Banner 468x60 for

বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২

চাঁদের গন্ধ কি মিষ্টি-মধুর?

প্রশ্নটা হাস্যকর মনে হতে পারে। চাঁদের আবার গন্ধ কী, তাই না? কিন্তু চাঁদের গন্ধ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলে আসছে প্রাচীনকাল থেকেই। অনেক আগে ধারণা করা হতো, চাঁদের গন্ধ টাটকা পনিরের মতো। কারণ, সদ্য তৈরি পনিরে বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ দেখা যায়, মনে হয় যেন চাঁদ। এ রকম তুলনা কাব্যে চলে, বিজ্ঞানে চলে না। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের গন্ধ এক অর্থে বারুদের মতো। নাসা কীভাবে জানল? জানল নভোচারীদের অভিজ্ঞতা থেকে। এ পর্যন্ত মাত্র ১২ জন নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন। অবশ্য তাঁরা বায়ু অভেদ্য মহাশূন্য-পোশাক পরেছিলেন। তাই তাঁদের পক্ষে চাঁদের গন্ধ নেওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু চাঁদের ধুলোবালি সহজেই তাঁদের পোশাকে লেগে যায় এবং প্রচুর ধূলিকণা নিয়ে তাঁরা চাঁদ থেকে মহাশূন্যযানে ফিরে আসেন। তাঁরা বলেছেন, চাঁদের ধূলিকণা ধরলে তুষারের মতো লাগে, গন্ধ শুঁকলে মনে হয় বারুদ, আর স্বাদ মন্দ নয়! নাসার একটি ছোট দল আছে, যারা মহাশূন্য থেকে ফিরে আসা প্রতিটি যানের যন্ত্রপাতি শুঁকে দেখে। আন্তর্জাতিক মহাশূন্য স্টেশনের আবহাওয়া-পরিবেশের সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট করার মতো কোনো কিছু যেন নভোযানে ঢুকে না পড়তে পারে, সে জন্য এটা করা হয়। সুতরাং চাঁদের গন্ধ মিষ্টি-মধুর তো নয়ই বরং কিছুটা ঝাঁজালো।

সাহারার বদলের দিন

সাহারা। কজনই বা চিনত তাঁকে। মাত্র কয়েক বছর আগের কথা। এফডিসিতে পা দিয়েই তিনি বুঝতে পারেন, এ জায়গায় তাঁর কোনো কদর নেই। শুটিং শেষ করে রাতে বাসায় ফিরবেন কী করে? সেদিকেও কোনো খেয়াল নেই যেন কারও। এফডিসির ভেতরে অপেক্ষা করতে করতে একটি অটোরিকশা মিললে, তবেই না ঘরে ফেরা হতো।
ছবিতে কাজ শুরুর পর আকস্মিকভাবেই বাবা মারা গেলেন। মেয়েটি এসএসসির পর আর পড়াশোনা করতে পারলেন না। যেন একাই সংসারের সব দায়িত্ব তুলে নিলেন। তিন-চার মাস পরে দ্বিতীয় সারির নায়কদের সঙ্গে একটি ছবি পেলেন। সেটিই যেন আকাশের চাঁদ তাঁর কাছে। ছবিতে যখন খুব কষ্টের দৃশ্যে কাজ করতেন, তখন মনের মধ্যে জমিয়ে রাখা সব কষ্ট অনুভব করে কাঁদতেন। রূপসজ্জাকর এক দিন বললেন, ‘এই মেয়ে, তুমি কান্নার দৃশ্যের সময় চোখে গ্লিসারিন না দিয়ে কাঁদো কীভাবে?’
সাহারার মুখে তখন বিষণ্ন হাসি। কোনো উত্তর দিতে পারেননি সেদিন।
আজকের দিনগুলোতে সাহারা কী করেন?
পুরো দৃশ্যপটেরই পরিবর্তন হয়েছে। এখন সাহারা দামি গাড়ি চালান, তাঁর দুজন সহকারী আছেন। শুটিংয়ে আসামাত্র তাঁর মাথার ওপর ছাতা ধরা হয়। আলাদা চেয়ার রাখা হয়। তাঁর সেবায় নিয়োজিত থাকেন প্রডাকশন বয়রা।
কিন্তু কীভাবে? সাহারা কি আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন?
না।
তাহলে?
একটি ছবি বদলে দিয়েছে সাহারার জীবন, প্রিয়া আমার প্রিয়া। একটি ছবির গুণে সাহারা এখন এই সময়ে জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই মুক্তি পেল সাহারা অভিনীত ৫০তম ছবি আমার চ্যালেঞ্জ। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবিটি পেয়েছে ব্যবসায়িক সাফল্য।
বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন তিনি। চলচ্চিত্রের আকালের বাজারে যেখানে অনেক শিল্পী এখন প্রায় বেকার বলা যায়, সেখানে সাহারা মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ২০ দিন শুটিং করছেন। প্রতিটি ছবিতেই তাঁর বিপরীতে আছেন শাকিব খান।
জিজ্ঞেস করি, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যোগফল কী?
‘এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি হয়নি। তবে হয়ে যাবে।’
বেশ আত্মবিশ্বাসী তিনি। হবে, কীভাবে বুঝলেন?
‘আমার ছবিগুলো আমাকে সেই আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। প্রিয়া আমার প্রিয়া ছবির পরে শাকিবের সঙ্গে আমাদের ছোট সাহেব ছবিটি মুক্তি পেল। এই ছবিটি প্রমাণ করল, অভিনয় জানলে যেকোনো চ্যালেঞ্জিং কাজ করা যায়। সেবারই মুক্তি পেয়েছিল শাবনূর আপার ছবি এক টাকার বউ। সেই ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছে আমার ছবি। এরপর অনেকেই বলত যে শাকিবের উপস্থিতির জন্যই নাকি আমার ছবিগুলো চলছে। আমি বলেছি, শাকিবের উপস্থিতি যেকোনো ছবি ও শিল্পীর জন্য অনেকটা ইতিবাচক। তাই বলে অন্য শিল্পীরা যদি কাজ না জানেন, তাহলে তো আর সেই কাজটাও শাকিব করবেন না। আমি স্বীকার করব, শাকিব সে সময় আমাকে বন্ধুর মতোই সহযোগিতা করেছেন। আমি কিন্তু ইমন ও মারুফের সঙ্গেও ছবিতে কাজ করেছি এবং সফল হয়েছি। এর পরই আসলে নির্মাতাদের কাছে আস্থার জায়গাটি পেয়েছি,’ বলছিলেন সাহারা।
বর্তমানে সাহারার হাতে যে ছবিগুলো আছে, সেগুলোর কাজ শেষ হতে হতে ২০১২ শেষ হয়ে যাবে। তাঁর লক্ষ্য এখন একটাই, কাজ কম করলেও এমন ছবিতে তিনি অভিনয় করতে চান, যে ছবিগুলোতে তিনি নিজেকে খুঁজে পাবেন। জানালেন, গল্প ভালো না লাগলে তিনি কাজটি মন থেকে করার মতো উৎসাহ পান না। তাই এ নিয়ে দু-একজনের সঙ্গে তাঁর ভুল-বোঝাবুঝিও হয়েছে। তবু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় সাহারা। বললেন, ‘আমি ছোট মানুষ। কোনো কথা বললে কে কী মনে করবে, তাই কাউকে কিছু বলি না। শুধু জানাই যে আমার শিডিউল নেই।’
সাহারার দিন বদলেছে। কিন্তু অতীতের সেই দিনগুলোর কথা ভোলেননি। শুটিং শেষ করে মাঝরাতে যখন বাড়ি ফেরেন, তখন গাড়ি চালাতে চালাতে মনে পড়ে দুঃসহ দিনগুলোর কথা। কষ্টের কথা। সেই সাহারা কিনা আজ রুপালি পর্দার প্রিয় মুখ। সব কষ্টের স্মৃতির মধ্যেও আনন্দে চোখ ছলছল করে ওঠে তখনই, যখন ছোট্ট ভাইটির কথা মনে পড়ে। নিজে পড়াশোনা না করতে পারলেও, ভাইটিকে সাহারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিতে পেরেছেন।

দুর্লভ শঙ্খশালিক,

 আ ন ম আমিনুর রহমান

গত বছরের অক্টোবরে এক দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের দিকে যাচ্ছিলাম। প্রাণিচিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ অনুষদ ভবন থেকে সাত-আট মিনিটের পথ। প্রখর রোদ। সঙ্গে ক্যামেরাটা নিতে ভুলিনি। মিনিট চারেক হাঁটার পর যে মরা গাছটায় একবার একসঙ্গে ৭৫টি তিলামুনিয়া দেখেছিলাম, তার মগডালে দেখলাম ছোট একটা পাখি। কিন্তু প্রখর রোদের ঝলকে কোন প্রজাতির পাখি, তা শনাক্ত করা গেল না। পটাপট দুটো ছবি তুললাম। মনে হলো, যেন কাঠশালিক। বাসায় ফিরে সেদিন আর পিসিতে আপলোড করা হয়নি। দিন পনেরো পর যখন আপলোড করলাম, তখন ছবি দুটো নজরে এল। না, এগুলো কাঠশালিক নয়। ভালো করে পরীক্ষা করতেই মনটা খুশিতে নেচে উঠল। এটি একনজর দেখার জন্য কত না ঘুরেছি; আর এখন সে আমার পিসিতে।
এর পর থেকে প্রতিদিনই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এর খোঁজ করতে লাগলাম। কিছুদিন পর এক পড়ন্ত বিকেলে অনুষদের সামনের আমলকী বাগানে ওর দেখা পেলাম। বুলবুলির তাড়া খেয়ে পালানোর সময় গ্র্যাজুয়েট ফ্যাকাল্টির সামনে আরেক দিন ও আমার ক্যামেরায় ধরা পড়ল। সাধারণত ছোট দলে ঘুরে বেড়ালেও আমি ওকে সব সময় একাই দেখেছি।
এতক্ষণ যার কথা বললাম, সে হলো শঙ্খশালিক বা বামনশালিক (Brahminy starling or mynah)। এ দেশের বিভিন্ন প্রজাতির শালিকের মধ্যে এরা অত্যন্ত দুর্লভ। মাথার ওপর ছোট্ট কালো টুপি ও ঝুঁটি থাকায় কালো-মাথা ময়না (Black-headed mynah) নামেও পরিচিত। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কোনো কোনো এলাকার গ্রামীণ পরিবেশে কদাচ দেখা মেলে। শঙ্খশালিকের বৈজ্ঞানিক নাম Sturnus pagodarum।
প্রথম দর্শনে কাঠশালিক মনে হলেও মাথার কালো পালক দেখে সহজেই কাঠশালিক থেকে আলাদা করা যায়। এরা লম্বায় ২০-২২ সেন্টিমিটার। ওজনে ৪০-৫৪ গ্রাম। মাথার পালক ফোলালে ঝুঁটিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্ত্রীর তুলনায় পুরুষের মাথার টুপি ও ঝুঁটি বড়। এদের চিবুক, ঘাড়, গলা, বুক ও পেট লালচে কমলা রঙের। পিঠ, ডানা ও লেজ ধূসর। লেজের আগা ও নিচটা সাদাটে। ঠোঁটের আগা হলুদ ও গোড়া নীলচে। স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে পা, পায়ের নালা ও নখ হলুদ। বাচ্চাদের মাথার পালক ধূসর।
শঙ্খশালিক চষা জমি, ঘাসবন, ফলের বাগান, পাতাঝরা বন ও ঝোপ-জঙ্গলময় এলাকা পছন্দ করে। বিচরণ-উপযোগী জায়গা থাকলেও রহস্যজনক কারণে এ দেশে খুব অল্প সংখ্যায় দেখা মেলে। প্রধানত চার-সাতটির ছোট দলে বিচরণ করলেও এ দেশে সাধারণত একাকী বা জোড়ায় চরতে দেখা যায়। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এরা মানুষের আবাস এলাকা, বাগান, জমিতে ঘোরাফেরা করলেও মানুষের খুব কাছাকাছি আসে না। শঙ্খশালিক পাকা ফল, ফুলের নির্যাস ও কীটপতঙ্গ খেয়ে থাকে। এরা মাটিতে ও ফুল-ফলের গাছে, এমনকি বিচরণরত গরু-মহিষের পেছন পেছন হেঁটে হেঁটে খাবার জোগাড় করে। শঙ্খশালিক ‘গু-উ-উইর-কুরতি-কেউই-আহ’ স্বরে ডাকে।
মে থেকে আগস্ট এদের প্রজননকাল। এরা ১২-২৫ ফুট উচ্চতার মধ্যে জুতসই কোনো গাছের খোঁড়লে বাসা বাঁধে। স্ত্রী শঙ্খশালিক তিন-চারটি হালকা নীল বা নীলচে সবুজ রঙের ডিম পাড়ে। স্ত্রী-পুরুষ মিলে ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে ১২-১৪ দিনে।

বাংলাদেশের সমুদ্রজয়

উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অধিকার প্রতিষ্ঠা হলো বাংলাদেশের। এ ছাড়া ২০০ নটিক্যাল মাইল ছাড়িয়ে মহীসোপানের বাইরের সামুদ্রিক সম্পদেও বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ ও সার্বভৌম অধিকার সুনিশ্চিত হলো। সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের (ইটলস) এক ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।
জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইটলস গতকাল বুধবার এই রায় দিয়েছেন। জার্মানি থেকে পাঠানো বাংলাদেশ দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, ২১-১ ভোটে স্বীকৃত এই ১৫১ পৃষ্ঠার রায় ইটলসের সভাপতি জোসে লুই জেসাস পড়ে শোনান। রায়ের মাধ্যমে তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হলো। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই নিকট প্রতিবেশীর তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা বিরোধেরও নিষ্পত্তি হলো। সালিসি আদালতে দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধের রায়টি দেওয়া হলো।
দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না পাওয়ায় বাংলাদেশ ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর মিয়ানমারের বিপক্ষে আলোচ্য আইনি কার্যক্রমের সূচনা করে। ট্রাইব্যুনালের এই রায় চূড়ান্ত। আপিল করা চলবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঐতিহাসিক এই রায়ের ফলে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের অনেকখানি সুরাহা হলো। আর সমতা ও ন্যায্যতার নীতি অনুসরণের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় একই পন্থা অনুসরণ করে ভারতের সঙ্গে বিষয়টি সুরাহার দাবিও জোরালো হলো।
গতকালের রায়ের ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীরে ও সমুদ্রের তলদেশের সম্পদে বাংলাদেশের দাবির পথ সুগম হলো।
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সমদূরত্বের ভিত্তিতে সমুদ্রসীমার যে দাবি করা হচ্ছিল, তাতে ১৩০ নটিক্যাল মাইলে আটকে যাচ্ছিল। এর ফলে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকায় সামুদ্রিক সম্পদে বাংলাদেশের কোনো অধিকার থাকত না।
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ইটলসের দেওয়া রায়ের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, উপকূলের যেকোনো এক পাশ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে মহীসোপানে বাংলাদেশকে অধিকার দেওয়ার সুযোগ ট্রাইব্যুনালের নেই। অবশ্য ইটলস মিয়ানমারের এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন।
বাংলাদেশের উপকূলের এক পাশে আছে ভারত, অন্য পাশে মিয়ানমার।
সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরের সীমানা অর্থাৎ যা ‘মহীসোপানের বাইরের অংশ’ হিসেবে পরিচিত, সেটা নির্ধারণে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের এটাই প্রথম রায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: বঙ্গোপসাগরের জলরাশি ও তলদেশের সম্পদে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের ও আনন্দের। রায় হওয়ার পর প্রথম আলোকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। তিনি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হামবুর্গ থেকে এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, ‘ইটলস ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন। ফলে সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা যা যা চেয়েছি, তার সবই পেয়েছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই রায়ের ফলে সম্প্রসারিত মহীসোপানে সার্বভৌমত্বের সুরাহা হয়ে গেল। এখন মহীসোপানের সীমানা নির্ধারণবিষয়ক জাতিসংঘ কমিটিতে (সিএলসিএস) বাইরের সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেলে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাসসহ সম্পদ আহরণে এখনই কাজ শুরু করতে পারে বাংলাদেশ।
এই রায়ের ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, ‘সুদীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রসীমা নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। আমার বিশ্বাস, এই রায়ের ফলে বিষয়টির সুরাহা হওয়ায় অতীতকে পেছনে ফেলে আগামীতে দুই প্রতিবেশীর পথচলা আরও মসৃণ হবে।’
প্রেক্ষাপট: বঙ্গোপসাগরে দুই প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অমীমাংসিত থাকায় দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশ সমুদ্র সম্পদ আহরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় তিন দশক বিরতির পর ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আবার আলোচনা শুরু করে। এই প্রক্রিয়া অবশ্য এগোয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘের কনভেনশন (আনক্লস) মেনেই বাংলাদেশ জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইটলসে যায়। ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ সালে ইটলসে মামলা দাখিল করে বাংলাদেশ। এরপর এই বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইটলসের বিচারিক এখতিয়ার মেনে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মতৈক্য হয়। ২০১০ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নিজের পক্ষে সব দালিলিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। আর মিয়ানমার তাদের প্রমাণ জমা দেয় সে বছরের ১ ডিসেম্বর। মিয়ানমারের দাবির বিপক্ষে বাংলাদেশ বক্তব্য উপস্থাপন করে ২০১১ সালের ১৫ মার্চ। বাংলাদেশের যুক্তির বিপক্ষে মিয়ানমার তাদের বক্তব্য তুলে ধরে ২০১১ সালের ১ জুলাই।
গত বছরের ৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই দফায় মৌখিক শুনানিতে নিজেদের পক্ষে দাবিগুলো তুলে ধরে।

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১২

LOVE STORY............SCHOOL LIFE........

 My friend is love me.ondy he come my class and talk to me.he said to me i love you.but i said to him i not love you but i like  you jast frien.this time  he told me you not love ....i  will deat for you.......


plz     love me.....................................

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১২

একেবারে অন্য রকম একটি মেয়ে রুনা?

নবী সাহেব একটি জেলা শহরে থাকেন। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। বড় ছেলে সোহেল অবৈধ ব্যবসা ও মাদক চোরাচালানির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তাকে পুলিশ খুঁজছে। নবী সাহেব ছেলের খোঁজে ঢাকায় আসেন। কিন্তু ছেলেকে পেলেন না। ষড়যন্ত্রের গন্ধ পান তিনি। সোহেলের বোন রুনা। ঢাকায় চাকরি নেয়। এই বিপদের দিনে ভাইয়ের পরিবারে পাশে এসে দাঁড়ায়।

রুনা?
একেবারে অন্য রকম একটি মেয়ে। আসলে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা যেমন হয়। পড়াশোনা করেছে। নিজে একটি ছেলেকে পছন্দ করে। কিন্তু বাবা চান না তার মেয়ে এভাবে বিয়ে করুক। তাই মেয়েটি নিজের পছন্দের কথা ভুলে যায়।

Native Banner