, কিন্তু আচার-আচরণ, কথাবার্তা পুরোপুরি বাঙালিসুলভ নয়। তখন তারা কেউ কেউ ভালো বাংলাও বলতে পারত না।
শুটিং শেষে চলে যাওয়ার সময় কিন্তু এই ছেলেমেয়েগুলোই আমূল বদলে গেল। তারা পরিষ্কার বাংলায় তাদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছে। আমাদের সবচেয়ে আপ্লুত করেছে যে ব্যাপারটা, তারা প্রত্যেকে বলেছে, বাংলাদেশ থেকে ফিরে যেতে তাদের কষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশকে ওরা ভালোবেসে ফেলেছে। এই ছেলেমেয়েগুলো কিন্তু আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে।
আমাদের মূল সার্থকতা এখানেই।

মনের জানালা

সমস্যা: আমার বিয়ে হলো ছয় বছর হচ্ছে। আমার মেয়ের বয়স এখন তিন। বিয়ের পর থেকে খেয়াল করছি, আমার স্বামী ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি দেখতে অভ্যস্ত। রাতের পর রাত সে এ কাজ করত। একদিন কম্পিউটার খুলে দেখলাম, সে বেশ কিছু বাজে ছবি ডাউনলোড করে রেখেছে। ওকে অনেকবার বুঝিয়েছি যে ওর এসব দেখে আমার কষ্ট হয়। প্রথম প্রথম সে প্রতিজ্ঞা করত যে এসব সে আর করবে না, কিন্তু ঠিকই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখত। বাসায় নেটের লাইন না থাকলে সে অস্থির হয়ে যেত। শেষবার যখন ও ধরা পড়ল, তখন আমি ঠিক করলাম আলাদা হয়ে যাব। কিন্তু ও রাজি হয়নি। ঝগড়ার একপর্যায়ে আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি। তার পরে ও আমাকে বলে যে আর ওসব দেখবে না। গত পাঁচ মাস ও ওসব আর দেখেনি, অথবা দেখলেও আমি জানি না। আপা, আমি বুঝতে পারছি ওকে আমি আর বিশ্বাস করি না, ভালোবাসি না। আমার স্বামী মেয়েকে খুব ভালোবাসে, আর মেয়েও বাবাকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু ওকে এখন আর আমি মেনে নিতে পারছি না।
শৈলী
পরামর্শ: অনেকেই ইন্টারনেটে একধরনের আসক্তির শিকার হচ্ছে। অর্থাৎ, এগুলোর ওপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এই নির্ভরশীলতা অতিরিক্ত হয়ে গেলে সেটি অসুস্থতায় গিয়ে ঠেকে। এ ক্ষেত্রে যে মানুষটি আসক্ত হচ্ছে, সে প্রাপ্তবয়স্ক।
তাকেই নিজের কাছে খুব সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে সে আর এটি কখনো করবে না। তুমি আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং ঝগড়া করে নিজের কষ্ট বাড়িও না। তুমি তো তাকে খুব ভালোভাবেই বোঝাতে পেরেছ যে তার আচরণটি তোমার কতটা অপছন্দ। এখন তোমার ওকে সময় দিতে হবে বিষয়টি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে কি না দেখার জন্য। তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সত্যিই তুমি ওকে ছেড়ে দিতে চাও কি না। আমার ধারণা, শুধু সন্তানের কথা চিন্তা করে তুমি একটি ভালোবাসাহীন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলে সন্তানের কোনো মঙ্গল হবে না। কারণ, মেয়েটি তার মাকে বিষণ্ন অবস্থায় দেখে বড় হলে ভবিষ্যতে সে-ও বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। তোমাকে ধরে নিতে হবে যে তোমার স্বামীর এই আসক্তি কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগ, আর সেটি আবার শুরু করার আশঙ্কাও ৫০ ভাগ। এই আশঙ্কাগুলো মাথায় রেখে তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তুমি ওর সঙ্গে বাকি জীবন কাটাতে চাও কি না। অর্থাৎ, তার সঙ্গে থাকলে তুমি বেশি কষ্টে থাকবে, নাকি না থাকলে তোমার বেশি কষ্ট হবে। খুব ভালো করে ভেবে যেদিকে কষ্টের পরিমাণ একটু হলেও কম হবে, সেদিকটিই বেছে নিতে হবে। পরে যদি মনে হয় তোমার সিদ্ধান্তটি হয়তো ভুল ছিল, তার পরও নিজের সিদ্ধান্তের ওপর শ্রদ্ধা রেখে জীবনে চলতে হবে। নিজেকে বোঝাতে হবে যে তুমি খুব ভালো করে ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে, কাজেই এর ভালো-মন্দ দিকগুলোর মোকাবিলা করার জন্য তুমি তোমার মানসিক শক্তিগুলো কাজে লাগাবে। নিজের কোনো ক্ষতি করার কথা তুমি আশা করি আর ভাববে না। কারণ, তোমার জীবন অনেক মূল্যবান।

সমস্যা: আমার বয়স ১৮। ২০০৯ সালে একটি প্রেমের প্রস্তাব পাই। ছেলেটি আমাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। আমিও একসময় তার প্রেমে পড়ি। ছেলেটি প্রতিষ্ঠিত এবং বয়স ৩০ বছর। তার মন খুব ভালো। আমার কোনো আঘাতে সে নিজে আঘাত পায়, যা প্রমাণিত হয়েছে বহুবার। তার জীবনের প্রতিটি ঘটনাই আমি জানি। তার বিপদে পড়ে বিয়ের ঘটনাও আমি জানি। সে আমার কাছে কিছুই লুকায়নি। তার পরিবারের সবাই আমাকে দেখেছে। সবাই আমাদের সম্পর্কের কথা জানে। বিবাহিত জীবনে সুখ না থাকায় তার পরিবার সুখের জন্য তার পছন্দ মেনে নিতে প্রস্তুত। তার প্রথম বিয়ে ভাঙার জন্য সবাই প্রস্তুত, তার স্ত্রীও। কিন্তু বর্তমানে আমি একটি নতুন সংবাদ পাই, তা হলো সে বাবা হতে চলেছে, যা আমি মানতে পারছি না। তার সব পাপ আমি মাফ করেছি, এটি পারছি না। কারণ, আমি বর্তমানে তার প্রতি অনেক দুর্বল। আমার যে আর ধৈর্য সইছে না। আমি তাকে সুখী হয়ে দেখাতে চাই। আমি কি মাফ করব তাকে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ঢাকা।
পরামর্শ: এই বয়সে ৩০ বছরের একটি বিবাহিত ছেলেকে জীবনসঙ্গী করার কথা ভাবাটা কি খুব যুক্তিযুক্ত? তোমাকে তো লেখাপড়া শেষ করে নিজের ভবিষ্যৎ আগে গড়তে হবে। মনে হচ্ছে, ছেলেটি এখনো স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। এ অবস্থায় তোমাকে তার জীবনের সঙ্গে জড়ানোটা অন্যায় হয়েছে। তুমি এখনো প্রায় বয়ঃসন্ধিতে রয়েছ। কিন্তু ছেলেটি তো তোমার চেয়ে ১২ বছরের বড়। তার তো উচিত ছিল আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে তারপর তোমার কাছে তার মনের কথাটা প্রকাশ করা। শুধু তা-ই নয়, তোমাকে লেখাপড়া শেষ করার জন্য উৎসাহ দেওয়ারও প্রয়োজন ছিল। তা ছাড়া বিপদে পড়ে সে বিয়ে করেছে—এ কথা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। কারণ, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যদি না চায়, তাহলে কেউ তাকে বিয়ে করার জন্য বাধ্য করতে পারে না। ছেলেটির চরিত্র সম্পর্কে তোমার আরও ভালো করে খবর নেওয়া দরকার। তার স্ত্রী যদি সন্তানসম্ভবা হয়, তাহলে সে এ মুহূর্তে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারবে না। প্রয়োজনে তুমি তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভদ্রভাবে ছেলেটি সম্পর্কে আলোচনা করতে পারো। এতে করে একটি ভিন্ন চিত্র পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে এবং এরপর তুমি তোমার বুদ্ধি ও বিচার ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করো। দাম্পত্য জীবনে দুজনকে অনেক বিষয়ে ছাড় দিতে হয় ঠিকই, তবে একজন কখনো অন্যজনের ভালো থাকাটা নিশ্চিত করতে পারে না। আমরা আঘাত পেয়ে নিজেরাই সেই আঘাত থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করব। কেউ যদি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে সেটি যেন বাড়তি পাওনা হয়। আশা করছি, তুমি তাড়াহুড়ো না করে ভালো করে ভেবে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেবে।

লাবণ্য

ব্যাপারটা অলৌকিকই বটে। কারণ, তদবির ও পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি যখন সোনার হরিণ এবং দুই দিন আগেও যার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুটো আশার কথা বলার জো ছিল না, সেই জামিল কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে একটি চাকরির গর্বিত মালিক। যোগদানপত্র হাতে পেয়ে জামিল এতটাই অবাক হলো যে এটা সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কি না, দেখার জন্য সঙ্গে সঙ্গেই অফিসে ছুটে গিয়েছিল সে।
অসম্ভব সুন্দর একটা অফিস। বসও চমৎকার একজন মানুষ। শুরু থেকেই আন্তরিক একটা পরিবেশ পেয়ে যাওয়ায় জামিল নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে শুরু করল। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু বিপত্তিটা বাধল তখনই যখন সকালে তাকে বসের স্পেশাল চেম্বারে ডাকা হলো। রুমের পশ্চিম পাশে তাকিয়ে জামিলের আর চোখ ফেরানোর কোনো উপায় ছিল না। পৃথিবীর সব রূপ শরীরে ধারণ করা এক তরুণী অদ্ভুত মাদকতাময় ভঙ্গি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে। না, কোনো রক্তমাংসের মানুষ নয়, দেয়ালে একটি সাদাকালো ছবি হয়ে ঝুলে আছে সে। শুরু থেকেই ছবিটা দুর্নিবার আকর্ষণ তৈরি করল জামিলের মনে। কিন্তু বসের রুমে প্রতিদিন গেলেও তার পরিচয় আর জানা হয় না জামিলের। অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের হওয়ায় বস তো বটেই অন্যান্য সহকর্মীর কাছেও এটা জিজ্ঞেস করতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে সে।
শুরুতে আকর্ষণটা সহনীয় পর্যায়েই ছিল। একসময় এটা এমন অবস্থায় দাঁড়াল যে জামিল কোনো কারণ ছাড়াই বসের রুমে যাওয়ার ছুতো খুঁজতে লাগল। জামিল দেখতে মোটামুটি সুদর্শন ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ায় অফিসে অবিবাহিত ও বিবাহিত দুই ধরনের মেয়ে মহলেই তার যথেষ্ট সুখ্যাতি। জামিলের আশপাশে সুন্দরীরও কোনো অভাব নেই। কিন্তু তাদের পাত্তা না দিয়ে জামিল কেন ছবির একটা মেয়ের প্রতি এতটা আকুল হয়ে উঠল, এটা তার বোধগম্য হয় না। ছবির মেয়েটি ক্রমশ দেয়াল থেকে জামিলের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের একটা অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠল। তার ঘুমাতে যাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, অফিসে যাওয়া—সবকিছুর মধ্যে সেটার একটা অপ্রতিরোধ্য চৌম্বকীয় আবেশ তৈরি হতে থাকল। রবিঠাকুরের উপন্যাস শেষের কবিতার নায়িকার নামে জামিল মেয়েটার নাম দিল ‘লাবণ্য’। তার সবকিছুই অতঃপর একসময় ‘লাবণ্যে আবর্তিত’ হতে থাকে। অফিস ছুটির সময় তীব্র মনখারাপ নিয়ে বাড়ি ফেরে জামিল। একটা অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা শুরু হয়েছে, এটা সে বুঝতে পারছে; কিন্তু এ থেকে উত্তরণের কোনো পথ জামিলের জানা নেই।
পৃথিবীর চিরাচরিত ধারা—কোনো কিছুই সব সময় এক নিয়মে চলে না। অফিসের একজন সহকর্মীর সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে জামিল একদিন জানতে পারে, ছবিটি তার বসের অকালপ্রয়াত স্ত্রীর। বিষয়টি সে অতি কষ্টে মেনে নিলেও ছবির ‘লাবণ্য’ তার মন থেকে একেবারে মুছে গেল না।
বছর পাঁচেক পর এক ফাগুনসন্ধ্যা। জামিল তত দিনে একটা বহুজাতিক কোম্পানিতে যোগ দিয়েছে। হঠাৎ করেই সাবেক বস তাকে ফোন দিলেন, ‘জামিল, তুমি এখনই চলে এসো আমার অফিসে। একটুও দেরি করা যাবে না কিন্তু।’
জামিল অপ্রত্যাশিত এই আমন্ত্রণে হতবাক হয়েই অফিসে ছুটল। বসের রুমে ঢুকেই জামিল আপাদমস্তক ঝাঁকুনি খেল। এ কী দেখছে সে? এ তো সেই ছবির ‘লাবণ্য’।
তাহলে কি সে যা জেনেছে, সেটা ভুল ছিল? কিন্তু সেটাই বা কীভাবে সম্ভব! কারণ, এত দিনে তাঁর স্ত্রীর বয়স কি তবে একটুও বাড়েনি?
জামিলের সাবেক বস জামিলকে মেয়েটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘জামিল, এ হচ্ছে আমার একমাত্র মেয়ে সোহানা। লন্ডন থেকে এমবিএ শেষ করে আমার এখানেই ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন করেছে।’
সোহানা এগিয়ে এসে জামিলের সঙ্গে হাত মেলাল আর বহুদিনের চেনা সেই বাঁকা হাসি দিয়ে জামিলকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কি আমাদের কোম্পানিতে আবার জয়েন করবেন? আপনার মতো বিশ্বস্ত একজনকে আমাদের অনেক প্রয়োজন।’
জামিল বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইল।
রিনি জুলিয়েট রোজারিও
গুলশান, ঢাকা।

অন্তত হাসুন ডা ক্তা র রো গী র ঙ্গ


রোগী: ডাক্তার সাহেব, আমাকে বাঁচান!
ডাক্তার: কী হয়েছে আপনার?
রোগী: আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। রাতে খাটে ঘুমাতে গেলে মনে হয় খাটের নিচে কেউ বসে আছে। খাটের নিচে গেলে মনে হয় খাটের ওপর কেউ বসে আছে। এভাবে ওপর-নিচ করে করে আমার রাত পেরিয়ে যায়।
ডাক্তার: হু, বুঝতে পেরেছি। আপনি দুই মাস প্রতি সপ্তাহে তিনবার আমার চেম্বারে আসুন, আপনার রোগ ভালো হয়ে যাবে।
রোগী: ইয়ে মানে, আপনার ভিজিট যেন কত?
ডাক্তার: ২০০ টাকা।
দুই সপ্তাহ পর রোগীর সঙ্গে দেখা হলো ডাক্তারের।
ডাক্তার: কী হলো, আপনি যে আর এলেন না?
রোগী: ধুর মিয়া, একজন কাঠমিস্ত্রি ২০ টাকা দিয়ে আমার সমস্যা সমাধান করে দিয়েছে। আপনাকে অতবার ২০০ টাকা দিতে যাব কেন?
ডাক্তার: কীভাবে?
রোগী: আমার খাটের পায়াগুলো কেটে ফেলেছে!


এক রাতে ডাক্তারের বাড়িতে ফোন করলেন এক ভদ্রমহিলা।
ভদ্রমহিলা: ডাক্তার সাহেব, আমাকে জলদি ওজন কমানোর একটা উপায় বাতলে দিন। আমার স্বামী আমার জন্মদিনে একটা সুন্দর উপহার দিয়েছে, কিন্তু আমি উপহারটার ভেতর ঢুকতেই পারছি না!
ডাক্তার: কোনো চিন্তা করবেন না। আপনি কাল সকালে আমার অফিসে একবার আসুন। ওষুধ দিয়ে দেব। খুব শিগগির আপনার স্বামীর দেওয়া জামাটা আপনি পরতে পারবেন।
ভদ্রমহিলা: জামার কথা কে বলল? আমি তো গাড়ির কথা বলছি!

রোগী: কী হলো, ডাক্তার সাহেব, আপনি আমাকে দুটো প্রেসক্রিপশন দিলেন যে?
ডাক্তার: একটা প্রেসক্রিপশন দিয়েছি যাতে আপনি ভালো বোধ করেন।
রোগী: আর অন্যটা?
ডাক্তার: অন্যটা দিয়েছি যাতে ওষুধ কোম্পানিগুলো ভালো বোধ করে!


রোগী: ডাক্তার সাহেব, আমার দুই সপ্তাহ ধরে ঠান্ডা, জ্বর, মাথাব্যথা, পেটব্যথা, দাঁতে ব্যথা...।
ডাক্তার: কোনো সমস্যা নেই, ওষুধ লিখে দিচ্ছি, সময়মতো খেয়ে নেবেন।
কিছুদিন পর আবার সেই রোগী ডাক্তারের চেম্বারে হাজির।
রোগী: ডাক্তার সাহেব, আমার অসুখ তো ভালো হলো না।
ডাক্তার: ঠিক আছে, আপনাকে কিছু পরীক্ষা করতে দিচ্ছি। পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করুন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তার আবারও ওষুধ দিলেন, কিন্তু এবারও ফলাফল শূন্য!
রোগী: ডাক্তার সাহেব, এবারও তো কোনো উপায় হলো না! আমার রোগটাই তো ধরা যাচ্ছে না।
কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে ডাক্তার বললেন, ‘হু, আপনি এক কাজ করুন। পাক্কা এক ঘণ্টা ঠান্ডা পানিতে ডুব দিয়ে বসে থাকুন।’
রোগী: বলেন কী! তাহলে তো আমার নিউমোনিয়া বেঁধে যাবে!
ডাক্তার: আমি অন্তত নিউমোনিয়ার চিকিৎসাটা করতে পারব!


ডাক্তার: আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আপনার জন্য দুটো খবর আছে। একটা খারাপ খবর, আরেকটা খুবই খারাপ খবর!
রোগী: কী খবর, বলুন?
ডাক্তার: আপনার পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল বলছে, আপনি মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাঁচবেন।
রোগী: এর চেয়েও খারাপ খবর আর কী হতে পারে?
ডাক্তার: প্রথম খবরটা দেওয়ার জন্য আমি আপনাকে গতকাল থেকে খুঁজছি!


এক চিত্রনায়িকা গেছেন ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার: বাহ্! আপনার ওজন তো দেখছি আগের চেয়ে এক কেজি কমেছে!
চিত্রনায়িকা: হু, এমনটাই হওয়ার কথা।
ডাক্তার: কেন?
চিত্রনায়িকা: কারণ, আমি আজকে মেকআপ করিনি!

সংগ্রহ: মো. সাইফুল্লাহ

কা র্য কা র ণ প্রথম দেখার স্মৃতি ভোলা যায় না কেন?

দুই বছর আগে ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে কখন-কোথায় দেখা হয়েছিল, তার প্রতিটি মুহূর্ত আপনার হুবহু মনে আছে, কিন্তু দুই দিন আগে যে আপনি বইয়ের দোকানে গিয়েছিলেন, সে কথা খুব বেশি মনে নেই। হোক না অনেক আগের ঘটনা। সেই মধুর দৃশ্য আপনার স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল। কীভাবে নিষ্পলক দৃষ্টিতে আপনি ওকে দেখেছিলেন, চোখে চোখে কী কথা হয়েছিল, ও ঠিক কোন রঙের পোশাক পরেছিল, হাসিটা কত হূদয়গ্রাহী ছিল—সবই আপনি একনিঃশ্বাসে বলে দিতে পারেন। কীভাবে এটা সম্ভব? প্রেমের ব্যাপার বলেই এটা সম্ভব। কারণ, প্রেমে আবেগের সঞ্চার হয়। মনস্তত্ত্ববিদেরা অনেক আগে থেকেই জানেন, আবেগের ঘটনাগুলো সাধারণত স্মৃতিতে চির-অম্লান থাকে। মস্তিষ্কের সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারে ধূসর পদার্থের আমিগডালা অংশ হূদয়ের আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই স্মৃতি দীর্ঘ সময় সযত্নে রক্ষিত হয়। দেখা গেছে, কোনো কারণে কারও মস্তিষ্কের আমিগডালা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার স্মৃতিতে আবেগময় স্মৃতি বেশি দিন সঞ্চিত থাকে না।

যে খবর নাড়া দেয় মায়ের এক ধার দুধের দাম!

মায়ের মতো আপন কে আছে ভুবনে? মা-ই তো আমাদের সর্বদুঃখের দুঃখী, সর্বখুশির খুশি।
ভাবছেন ধারেকাছে ‘মা দিবস’-জাতীয় কিছু নেই। হুট করে এমন মায়ের গুণকীর্তন কেন? হ্যাঁ, খুব স্বার্থপরের মতো কেবল মা দিবসেই মাকে স্মরণ করি আমরা কেউ কেউ। বাকি দিনগুলোতে মাকে ভুলে থাকি অবলীলায়। মাকে আমাদের মনে পড়ে না। মা থাকেন দূরে। মুঠোফোনের এই রমরমার যুগেও তাঁকে ফোন করার ফুরসত পাই না। অথবা মা খুব কাছে থাকলেও দূরের মানুষ। রয়ে-সয়ে তাঁর সঙ্গে দুটো কথা বলার সময় নেই। নাগরিক ব্যস্ততা আমাদের মায়ের কথা ভুলিয়ে রাখে। এমন সন্তান তো আমাদের মধ্যেই আছে। তবুও আমাদের মায়েরা অপেক্ষায় থাকেন। দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী কাটে সন্তানের অপেক্ষায়। তারপর একদিন মায়ের অপেক্ষার পালা ফুরোয় চিরতরে। মা হন অন্য ভুবনবাসী। ঘাড়-মাথা নিচু করে আমরা মায়ের খাটিয়া কাঁধে তুলি। চিতায় আগুন দিই। তারপর? মা হয়ে যান বসার ঘরে বাঁধাই করা ছবি।
মাকে ভুলেই ছিলাম। হুট করে আরও একবার মাকে মনে করিয়ে দিলেন ডেভিড ওয়ারনার। ভদ্রলোক একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তাঁর লেখা বই, হয়ার দেয়ার ইজ নো ডক্টর অনূদিত হয়েছে ৮৯টি ভাষায়। ওয়ারনার বলছেন, সন্তানদের সবচেয়ে বেশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেন মা। (সূত্র: প্রথম আলো, ২৯-০২-২০১২)
নাহ্, ডাক্তার, বদ্যি কেউ নন। এমনকি নয় বিলাসবহুল বহুতল হাসপাতালও। ছোট্টবেলায় আমাদের ছোট্ট শরীরটি অসম্ভব মমতায় আগলে রেখেছিলেন আমাদের মা-ই। ডেভিড ওয়ারনার আরও একটি অভিনব কথা বলেছেন। সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতালই আসল কথা নয়। চিকিৎসক না হয়েও একজন মানুষ কীভাবে সহজে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন, সে উপায়ই বাতলে দিয়েছে ওয়ারনারের বই।
ওয়ারনারের জন্য শ্রদ্ধা। নতুন একটা ধারণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন বলে।
ওয়ারনারকে ধন্যবাদ। মায়ের কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন বলে। —ইকবাল হোসাইন চৌধুরী

Native Banner