IT IS HOT NEWS. Some information and news unknown to everyone. Which is only possible in F S S T S T L. SO keeps watching and keeps telling others.
Banner 468x60 for
শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২
শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২
আজ বাংলাদেশের সামনে ভারত
মধুর স্মৃতিটাই মনে রাখে মানুষ। তিক্ত স্মৃতি ভুলে যেতে চায়। বাংলাদেশের
মানুষের যেমন মনে আছে, ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর সুখস্মৃতি। দুই দলের
মধ্যে এরপর আটটি ওয়ানডে হয়েছে এবং আটটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ, এটি যেন
ক্রিকেট ইতিহাসের মুছে যাওয়া কোনো অংশ! এশিয়া কাপে আজ আরেকটি বাংলাদেশ-ভারত
ম্যাচের আগে সবাই ২০০৭ বিশ্বকাপকেই টেনে আনছে বারবার। বাংলাদেশ তো ভারতের
বিপক্ষে ভালো খেলে...।
দুই দল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে ২৩ বার, যার মাত্র দুটিতে বাংলাদেশের জয়। ২০০৪ সালের ডিসেম্বর আর ২০০৭ সালের মার্চে পাওয়া সেই দুটি জয় তিন ম্যাচের মধ্যে। ‘ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো খেলে’ ধারণাটা ছড়িয়ে পড়ার কারণ সেটাই। অথচ এরপর সময় যত এগিয়েছে, দুই দলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয় দূরে সরে গেছে ক্রমেই। এখন বরং প্রশ্ন করা ভালো, ভারতকে আর কেন হারাতে পারছে না বাংলাদেশ?
সেই প্রশ্ন কেউ করে না। কাল মুশফিকুর রহিমের সংবাদ সম্মেলনেও ‘বাংলাদেশ তো ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলে’ জাতীয় প্রশ্ন হলো। বাংলাদেশ অধিনায়কও প্রশ্নের মূলভাবটা মেনে নিলেন, ‘অবশ্যই। ভারতের সঙ্গে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমার মনে হয়, তাদের বোলিং পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো অতটা ভালো না। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা কালকের (আজ) ম্যাচটা ভালো খেলব। আর ভারতের সাথে তো আমরা বরাবরই ভালো খেলি।’
সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও একই দাবি করে গেছেন আগের দিন। এক দিক দিয়ে ভালোই। এই দলটার বিপক্ষে আমরা ভালো খেলি, এমন বিশ্বাস তো কিছুটা হলেও এগিয়ে দিতে পারে মানসিকভাবে। কাগজে-কলমে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে এই একটা জিনিসই আজ আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে বাংলাদেশের। অবশ্য মুশফিকের সমীকরণে বড় দলের বিপক্ষে জয়টা সব সময়ই গৌণ। আগে আসে সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারা, ‘আমার মনে হয় হারজিতটা আমাদের মতো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বড় দলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা। তাহলেই দেখা যাবে একটা সময় জেতার আত্মবিশ্বাস আসবে।’ উদাহরণ হিসেবে সামনে আনলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটাকে, যে ম্যাচ হতে পারে ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাসে আরেকটু জ্বালানি।
মিরপুরের রহস্যময় উইকেট এশিয়া কাপে অবিশ্বাস্য রকমের ব্যাটিং-সহায়ক। টুর্নামেন্টের চার দল থেকেই বলা হচ্ছে, এই উইকেটে ব্যাটিং করে অনেক আনন্দ। শ্রীলঙ্কার কালকের ইনিংসটা বাদ দিলে স্কোরকার্ডগুলোও তা-ই বলছে। মিরপুরের উইকেট রহস্যময়তার খোলস থেকে বেরিয়ে আসায় খুশি মুশফিকও, ‘এখানকার উইকেট এমনিতে যে রকম ছিল, বিপিএল থেকে ও রকম হচ্ছে না। ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট হচ্ছে। এটা ব্যাটসম্যানের জন্য ভালো, ওয়ানডে ক্রিকেট তো সব সময় ব্যাটসম্যানের জন্যই।’
কিন্তু উইকেটের বন্ধুতা যতই থাকুক, আসল কাজটা তো ব্যাটসম্যানদেরই করতে হবে। গৌতম গম্ভীর বা বিরাট কোহলির মতো কে আছে বাংলাদেশের, যাঁর ব্যাট আজ দেখাবে মিরপুরের উইকেট এখন ব্যাটিং স্বর্গ? কেউই নেই। কিংবা কে জানে, আজ হয়তো জ্বলে উঠবেন কেউ। তবে ভারত থেকে এসে কোহলি এখন পর্যন্ত মিরপুরে যা করেছেন, বাংলাদেশের কেউ এর ধারেকাছেও নেই। এ মাঠে সাত ম্যাচ খেলে ৪৮৩ রান কোহলির, গড় ১২০.৭৫। সেঞ্চুরি তিনটি, যার শেষ দুটি পরপর দুই ম্যাচে।
মিরপুরে আজ সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করতে চান কি না, সেটি কাল জানা সম্ভব হয়নি কোহলির কাছে। সকালের অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেসার বিনয় কুমারকে পাঠানো হয়েছিল। কোহলি কী করতে পারেন, সেটা তো আর বিনয়ের কাছে জানতে চাওয়া যায় না। তবে মিরপুরের উইকেটে জেতার জন্য অন্তত ২৮০-৯০ রান দরকার মনে করছেন বিনয়। মুশফিকের ধারণাও তা-ই। সঙ্গে বিশেষ দ্রষ্টব্যের মতো যোগ করলেন, ‘টেন্ডুলকার দাঁড়িয়ে গেলে ওদের বড় ইনিংস আটকানো কঠিন।’
এশিয়া কাপ ঘুরেফিরে সেই টেন্ডুলকারে এসেই ঠেকছে। টেন্ডুলকারের শততম সেঞ্চুরি হবে কি না, সেটা আজকের ম্যাচেও বড় আলোচনা। বাংলাদেশ দল অবশ্যই চায় না, সেঞ্চুরিটা তাদের বিপক্ষে হয়ে যাক। তবে এশিয়া কাপেই রচিত হোক শততম সেঞ্চুরির ইতিহাস, এটা যেন সবারই চাওয়া।
শচীন টেন্ডুলকার বোধ হয় এখানেই ব্যতিক্রম। প্রতিপক্ষ হিসেবে সবারই ‘অপছন্দে’র হলেও প্রতিপক্ষ দলে তাঁর ভক্তও কম নয়।
দুই দল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে ২৩ বার, যার মাত্র দুটিতে বাংলাদেশের জয়। ২০০৪ সালের ডিসেম্বর আর ২০০৭ সালের মার্চে পাওয়া সেই দুটি জয় তিন ম্যাচের মধ্যে। ‘ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো খেলে’ ধারণাটা ছড়িয়ে পড়ার কারণ সেটাই। অথচ এরপর সময় যত এগিয়েছে, দুই দলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয় দূরে সরে গেছে ক্রমেই। এখন বরং প্রশ্ন করা ভালো, ভারতকে আর কেন হারাতে পারছে না বাংলাদেশ?
সেই প্রশ্ন কেউ করে না। কাল মুশফিকুর রহিমের সংবাদ সম্মেলনেও ‘বাংলাদেশ তো ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলে’ জাতীয় প্রশ্ন হলো। বাংলাদেশ অধিনায়কও প্রশ্নের মূলভাবটা মেনে নিলেন, ‘অবশ্যই। ভারতের সঙ্গে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমার মনে হয়, তাদের বোলিং পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো অতটা ভালো না। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা কালকের (আজ) ম্যাচটা ভালো খেলব। আর ভারতের সাথে তো আমরা বরাবরই ভালো খেলি।’
সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও একই দাবি করে গেছেন আগের দিন। এক দিক দিয়ে ভালোই। এই দলটার বিপক্ষে আমরা ভালো খেলি, এমন বিশ্বাস তো কিছুটা হলেও এগিয়ে দিতে পারে মানসিকভাবে। কাগজে-কলমে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে এই একটা জিনিসই আজ আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে বাংলাদেশের। অবশ্য মুশফিকের সমীকরণে বড় দলের বিপক্ষে জয়টা সব সময়ই গৌণ। আগে আসে সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারা, ‘আমার মনে হয় হারজিতটা আমাদের মতো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বড় দলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা। তাহলেই দেখা যাবে একটা সময় জেতার আত্মবিশ্বাস আসবে।’ উদাহরণ হিসেবে সামনে আনলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটাকে, যে ম্যাচ হতে পারে ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাসে আরেকটু জ্বালানি।
মিরপুরের রহস্যময় উইকেট এশিয়া কাপে অবিশ্বাস্য রকমের ব্যাটিং-সহায়ক। টুর্নামেন্টের চার দল থেকেই বলা হচ্ছে, এই উইকেটে ব্যাটিং করে অনেক আনন্দ। শ্রীলঙ্কার কালকের ইনিংসটা বাদ দিলে স্কোরকার্ডগুলোও তা-ই বলছে। মিরপুরের উইকেট রহস্যময়তার খোলস থেকে বেরিয়ে আসায় খুশি মুশফিকও, ‘এখানকার উইকেট এমনিতে যে রকম ছিল, বিপিএল থেকে ও রকম হচ্ছে না। ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট হচ্ছে। এটা ব্যাটসম্যানের জন্য ভালো, ওয়ানডে ক্রিকেট তো সব সময় ব্যাটসম্যানের জন্যই।’
কিন্তু উইকেটের বন্ধুতা যতই থাকুক, আসল কাজটা তো ব্যাটসম্যানদেরই করতে হবে। গৌতম গম্ভীর বা বিরাট কোহলির মতো কে আছে বাংলাদেশের, যাঁর ব্যাট আজ দেখাবে মিরপুরের উইকেট এখন ব্যাটিং স্বর্গ? কেউই নেই। কিংবা কে জানে, আজ হয়তো জ্বলে উঠবেন কেউ। তবে ভারত থেকে এসে কোহলি এখন পর্যন্ত মিরপুরে যা করেছেন, বাংলাদেশের কেউ এর ধারেকাছেও নেই। এ মাঠে সাত ম্যাচ খেলে ৪৮৩ রান কোহলির, গড় ১২০.৭৫। সেঞ্চুরি তিনটি, যার শেষ দুটি পরপর দুই ম্যাচে।
মিরপুরে আজ সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করতে চান কি না, সেটি কাল জানা সম্ভব হয়নি কোহলির কাছে। সকালের অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেসার বিনয় কুমারকে পাঠানো হয়েছিল। কোহলি কী করতে পারেন, সেটা তো আর বিনয়ের কাছে জানতে চাওয়া যায় না। তবে মিরপুরের উইকেটে জেতার জন্য অন্তত ২৮০-৯০ রান দরকার মনে করছেন বিনয়। মুশফিকের ধারণাও তা-ই। সঙ্গে বিশেষ দ্রষ্টব্যের মতো যোগ করলেন, ‘টেন্ডুলকার দাঁড়িয়ে গেলে ওদের বড় ইনিংস আটকানো কঠিন।’
এশিয়া কাপ ঘুরেফিরে সেই টেন্ডুলকারে এসেই ঠেকছে। টেন্ডুলকারের শততম সেঞ্চুরি হবে কি না, সেটা আজকের ম্যাচেও বড় আলোচনা। বাংলাদেশ দল অবশ্যই চায় না, সেঞ্চুরিটা তাদের বিপক্ষে হয়ে যাক। তবে এশিয়া কাপেই রচিত হোক শততম সেঞ্চুরির ইতিহাস, এটা যেন সবারই চাওয়া।
শচীন টেন্ডুলকার বোধ হয় এখানেই ব্যতিক্রম। প্রতিপক্ষ হিসেবে সবারই ‘অপছন্দে’র হলেও প্রতিপক্ষ দলে তাঁর ভক্তও কম নয়।
বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২
ইউনিসেফের বার্ষিক প্রতিবেদন বস্তির শিশুদের বঞ্চনা সবচেয়ে বেশি
ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে শহরের বস্তি এলাকায় শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
শহরে হাতের কাছে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা থাকলেও দরিদ্র ও বস্তির মানুষ সেসব
সেবা গ্রহণ করতে পারছে না। বস্তির শিশুদের পুষ্টি-পরিস্থিতি গ্রামের দরিদ্র
পরিবারের শিশুদের চেয়েও খারাপ।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) ‘বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি ২০১২’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেয় ইউনিসেফ। ইউনিসেফের এ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রতিপাদ্য ‘নগরজীবনে শিশু’।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এ দেশের শহর ও নগরের বস্তির শিশুদের বঞ্চনা ও বিপন্নতার চিত্র তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, প্রতি হাজার জীবিত জন্মে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার শহরে (অবস্তি এলাকা) ৫৫, গ্রামে ৬৬ এবং শহরের বস্তিতে ৯৫। গ্রামের ১৯ শতাংশ নবজাতক জন্মের সময় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা পায়, বস্তিতে পায় ১৫ শতাংশ। শহরে (অবস্তি এলাকা) ও গ্রামে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার যথাক্রমে ২৬ ও ২২ শতাংশ। বস্তিতে এই হার ১৩ শতাংশ। শহর ও গ্রামে ৮০ শতাংশ শিশু পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পৌঁছায়, বস্তিতে পৌঁছায় ৪৮ শতাংশ। ঝরে পড়ার হার শহরে ও গ্রামে ১ শতাংশ, বস্তিতে ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের সময় ইউনিসেফের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক আরিফা এস শারমীন বলেন, শহর ও নগরের শিশুদের ব্যাপারে সমন্বিত তথ্য নেই। বস্তির শিশুদের তথ্য পাওয়া কঠিন। এর অন্যতম কারণ, বস্তিতে জন্মনিবন্ধনের হার কম এবং ভূমির মালিকানা না থাকা।
‘বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি ২০১২’ প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বস্তির শিশুরা মোটা দাগে পাঁচ ধরনের বঞ্চনার শিকার। এগুলো হচ্ছে: স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ও উন্নত পয়োব্যবস্থা, বাসস্থানের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও বিনোদন।
প্রতিবেদনে ৬০টির বেশি দেশের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এইচআইভি ও এইডসে আক্রান্ত দেশগুলোয় সংক্রমণের হার কমে এলেও বাংলাদেশসহ সাতটি দেশে আক্রান্তের হার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। শহরে এইচআইভির প্রকোপ বেশি।
ইউনিসেফ বলছে, রাজধানী ঢাকায় প্রত্যেক বাবা-মা প্রতিটি শিশুর পড়াশোনার জন্য মোট আয়ের ১০ শতাংশ ব্যয় করে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারে এই ব্যয় ২০ শতাংশ। শহরাঞ্চলে ৫৩ ও গ্রামাঞ্চলে ৪৮ শতাংশ শিশু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে; বস্তিতে করছে ১৮ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফকিরেরপুল বস্তির শিশু মৌসুমী আক্তার বলে, তাদের বস্তিতে ৫০-৬০ জন মানুষের জন্য মাত্র দুটি শৌচাগার ও দুটি চুলা। বড়দের ভিড়ে তারা ঠিকমতো শৌচাগার ব্যবহার করতে পারে না। বস্তির কিছু যুবক শিশুদের মাদক কেনাবেচায় বাধ্য করে। মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বস্তির জনসংখ্যা ২০১০ সালে ছিল ৭০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। বিশ্বের ২১টি প্রথম শ্রেণীর মেগাসিটির মধ্যে ঢাকার অবস্থান নবম। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বস্তিবাসী শিশুর সংখ্যা নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গ্রামাঞ্চলের (৭৮ শতাংশ) চেয়ে শহরাঞ্চলের (৯৬ শতাংশ) মানুষ উন্নত সুপেয় পানির সুবিধা ভোগ করে। কিন্তু বস্তি এলাকায় ব্যাপক ঘনবসতির সঙ্গে নিরাপদ খাওয়ার পানি ও ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ না থাকায় পুরো পরিবেশই দূষিত হয়ে পড়ছে। নিম্নমানের সেবার জন্যও বস্তিবাসীকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলেনোভ বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের কাছে বস্তিতে এবং সুবিধাবঞ্চিত অবস্থায় থাকা শিশুরা প্রায়ই অদৃশ্য থাকে, পরিসংখ্যানের গড় অনুপাতের ভেতর হারিয়ে যায়।’
প্রতিবেদন সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আবুল বারকাত বলেন, প্রতিবেদনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক গড় হিসাবের বাইরে এসে বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ। তিনি বলেন, বস্তির শিশুরা বিপন্ন, বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) ‘বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি ২০১২’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেয় ইউনিসেফ। ইউনিসেফের এ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রতিপাদ্য ‘নগরজীবনে শিশু’।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এ দেশের শহর ও নগরের বস্তির শিশুদের বঞ্চনা ও বিপন্নতার চিত্র তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, প্রতি হাজার জীবিত জন্মে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার শহরে (অবস্তি এলাকা) ৫৫, গ্রামে ৬৬ এবং শহরের বস্তিতে ৯৫। গ্রামের ১৯ শতাংশ নবজাতক জন্মের সময় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা পায়, বস্তিতে পায় ১৫ শতাংশ। শহরে (অবস্তি এলাকা) ও গ্রামে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার যথাক্রমে ২৬ ও ২২ শতাংশ। বস্তিতে এই হার ১৩ শতাংশ। শহর ও গ্রামে ৮০ শতাংশ শিশু পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পৌঁছায়, বস্তিতে পৌঁছায় ৪৮ শতাংশ। ঝরে পড়ার হার শহরে ও গ্রামে ১ শতাংশ, বস্তিতে ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের সময় ইউনিসেফের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক আরিফা এস শারমীন বলেন, শহর ও নগরের শিশুদের ব্যাপারে সমন্বিত তথ্য নেই। বস্তির শিশুদের তথ্য পাওয়া কঠিন। এর অন্যতম কারণ, বস্তিতে জন্মনিবন্ধনের হার কম এবং ভূমির মালিকানা না থাকা।
‘বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি ২০১২’ প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বস্তির শিশুরা মোটা দাগে পাঁচ ধরনের বঞ্চনার শিকার। এগুলো হচ্ছে: স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ও উন্নত পয়োব্যবস্থা, বাসস্থানের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও বিনোদন।
প্রতিবেদনে ৬০টির বেশি দেশের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এইচআইভি ও এইডসে আক্রান্ত দেশগুলোয় সংক্রমণের হার কমে এলেও বাংলাদেশসহ সাতটি দেশে আক্রান্তের হার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। শহরে এইচআইভির প্রকোপ বেশি।
ইউনিসেফ বলছে, রাজধানী ঢাকায় প্রত্যেক বাবা-মা প্রতিটি শিশুর পড়াশোনার জন্য মোট আয়ের ১০ শতাংশ ব্যয় করে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারে এই ব্যয় ২০ শতাংশ। শহরাঞ্চলে ৫৩ ও গ্রামাঞ্চলে ৪৮ শতাংশ শিশু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে; বস্তিতে করছে ১৮ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফকিরেরপুল বস্তির শিশু মৌসুমী আক্তার বলে, তাদের বস্তিতে ৫০-৬০ জন মানুষের জন্য মাত্র দুটি শৌচাগার ও দুটি চুলা। বড়দের ভিড়ে তারা ঠিকমতো শৌচাগার ব্যবহার করতে পারে না। বস্তির কিছু যুবক শিশুদের মাদক কেনাবেচায় বাধ্য করে। মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বস্তির জনসংখ্যা ২০১০ সালে ছিল ৭০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। বিশ্বের ২১টি প্রথম শ্রেণীর মেগাসিটির মধ্যে ঢাকার অবস্থান নবম। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বস্তিবাসী শিশুর সংখ্যা নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গ্রামাঞ্চলের (৭৮ শতাংশ) চেয়ে শহরাঞ্চলের (৯৬ শতাংশ) মানুষ উন্নত সুপেয় পানির সুবিধা ভোগ করে। কিন্তু বস্তি এলাকায় ব্যাপক ঘনবসতির সঙ্গে নিরাপদ খাওয়ার পানি ও ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ না থাকায় পুরো পরিবেশই দূষিত হয়ে পড়ছে। নিম্নমানের সেবার জন্যও বস্তিবাসীকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলেনোভ বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের কাছে বস্তিতে এবং সুবিধাবঞ্চিত অবস্থায় থাকা শিশুরা প্রায়ই অদৃশ্য থাকে, পরিসংখ্যানের গড় অনুপাতের ভেতর হারিয়ে যায়।’
প্রতিবেদন সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আবুল বারকাত বলেন, প্রতিবেদনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক গড় হিসাবের বাইরে এসে বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ। তিনি বলেন, বস্তির শিশুরা বিপন্ন, বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম।
চিকিৎসক ধর্ষণ করলেন অসুস্থ তরুণীকে
এবার পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসক ধর্ষণ করলেন
অসুস্থ এক তরুণীকে। তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই চিকিৎসককে
আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়ায় ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে তার মা হাসপাতালের চিকিত্সকের কক্ষ থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়।
ওই তরুণীর মা বলেন, ‘সেদিন ওই চিকিৎসক আমাদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলে আমার মেয়েকে তাঁর কক্ষের ভেতরে নিয়ে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আমি ভেতরে গিয়ে যা দেখি, তা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমার মেয়ে ছিল বিবস্ত্র। সে কাঁদছিল। হতবিহ্বল হয়ে আমি চিকিৎসককে প্রশ্ন করেছিলাম, এই আপনার চিকিৎসা?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে ইশারার মাধ্যমে আমাকে বোঝালো যে, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।’
গতকাল বুধবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই তরুণীকে পরীক্ষা করছিলেন ওই চিকিৎসক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়ায় ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে তার মা হাসপাতালের চিকিত্সকের কক্ষ থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়।
ওই তরুণীর মা বলেন, ‘সেদিন ওই চিকিৎসক আমাদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলে আমার মেয়েকে তাঁর কক্ষের ভেতরে নিয়ে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আমি ভেতরে গিয়ে যা দেখি, তা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমার মেয়ে ছিল বিবস্ত্র। সে কাঁদছিল। হতবিহ্বল হয়ে আমি চিকিৎসককে প্রশ্ন করেছিলাম, এই আপনার চিকিৎসা?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে ইশারার মাধ্যমে আমাকে বোঝালো যে, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।’
গতকাল বুধবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই তরুণীকে পরীক্ষা করছিলেন ওই চিকিৎসক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
সময়ের একগুচ্ছ প্রযুক্তিপণ্য
প্রতিনিয়তই প্রযুক্তির জগতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পণ্য। এসব পণ্য যেমন
দারুণ সব বৈশিষ্ট্য দিয়ে তৈরি, তেমনি রয়েছে আধুনিক সব সুবিধা। বর্তমান
সময়ের এমন কিছু প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে লিখেছেন নুরুন্নবী চৌধুরী
ওষুধদেবে চিপ
নানা ধরনের প্রযুক্তির মধ্যে এবার এসেছে ওষুধ দেওয়ার এক ধরনের চিপ। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক রবার্ট ল্যাঙ্গার এবং মাইকেল সিমা এ চিপটি তৈরি করেছেন।
এমআইটির সঙ্গে এ কাজে যুক্ত হয়েছেন মাইক্রোচিপস ইনকরপোরেটেডের গবেষকেরা। চিপটি এমনভাবে তৈরি, যাতে বেতারপ্রযুক্তি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি) ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে চিপটি রোগীর দেহে ওষুধ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার মতোই এটি কাজ করবে।এ ছাড়া রোগীকে কখন কোন ওষুধ কী পরিমাণ দিতে হবে, তাও নির্ণয় সম্ভব হবে। চিপটি তৈরির ক্ষেত্রে গবেষকেরা ৬৫-৭০ বছর বয়সী সাতজন নারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েও সফল হয়েছেন। শরীরে যে চিপটি থাকবে তা রোগীর মনেই হবে না। তা ছাড়া যেহেতু চিপটি প্রোগ্রাম করা যাবে, তাই ওষুধ প্রয়োগের সময়সূচি যেমন তৈরি করা সম্ভব, তেমনি বেতারতরঙ্গের ব্যবহার করে প্রয়োজনবোধে দূর থেকে ওষুধ দেওয়া যাবে।
ছোড়াছুড়ির রোবট
নিত্যনতুন সুবিধার পাশাপাশি নানা ধরনের রোবট প্রাত্যহিক কাজে সাহায্য করছে। রোবটকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেসব বিষয়ে প্রতিনিয়তই গবেষণা করে যাচ্ছেন গবেষকেরা। কোনো কিছু ছুড়ে মারার এমনই এক রোবট এসেছে সম্প্রতি। বাস্কেটবল থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কিছু ছুড়ে মারার এ রোবটটি তৈরি করেছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটি ও দ্য ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর একদল গবেষক। কিনেটিক অবজেক্ট গ্রিফিং আর্ম (কেওএনএ) নামের এ হাত রোবটটি যেকোনো জায়গা থেকে পণ্য যেমন ছুড়ে মারতে পারবে, তেমনি চাইলে কিছু বহনও করতে পারবে।
পানি-নিরোধক যন্ত্র
প্রযুক্তির নতুন নতুন পণ্য যেমন আসছে, তেমনি এর নিরাপত্তা কিংবা সহজ ব্যবহারের জন্যও চলছে গবেষণা। প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রে পানি বড় একটি আতঙ্কের নাম। এবার পানি-নিরোধক ডিভাইস বাজারে নিয়ে এসেছে জাপানের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এনটিটি ডোকোমো। পানি-নিরোধক দুটি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট কম্পিউটারে আছে ৪.৫ ইঞ্চি এইচডি গ্লাসফ্রি থ্রিডি পর্দা, ১.২ গিগাহার্টজ ডুয়েল কোর প্রসেসর ইত্যাদি। এ যন্ত্রটি যেমন সাধারণভাবে ব্যবহার করা যাবে, তেমনি পানিতেও এর কোনো ক্ষতি হবে না।
বাতাস ছাড়া টায়ার
এবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বখ্যাত চাকা নির্মাতা ব্রিজস্টোন বাতাসহীন চাকা তৈরি করেছে। এ চাকায় বাতাসের পরিবর্তে থার্মোপ্লাস্টিক রেজিন ব্যবহার করে চাকার অবকাঠামোকে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, বাতাস না থাকায় চাকাগুলো নিয়ে নেই পাংচার হওয়ার চিন্তা। চাকাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এগুলোর মাঝে বিশেষভাবে বাঁকানো রয়েছে স্পোক। বাতাসহীন চাকাটি বর্তমানে ১৫০ কেজি বহন করতে সক্ষম।
সবচেয়ে বড় ট্যাবলেট!
ল্যাপটপকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে ট্যাবলেট বাজার। ছোট ও বহনযোগ্য হওয়ায় সহজেই এর ব্যবহারকারী বাড়ছে। সাধারণত ট্যাবলেটের সাইজ হয় সর্বোচ্চ ১০ ইঞ্চি। এ ধরনের ছোট ট্যাবলেট দেখতে অভ্যস্ত সবাই। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে সবচেয়ে বড় ট্যাবলেট তৈরি করেতে যাচ্ছেন ১২ বছর বয়সী জেমস হার্ডম্যান! উইন্ডোজ চালিত ১৭ ইঞ্চি ট্যাবলেট তৈরির কথা জানিয়েছেন সে। বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানোর সময় হার্ডম্যান জানায়, বড় আকারের এ ট্যাবলেট তৈরিতে কী কী প্রয়োজন হতে পারে তার সবই জানে সে। ট্যাবলেটটির সাহায্যে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজেও যাতে লাগানো যায় সে বিষয়টির কথাও জানায় সে। এর হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারগুলোও হবে বেশ শক্তিশালী। মাত্র তিন পাউন্ড ওজনের ট্যাবলেটটির ব্যাটারির স্থায়িত্বকাল হবে প্রায় সাত ঘণ্টা। বিনিয়োগ পেলে চলতি বছরেই ট্যাবলেটটির কাজ শেষ করতে পারবে বলে জানিয়েছে হার্ডম্যান।
সূত্র: পপসাই ডট কম ও ম্যাশঅ্যাবল ডট কম
ওষুধদেবে চিপ
নানা ধরনের প্রযুক্তির মধ্যে এবার এসেছে ওষুধ দেওয়ার এক ধরনের চিপ। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক রবার্ট ল্যাঙ্গার এবং মাইকেল সিমা এ চিপটি তৈরি করেছেন।
এমআইটির সঙ্গে এ কাজে যুক্ত হয়েছেন মাইক্রোচিপস ইনকরপোরেটেডের গবেষকেরা। চিপটি এমনভাবে তৈরি, যাতে বেতারপ্রযুক্তি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি) ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে চিপটি রোগীর দেহে ওষুধ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার মতোই এটি কাজ করবে।এ ছাড়া রোগীকে কখন কোন ওষুধ কী পরিমাণ দিতে হবে, তাও নির্ণয় সম্ভব হবে। চিপটি তৈরির ক্ষেত্রে গবেষকেরা ৬৫-৭০ বছর বয়সী সাতজন নারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েও সফল হয়েছেন। শরীরে যে চিপটি থাকবে তা রোগীর মনেই হবে না। তা ছাড়া যেহেতু চিপটি প্রোগ্রাম করা যাবে, তাই ওষুধ প্রয়োগের সময়সূচি যেমন তৈরি করা সম্ভব, তেমনি বেতারতরঙ্গের ব্যবহার করে প্রয়োজনবোধে দূর থেকে ওষুধ দেওয়া যাবে।
ছোড়াছুড়ির রোবট
নিত্যনতুন সুবিধার পাশাপাশি নানা ধরনের রোবট প্রাত্যহিক কাজে সাহায্য করছে। রোবটকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেসব বিষয়ে প্রতিনিয়তই গবেষণা করে যাচ্ছেন গবেষকেরা। কোনো কিছু ছুড়ে মারার এমনই এক রোবট এসেছে সম্প্রতি। বাস্কেটবল থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কিছু ছুড়ে মারার এ রোবটটি তৈরি করেছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটি ও দ্য ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর একদল গবেষক। কিনেটিক অবজেক্ট গ্রিফিং আর্ম (কেওএনএ) নামের এ হাত রোবটটি যেকোনো জায়গা থেকে পণ্য যেমন ছুড়ে মারতে পারবে, তেমনি চাইলে কিছু বহনও করতে পারবে।
পানি-নিরোধক যন্ত্র
প্রযুক্তির নতুন নতুন পণ্য যেমন আসছে, তেমনি এর নিরাপত্তা কিংবা সহজ ব্যবহারের জন্যও চলছে গবেষণা। প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রে পানি বড় একটি আতঙ্কের নাম। এবার পানি-নিরোধক ডিভাইস বাজারে নিয়ে এসেছে জাপানের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এনটিটি ডোকোমো। পানি-নিরোধক দুটি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট কম্পিউটারে আছে ৪.৫ ইঞ্চি এইচডি গ্লাসফ্রি থ্রিডি পর্দা, ১.২ গিগাহার্টজ ডুয়েল কোর প্রসেসর ইত্যাদি। এ যন্ত্রটি যেমন সাধারণভাবে ব্যবহার করা যাবে, তেমনি পানিতেও এর কোনো ক্ষতি হবে না।
বাতাস ছাড়া টায়ার
এবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বখ্যাত চাকা নির্মাতা ব্রিজস্টোন বাতাসহীন চাকা তৈরি করেছে। এ চাকায় বাতাসের পরিবর্তে থার্মোপ্লাস্টিক রেজিন ব্যবহার করে চাকার অবকাঠামোকে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, বাতাস না থাকায় চাকাগুলো নিয়ে নেই পাংচার হওয়ার চিন্তা। চাকাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এগুলোর মাঝে বিশেষভাবে বাঁকানো রয়েছে স্পোক। বাতাসহীন চাকাটি বর্তমানে ১৫০ কেজি বহন করতে সক্ষম।
সবচেয়ে বড় ট্যাবলেট!
ল্যাপটপকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে ট্যাবলেট বাজার। ছোট ও বহনযোগ্য হওয়ায় সহজেই এর ব্যবহারকারী বাড়ছে। সাধারণত ট্যাবলেটের সাইজ হয় সর্বোচ্চ ১০ ইঞ্চি। এ ধরনের ছোট ট্যাবলেট দেখতে অভ্যস্ত সবাই। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে সবচেয়ে বড় ট্যাবলেট তৈরি করেতে যাচ্ছেন ১২ বছর বয়সী জেমস হার্ডম্যান! উইন্ডোজ চালিত ১৭ ইঞ্চি ট্যাবলেট তৈরির কথা জানিয়েছেন সে। বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানোর সময় হার্ডম্যান জানায়, বড় আকারের এ ট্যাবলেট তৈরিতে কী কী প্রয়োজন হতে পারে তার সবই জানে সে। ট্যাবলেটটির সাহায্যে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজেও যাতে লাগানো যায় সে বিষয়টির কথাও জানায় সে। এর হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারগুলোও হবে বেশ শক্তিশালী। মাত্র তিন পাউন্ড ওজনের ট্যাবলেটটির ব্যাটারির স্থায়িত্বকাল হবে প্রায় সাত ঘণ্টা। বিনিয়োগ পেলে চলতি বছরেই ট্যাবলেটটির কাজ শেষ করতে পারবে বলে জানিয়েছে হার্ডম্যান।
সূত্র: পপসাই ডট কম ও ম্যাশঅ্যাবল ডট কম
ঢাকা কলেজ শেখার ছলে জলে-স্থলে ইমাম হাসান
ধেই ধেই করে এগিয়ে চলছে বাস। তার শব্দ ছাপিয়ে যাচ্ছে ডজন চারেক কণ্ঠস্বর।
কখনো সুরে, কখনো বেসুরে চলছে গান গাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা। দু-চারজন যা-ও বসে
ছিলেন, তাঁদের দেখে মনে হলো গানের রিয়েলিটি শোর বিচারকের আসনে তাঁরা। ‘লাইন
ভুল, বানান ভুল’ বলে চিৎকার করছে। কে শোনে কার কথা! ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা
পেরিয়ে গাড়ি মোড় নিল দোহারের দিকে। দুই পাশের সবুজ ধানখেত যেন অভিনন্দন
জানাচ্ছে তরুণ প্রাণে ভরা এই শিক্ষার্থীদের। পথের উৎসুক লোকগুলো কিছু বুঝে
ওঠার আগেই গাড়ি চলে যাচ্ছে আরও সামনে। শিক্ষার্থীদের এই দলটা ছিল ঢাকা
কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের। তৃতীয় বর্ষের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত
আর্থসামাজিক জরিপ করতেই তাঁদের এই যাত্রা। পদ্মার কোল ঘেঁষা বাহ্রা ঘাটে
হবে জরিপের কাজ। তারপর সেখান থেকে ট্রলারে চেপে সোজা নতুন একটি চরের
উদ্দেশে হবে যাত্রা। জরিপের সঙ্গে জমা দিতে হবে সচিত্র প্রতিবেদন। তাই
আলাদা কিছু দেখলেই ফাহাদ ক্লিক করছেন ক্যামেরায়। মোটা চশমার ফ্রেমের মধ্য
দিয়ে তাকিয়ে নোট টুকছেন শফিকুল ইসলাম। শ্রীনগরে বাস একটু জিরিয়ে নিতেই সবাই
হইহই করে নামলেন নিচে। শিক্ষকদের মধ্য থেকে সালমা খাতুন জানালেন, ‘পাশেই
জগদীশচন্দ্র বসুর বাড়ি।’ সবাই এগিয়ে গেলেন তার সংগ্রহশালা দেখতে। কিছুক্ষণ
ঘোরাঘুরি চলল ইতিউতি। তারপর আবার বাসে উঠে পাক্কা আড়াই ঘণ্টা পর পৌঁছানো
গেল বাহ্রা ঘাটে। শিক্ষাসফরের অগ্রবর্তী দল হিসেবে এক দিন আগেই সেখানে
পৌঁছান জাহিদ আর ইমরান। তাঁদের আয়োজনেই দুপুরের ভোজ হবে পদ্মার মাঝে অচেনা
এক চরে। ‘সব ঠিকঠাক চলছে’, জাহিদের এই গ্রিন সিগন্যালের পর শিক্ষকেরা মোট
৫২ জন শিক্ষার্থীর এই দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে দেন। দলনেতাসহ সবাই বেরিয়ে
পড়েন ওই গ্রামের আর্থসামাজিক জরিপে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের নানা বিষয় জেনে
তা লিখে নেওয়া। কারও আবার কৌতূহলের মাত্রা অনেকটা বাড়াবাড়ি রকমের বেড়ে
গেল। যেমন জিয়া খালিদ। নিজের কাজ করে যেন অনেকটা অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরেছে
তাঁর। আর তাই সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন অন্য বন্ধুদের। কাজ শেষে সবাই এবার
নির্ধারিত ট্রলারে চাপলেন। তাতানো পেটে যেন চার দিনের ক্ষুধা। ইঞ্জিনের
শব্দে আবার সবাই গলা মেলালেন। পদ্মার বুক চিরে ট্রলার এগোচ্ছে সাঁই সাঁই
গতিতে। পশ্চিমে হেলান দিয়ে সূর্যটা জলকে করে তুলেছে রুপালি। মিনিট ত্রিশ
এগিয়ে ক্ষ্যান্ত দিল ট্রলার। দ্বীপে নেমেই একদল ফুটবলে চালাতে শুরু করল
বেধড়ক পিটাপিটি। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ কোর্স শিক্ষক শামসুজ্জামানকে নিয়ে
নামকরণ করলেন স্থানটির—নবদ্বীপ। ঝুলিয়ে দেওয়া হলো কাগজে লিখে। দুপুরের গোসল
আর সাঁতারে প্রাণোচ্ছল পদ্মা। ততক্ষণে রান্না শেষ। ভূরিভোজের পর আনন্দ
আয়োজন। গান, আবৃত্তি, জোকস আর কুপনে ট্রলার আবার সরগরম ফিরতি পথে। মাঝপথে
জয় আওয়াজ দিয়ে জানালেন, ‘আমার টি-শার্ট ফেলে এসেছি।’ কিন্তু ততক্ষণে বেলা
অস্তপাড়ে। বিভাগীয় প্রধান আক্তার জাহানের তাই কড়া হুঁশিয়ারি, ‘আর ঘোরাফেরা
নয়। দ্রুত ফিরতে হবে।’ গাড়িতে উঠেও আবার এক প্রতিযোগিতা। তবে পুরস্কারে ছিল
নতুন নিয়ম। সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয় এটি। গাড়ি
এগিয়ে চলে ঢাকার পথে। হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি। নেমে পড়েন সবাই। জ্যোৎস্না
তখন দুধসাদা। আর তাই শিক্ষক কেয়া বালা ও নায়লা আক্তারের সঙ্গে গলা মেলান
বাকিরা, ‘আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে/ বসন্তের এই মাতাল সমীরণে’।
বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ উদ্যোক্তা কাজের কাজি সুমাইয়া নুরুন্নবী চৌধুরী |
বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রভাবশালী ৫০ উদ্যোক্তার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণী। নাম তাঁর সুমাইয়া কাজি। সম্প্রতি রয়টার্স ও
ক্লাউট ওয়েবসাইট জগতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০ উদ্যোক্তার যে তালিকাটি প্রকাশ
করে, সেখানে ১৬ নম্বরে আছেন সুমাইয়া।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও ক্লাউট সম্প্রতি বিশ্বের সেরা ৫০ উদ্যোক্তার যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সে তালিকায় ১৬ নম্বরে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সুমাইয়া আন্দালিব কাজি। তবে ভাবার কারণ নেই, এটিই সুমাইয়ার সাফল্যের শুরু। সুমাইয়ার সাফল্যের শুরু বরং অনেক আগে, সেই ২০০৬ সালে। সে বছর বিজনেস উইক ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিল অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী সেরা উদ্যোক্তাদের এক তালিকা। সে তালিকাতেও সগৌরবে স্থান করে নেয়েছিলেন সুমাইয়া। পেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিনন্দন। এ ছাড়া একই বছর উইক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বসেরা ৭৫ নারী উদ্যোক্তার মধ্যেও ছিলেন তিনি। পেয়েছেন সিএনএনের ‘ইয়ং পারসন হু রকস’ এবং কালার লাইট ম্যাগাজিনের সেরা তরুণ উদ্যোক্তা পুরস্কার। কিন্তু সুমাইয়ার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প বেশ কয়েক বছর আগে থেকে। তখন ২০০৫ সাল। সুমাইয়া সবে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে মার্কেটিং অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং বিষয়ে উচ্চতর পড়ালেখা শেষ করে যোগ দিয়েছেন সানমাইক্রোসিস্টেমে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে। পাশাপাশি শুরু করেছেন ‘কালচারাল কানেক্ট ডট কম’ (টিসিসিসি) নামের একটি অনলাইন মিডিয়া প্রতিষ্ঠার কাজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি প্রকাশ করতে শুরু করেন সাপ্তাহিক ‘দ্য দেশি কানেক্ট’, ‘দ্য মিডলইস্ট কানেক্ট’, ‘দ্য লাতিন কানেক্ট’, ‘দি এশিয়া কানেক্ট’ ও ‘দি আফ্রিকান কানেক্ট’ নামের পাঁচটি অনলাইন ম্যাগাজিন। সময় গড়ায় আর সুমাইয়ার এ ম্যাগাজিনগুলোর জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব ম্যাগাজিনের রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার।
তবে এর মাঝেই সীমায়িত নয় সুমাইয়ার জগৎ। নিজের কর্মজগৎ বিস্তৃত করতে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুমাজি ডট কম’ (www.sumazi.com)
নামের আরেকটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক মূলত সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করে। অল্প সময়ের মধ্যে এই ওয়েবসাইট এতই জনপ্রিয় হয়েছে যে সুমাইয়াকে দুটি দেশের আটটি অঙ্গরাজ্যের ১৮ সিটিতে স্থাপন করতে হয়েছে আলাদা অফিস। ‘বাংলাদেশেও সুমাজি ডট কমের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইচ্ছা আছে আমার। আশা করছি, এর মাধ্যমে অলাভজনকভাবে শিক্ষা, দুর্যোগ, চাকরিপ্রাপ্তি ও বিভিন্ন পরামর্শের ক্ষেত্রে উপকৃত হবে অনেকেই।’ ইউনাইটেড নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন সুমাইয়া।
শুরু থেকেই নিজের কাজের ওপর আস্থা থাকায় নিজের দলের সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পেরেছেন সুমাইয়া। টেকক্রান্সের একটি কাজ দ্রুত এবং দারুণভাবে সম্পন্ন করার পর পেয়ে যান নিউজ এজেন্সি অমিদইয়ার নেটওয়ার্ক অ্যাওয়ার্ড। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ইকোনমিক ফোরামে আমন্ত্রিত হয়ে নারী উদ্যোক্তা বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি। এসব কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে মানবাধিকার, পরিবেশ, শিক্ষা, রক্তদানসহ নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গেও যুক্ত আছেন প্রায় ১০ বছর ধরে। প্রতি সপ্তাহে একদল উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসার আইডিয়ার বিষয়ে দিচ্ছেন পরামর্শ। এক সময়ে চাকরি করা প্রতিষ্ঠান সান মাইক্রোসিস্টেম সুমাইয়াকে ‘সারা বিশ্বের সেরা ২৫ স্বেচ্ছাসেবক’ তালিকার একজন নির্বাচিত করে। নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার শুরুতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তিনজন কর্মী, যা বর্তমানে অর্ধশতাধিক হয়েছে। এখন স্বপ্ন দেখছেন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।
২.
সুমাইয়া কাজির পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলায়। তবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। তবে কর্মসূত্রে এখন বসবাস করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে। বাবা ড. নিজাম উদ্দিন কাজি, মা মেরিনা কাজি। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সুমাইয়ার অবস্থান শীর্ষে। এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি সুমাইয়া। অবসর কাটে কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কাজই আমার অবসর।’ আর কাজের প্রয়োজনেই ইতিমধ্যে আটবার বাংলাদেশে পা রেখেছেন সুমাইয়া। সর্বশেষ এসেছেন বছর দুয়েক আগে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
‘আগামী দু-এক বছরের মধ্যে আবারও বাংলাদেশে আসব আমি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলব এ দেশের নারীদের সঙ্গে। তাদের আমার কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করতে চাই।’ বলেছেন সুমাইয়া কাজি ইউনাইটেড নিউজ টোয়েনটি ফোর ডট কমকে।
....জানলেন তো সুমাইয়া কাজিকে। এবার গলা ফাটিয়ে বলুন ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও ক্লাউট সম্প্রতি বিশ্বের সেরা ৫০ উদ্যোক্তার যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সে তালিকায় ১৬ নম্বরে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সুমাইয়া আন্দালিব কাজি। তবে ভাবার কারণ নেই, এটিই সুমাইয়ার সাফল্যের শুরু। সুমাইয়ার সাফল্যের শুরু বরং অনেক আগে, সেই ২০০৬ সালে। সে বছর বিজনেস উইক ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিল অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী সেরা উদ্যোক্তাদের এক তালিকা। সে তালিকাতেও সগৌরবে স্থান করে নেয়েছিলেন সুমাইয়া। পেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিনন্দন। এ ছাড়া একই বছর উইক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বসেরা ৭৫ নারী উদ্যোক্তার মধ্যেও ছিলেন তিনি। পেয়েছেন সিএনএনের ‘ইয়ং পারসন হু রকস’ এবং কালার লাইট ম্যাগাজিনের সেরা তরুণ উদ্যোক্তা পুরস্কার। কিন্তু সুমাইয়ার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প বেশ কয়েক বছর আগে থেকে। তখন ২০০৫ সাল। সুমাইয়া সবে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে মার্কেটিং অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং বিষয়ে উচ্চতর পড়ালেখা শেষ করে যোগ দিয়েছেন সানমাইক্রোসিস্টেমে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে। পাশাপাশি শুরু করেছেন ‘কালচারাল কানেক্ট ডট কম’ (টিসিসিসি) নামের একটি অনলাইন মিডিয়া প্রতিষ্ঠার কাজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি প্রকাশ করতে শুরু করেন সাপ্তাহিক ‘দ্য দেশি কানেক্ট’, ‘দ্য মিডলইস্ট কানেক্ট’, ‘দ্য লাতিন কানেক্ট’, ‘দি এশিয়া কানেক্ট’ ও ‘দি আফ্রিকান কানেক্ট’ নামের পাঁচটি অনলাইন ম্যাগাজিন। সময় গড়ায় আর সুমাইয়ার এ ম্যাগাজিনগুলোর জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব ম্যাগাজিনের রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার।
তবে এর মাঝেই সীমায়িত নয় সুমাইয়ার জগৎ। নিজের কর্মজগৎ বিস্তৃত করতে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুমাজি ডট কম’ (www.sumazi.com)
নামের আরেকটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক মূলত সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করে। অল্প সময়ের মধ্যে এই ওয়েবসাইট এতই জনপ্রিয় হয়েছে যে সুমাইয়াকে দুটি দেশের আটটি অঙ্গরাজ্যের ১৮ সিটিতে স্থাপন করতে হয়েছে আলাদা অফিস। ‘বাংলাদেশেও সুমাজি ডট কমের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইচ্ছা আছে আমার। আশা করছি, এর মাধ্যমে অলাভজনকভাবে শিক্ষা, দুর্যোগ, চাকরিপ্রাপ্তি ও বিভিন্ন পরামর্শের ক্ষেত্রে উপকৃত হবে অনেকেই।’ ইউনাইটেড নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন সুমাইয়া।
শুরু থেকেই নিজের কাজের ওপর আস্থা থাকায় নিজের দলের সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পেরেছেন সুমাইয়া। টেকক্রান্সের একটি কাজ দ্রুত এবং দারুণভাবে সম্পন্ন করার পর পেয়ে যান নিউজ এজেন্সি অমিদইয়ার নেটওয়ার্ক অ্যাওয়ার্ড। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ইকোনমিক ফোরামে আমন্ত্রিত হয়ে নারী উদ্যোক্তা বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি। এসব কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে মানবাধিকার, পরিবেশ, শিক্ষা, রক্তদানসহ নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গেও যুক্ত আছেন প্রায় ১০ বছর ধরে। প্রতি সপ্তাহে একদল উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসার আইডিয়ার বিষয়ে দিচ্ছেন পরামর্শ। এক সময়ে চাকরি করা প্রতিষ্ঠান সান মাইক্রোসিস্টেম সুমাইয়াকে ‘সারা বিশ্বের সেরা ২৫ স্বেচ্ছাসেবক’ তালিকার একজন নির্বাচিত করে। নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার শুরুতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তিনজন কর্মী, যা বর্তমানে অর্ধশতাধিক হয়েছে। এখন স্বপ্ন দেখছেন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।
২.
সুমাইয়া কাজির পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলায়। তবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। তবে কর্মসূত্রে এখন বসবাস করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে। বাবা ড. নিজাম উদ্দিন কাজি, মা মেরিনা কাজি। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সুমাইয়ার অবস্থান শীর্ষে। এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি সুমাইয়া। অবসর কাটে কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কাজই আমার অবসর।’ আর কাজের প্রয়োজনেই ইতিমধ্যে আটবার বাংলাদেশে পা রেখেছেন সুমাইয়া। সর্বশেষ এসেছেন বছর দুয়েক আগে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
‘আগামী দু-এক বছরের মধ্যে আবারও বাংলাদেশে আসব আমি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলব এ দেশের নারীদের সঙ্গে। তাদের আমার কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করতে চাই।’ বলেছেন সুমাইয়া কাজি ইউনাইটেড নিউজ টোয়েনটি ফোর ডট কমকে।
....জানলেন তো সুমাইয়া কাজিকে। এবার গলা ফাটিয়ে বলুন ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)





